গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও যুদ্ধ কমে যাওয়ার আশায় মধ্যপ্রাচ্যে জোর তৎপরতা শুরু করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে ৭ আগস্টের এক মার্কিন কংগ্রেসনাল রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের কট্টরপন্থি নেতৃত্ব ওই চুক্তিকে কেবল একটি ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে গ্রহণ করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের কট্টরপন্থিরা এই সমঝোতাকে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং বড় ধরনের হামলার জন্য সময় আদায়ের একটি মার্কিন-ইসরায়েলি কৌশল হিসেবে মনে করেছিল। ফলে সমঝোতা পরবর্তী দুই মাস তারা আরও বড় আকারের সংঘাত ও উত্তেজনার প্রস্তুতিতেই ব্যয় করেছে।
ট্রাম্পের হস্তাক্ষরিত ওই চুক্তিতে উভয়পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে ও স্থায়ী বন্ধের’ ঘোষণা দিয়েছিল। চুক্তির আওতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে রাজি হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া ও ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল প্রণালিটি উন্মুক্ত করে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনা।
তবে চুক্তির পর দ্রুতই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। জুলাইয়ের শুরুতেই লড়াই পুনরায় শুরু হয় এবং জুলাইয়ের মাঝামাঝি উভয়পক্ষ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা চালালে ইরান তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্থগিত করে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করে তেহরান হরমুজ প্রণালির প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান সমঝোতার এই ৬০ দিনের সময়সীমা আলোচনার কাজে ব্যবহার না করে বরং নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়ার কাজে লাগিয়েছে। এ সময় ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) সেনাবাহিনীর ওপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধে অভিজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো হয় এবং লোহিত সাগর অভিমুখে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চার মোতায়েন করে।
অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানের আইআরজিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে জানান, এতদিন তাদের পদক্ষেপ ‘রক্ষণাত্মক’ থাকলেও এখন তা ‘আক্রমণাত্মক’ হতে পারে এবং বিরোধীদের জন্য ‘কৌশলগত বিস্ময়’ অপেক্ষা করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থিদের মতে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখাই ওয়াশিংটনকে শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করার প্রধান কৌশল। ফলে ১৭ আগস্টের মধ্যে সমঝোতার ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত রফা হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করলেও তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটনকে আগের চুক্তিতে ফিরে এসে বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।
এদিকে ১৯৮০-এর দশকের মতো মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালি চালু রাখার বিষয়েও মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিবেদনে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০-এর দশকে ইরানের অবস্থান এমন ছিল না, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত চেয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌ এসকর্ট দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের মতো স্বাভাবিক করা সম্ভব নাও হতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ

মার্কিন সেনা ধরলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার, নারীদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ: ইরান
‘ইরানে পারমাণবিক হামলার ছক কষছে ট্রাম্প প্রশাসন’







