মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানি হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, এই অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সুবিধা, উপকূলীয় নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভোরের দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে এ হামলা চালানো হয়। সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতি ইরান ও তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর তৈরি করা হুমকি কমাতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৮ জুলাই ইরান থেকে আইআরজিসি মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি অতর্কিত হামলার অংশ হিসেবে একাধিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই চেষ্টার জবাব হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক আক্রমণ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। একের পর এক পাল্টা হামলার কারণে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মার্কিন বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কেশম দ্বীপে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একদিকে ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
সম্প্রতি মিসরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে এই বড় আকারের হামলাটি চালায় মার্কিন বাহিনী।
এর আগে বুধবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কঠিন’ জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা তাদের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানব। তারা এবার এক চরম শিক্ষা পেতে যাচ্ছে। তিনি নিজের বক্তব্যের গুরুত্ব বোঝাতে একটি কটু বাক্যও ব্যবহার করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, সম্প্রতি ইরাকের অভ্যন্তরে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর মার্কিন ও সৌদি যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, বাগদাদ সরকার প্রকাশ্যে এই হামলার নিন্দা জানালেও প্রকৃতপক্ষে তা ইরাকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই চালানো হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

উপসাগরীয় অঞ্চলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা প্রভাব কি বাড়ছে
বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ ও মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম
ব্যারিকেড ভেঙে ভোপালে ২০০০ কৃষক, যোগ দিলো জেন-জিরাও






