মার্কিন সেনা ধরলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার, নারীদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৫ আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন কোনও সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, কোনও নারী যদি এই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন তবে পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করা হবে। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এ খবর জানিয়েছে। 

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র বরাতে সেনাপ্রধান জানান, সাধারণ মানুষের বিপুল আগ্রহ ও অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের সম্ভাব্য হামলা বা বন্দি করার সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময়সীমা স্পষ্ট করেননি তিনি।

হাতামি বলেন, যে ব্যক্তি কোনও আক্রমণকারী মার্কিন সামরিক সদস্যকে হত্যা করবে বা বন্দি করে হস্তান্তর করবে, তাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৫ বিলিয়ন তোমান (ইরানের অপ্রাতিষ্ঠানিক মুদ্রা, যা ১০ হাজার রিয়ালের সমতুল্য) পুরস্কার দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনও সাহসী ইরানি নারী যদি এই কাজ পরিচালনা করেন, তবে তিনি দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।

অঞ্চলটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারে তেহরানের দীর্ঘদিনের দাবির পুনরাবৃত্তি করে হাতামি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করার কোনও অনুমতি তাদের আর নেই।

তবে সংঘাত চলাকালে ইরানের ভেতরে মার্কিন স্থলবাহিনীর উপস্থিতির কোনও তথ্য জানা যায়নি। এর ব্যতিক্রম ছিল এপ্রিলের একটি বড় উদ্ধার অভিযান। ওই অভিযানে প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা এবং ১৭০টির বেশি বিমান অংশ নেয়। একটি বিধ্বস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে উদ্ধারে ওই অভিযান চালানো হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে লড়াই থামে। এরপর জুনে শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য একটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে সবশেষ হতাহতের ঘটনা ঘটে জুলাইয়ে। এই সেনা নিহতের ঘটনাগুলোর সবই ঘটেছে ইরান ভূখণ্ডের বাইরে,  যার মধ্যে জর্ডান ও ইরাক রয়েছে।

/এএস/এমওএফ/ 
সম্পর্কিত
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রার্থী ‘ট্রাম্প’, ‘ওবামা’, কেন জানেন?
যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে আরও কঠোর জবাবে প্রস্তুত ইরান, অনিশ্চিত কূটনীতি
সর্বশেষ খবর
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
বাংলামোটরে চাঁদার দাবিতে উত্তেজনা, মাথায় আঘাতের পর ফাঁকা গুলি
বাংলামোটরে চাঁদার দাবিতে উত্তেজনা, মাথায় আঘাতের পর ফাঁকা গুলি
বিমানবন্দরে জামায়াত এমপিদের ‘তুলকালাম কাণ্ড’
বিমানবন্দরে জামায়াত এমপিদের ‘তুলকালাম কাণ্ড’
শেখ হাসিনার সেই দায়িত্ব রুমিন ফারহানা কাঁধে নিয়েছেন, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে: নাদিয়া পাঠান
শেখ হাসিনার সেই দায়িত্ব রুমিন ফারহানা কাঁধে নিয়েছেন, অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে: নাদিয়া পাঠান
সর্বাধিক পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি