শিক্ষক ধর্ষণ করেছে বলার পর মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হলো ছাত্রকে

রাজশাহী প্রতিনিধি
১৩ আগস্ট ২০২৬, ২২:৪৮ আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৭

রাজশাহীর কাটাখালীর বেলঘরিয়া এলাকায় তালিমুল কুরআন হাফেজিয়া কওমি বালক-বালিকা মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আবদুর রউফের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, ঘটনাটি জানানোর পর মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেন ভুক্তভোগী ছাত্রকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছেন। এখন আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাদের ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবার জানায়, ওই ছাত্রকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক আবদুর রউফ প্রায় রাতেই যৌন নির্যাতন করতেন। বাধা দিলে মারধর করা হতো এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।

ভুক্তভোগী ছাত্রের মায়ের ভাষ্য, মে মাসের শেষের দিকে ধর্ষণের কারণে তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বাড়িতে গিয়ে মাকে সব কিছু জানায়। এরপর তিনি মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেনকে বিষয়টি জানান। তখন তিনি ঘটনাটি আর কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন। পরে শিক্ষক আবদুর রউফকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি তার ছেলেকে আবার ওই মাদ্রাসায় পাঠান। কয়েক দিন পর থেকে মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেন ও তার স্ত্রী মীম খাতুন শিশুটির সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। কয়েক দিন আগে চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন পরিচালক।

ভুক্তভোগী শিশুর মা বলেন, ‌‘ছেলেকে পরে অন্য একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। আমি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে চাই। কিন্তু পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের লোকজন বাড়িতে এসে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন বাড়িতে এসে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।’

পেশায় অটোরিকশাচালক শিশুটির বাবা বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা আমাকে ভয় দেখিয়েছেন, এ ঘটনায় কোনও মামলা করা যাবে না। মামলা করলে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হবে এবং অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হলে পা ভেঙে দেওয়া হবে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক আবদুর রউফের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

মাদ্রাসার পরিচালক আলমগীর হোসেন এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। এ জন্য তিনি ৫০ হাজার টাকাও দিতে চান। তার এই বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, ‘ঘটনাটি প্রথম থেকেই জানি আমি। ওই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এলাকার লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হয়েছিলেন। খবর পেয়ে আমিও সেখানে যাই। তবে তখন কেউ আমার কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেননি।’

ওসি সুমন কাদেরী বলেন, ‘এখন মাদ্রাসা থেকে ছাত্রটিকে বের করে দেওয়ার পর নতুন করে অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে। আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল, তদন্ত ছাড়া এখন বলা যাচ্ছে না।’

/এএম/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের শিকার ৪৯ নারী-কন্যা, ৫২ জনকে হত্যা
শারীরিক প্রতিবন্ধী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের মামলায় সেই গৃহকর্তা কারাগারে 
ধানম‌ন্ডি‌তে গৃহকর্মী‌কে নির্যাতন-ধর্ষণের অ‌ভি‌যোগে ২ জন গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
দুই মন্দিরে চুরির ঘটনায় চার জন গ্রেফতার 
সরকারি দায়িত্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা, মাঠের শূন্যতা পূরণ হবে কীভাবে
সরকারি দায়িত্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা, মাঠের শূন্যতা পূরণ হবে কীভাবে
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
বাংলামোটরে চাঁদার দাবিতে উত্তেজনা, মাথায় আঘাতের পর ফাঁকা গুলি
বাংলামোটরে চাঁদার দাবিতে উত্তেজনা, মাথায় আঘাতের পর ফাঁকা গুলি
সর্বাধিক পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি