সরকারি অফিসের উপসচিবের সই জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার অভিযোগে মো. বাবলু কাজী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ। পুলিশের দাবি, ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে তিনি জড়িত।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সরকারি সিলযুক্ত ও জাল সই করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি ওয়ারী বিভাগের বরাত দিয়ে শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেফতার বাবলু কাজী সহযোগীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে উপসচিবের সই জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে আসছিলেন।
পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার বাসিন্দা মো. সবুজ সরকারের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী ও সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণা করত। সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি এমন সরকারি অফিসগুলোকে তারা টার্গেট করত। চক্রের একজন সদস্য নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যরা চালক বা অফিস সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সরকারি অফিসে ঘোরাফেরা করত। এতে চাকরিপ্রার্থীদের সহজেই বিশ্বাস অর্জন করতে পারত তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চাকরিপ্রার্থীদের বলা হতো কোনও পরীক্ষা ছাড়াই তাদের সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। এমনকি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হতো।
বিশ্বাস অর্জনের পর ভুক্তভোগীদের হাতে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন তুলে দেওয়া হতো। এরপর তাদের নকল হাজিরা খাতায় সই করানো হতো। প্রথম এক থেকে দুই মাস চক্রের সদস্যরা নিজেদের পকেট থেকে কিছু টাকা ‘বেতন’ হসেবেও দিতেন। এতে ভুক্তভোগীদের কাছে চাকরির বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠত।
পরে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী।









