২০২৬ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতার পরই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে পিছু নেয় তারই স্বদেশী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যানসিটি তারকা রিয়ালকে প্রায় ‘হ্যাঁ’ বলেই ফেলছেন, তখনই দৃশ্যপটে আসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। এরপর পাল্টে যায় হিসাব। রিয়াল মাদ্রিদকে না করে দিয়েই বার্সেলোনায় যোগ দেন রদ্রি। তবে তার কাতালান ক্লাবে যোগ দেওয়ার পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন স্পেনেরই সাবেক এক তারকা। রদ্রি নিজেই এই গোপন কথা এবার সামনে আনলেন।
রদ্রির বার্সেলোনায় যোগদানের পেছনে ছিলেন মূলত স্প্যানিশ ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটস। তাদের দুই জনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কই মূলত এই ট্রান্সফারটা সম্ভব করেছে।
স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার জানান, ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি বুসকেটসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং পেপ গার্দিওলার অধীনে খেলার বিষয়ে তার পরামর্শ চেয়েছিলেন। বছরের পর বছর পর, রদ্রি নিজের সাবেক মিডফিল্ড অনুপ্রেরণাকে অনুসরণ করে একই পথে হেঁটে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন।
দুই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মধ্যে এই যোগাযোগের সূত্রপাত রদ্রির ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর আগে থেকেই। বুসকেটস ততদিনে বার্সেলোনায় গার্দিওলার অধীনে খেলে ফেলেছিলেন এবং কোচের ফুটবলের ধরন খুব ভালোভাবে বুঝতেন। ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়ার আগে রদ্রি তাই তার কাছেই দিকনির্দেশনা চেয়েছিলেন।
সেই সিদ্ধান্তটি রদ্রির ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছিল।
সিটি-তে থাকাকালীন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। রদ্রি গার্দিওলার দলের এক অপরিহার্য অংশে পরিণত হন এবং ক্লাবের সাফল্যে বড় ভূমিকা পালন করেন। তার এই ব্যক্তিগত উত্থানের মাঝেই তিনি ব্যালন ডি’অর জয় করেন এবং স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন।
এখন, রদ্রি বার্সেলোনায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। এই দলবদলটি জীবনের এক অদ্ভুত পূর্ণতার মুহূর্ত তৈরি করেছে।
বুসকেটস বহু বছর বার্সেলোনোর মিডফিল্ডের কাণ্ডারী হিসেবে কাটানোর পর ক্লাব ছেড়েছিলেন। তিনি এখন বার্সা ‘বি’ দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ, আর অন্যদিকে রদ্রি প্রথম দলে এসে মিডফিল্ডের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রদ্রির জন্য বার্সেলোনাকে ৬৫.৪ মিলিয়ন পাউন্ড (৮৮.৪৭ মিলিয়ন ডলার) খরচ করতে হয়েছে।








