মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের অভিযান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে বিচারপ্রক্রিয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আইসিসির তদন্তের মূল লক্ষ্য তিনি নন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্ত্রীদের আইসিসি থেকে দেশগুলোকে বেরিয়ে আসতে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেন।
রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা অভিযানের পর পাঁচটি দেশ আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসনের পদক্ষেপ ব্যক্তিগতভাবে তাকে রক্ষা করার জন্য নয়। তিনি বলেন, তারা আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছে এমন কোনও তথ্য নেই।
ট্রাম্প আরও বলেন, এটি ঘটতে পারে, তবে জেনে রাখুন রুবিও আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন না। তিনি বিবিকে (নেতানিয়াহুর পরিচিত ডাকনাম) এবং আরও বিভিন্ন ব্যক্তিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
কেন নেতানিয়াহুকে রক্ষা করছে যুক্তরাষ্ট্র?
মার্কো রুবিও বলেছেন, আইসিসির বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের বিষয়টি শুধু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার দাবি, ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক সদস্যরাও আইসিসির বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।
রুবিও বলেন, মার্কিন সেনারা সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কয়েক বছর পরও আইসিসির আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন। এ কারণে আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
কেন আইসিসিকে লক্ষ্য করছে যুক্তরাষ্ট্র?
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করে। কোনও দেশের নিজস্ব কর্তৃপক্ষ এসব অপরাধের বিচার করতে না পারলে বা আগ্রহী না হলে আইসিসি এ বিষয়ে এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির সমালোচনা জোরদার করেছে। গাজা সংঘাতের সময় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর আদালতের বিরোধিতা আরও তীব্র হয়।
চলতি মাসের শুরুতে রুবিও আইসিসির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, অভিবাসী বহিষ্কার এবং সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অভিযানের মতো বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে কিছু গোষ্ঠী।
আইসিসিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা
আইসিসিকে দুর্বল করার কৌশলের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা দেশগুলোকে আদালত থেকে বেরিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি আদালতের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও জানিয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপ ইতোমধ্যে আইসিসির বিচারক ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান-স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের
ফুরাচ্ছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মজুত, উদ্বেগে পেন্টাগন
সেউতা সম্পর্কে যা জানা গেলো







