সিন্ধু পানিচুক্তি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে এবং ভারতকে চুক্তির আওতায় তার দায়বদ্ধতা মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিসি আদালত। একই সঙ্গে ভারত কর্তৃক চুক্তিটিকে ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তকে চুক্তিটি স্থগিতের পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করে আদালত জানায়, কোনও একপক্ষের একতরফাভাবে এই চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করার সুযোগ নেই।
এছাড়া, জম্মু ও কাশ্মীরের চেনাব নদীতে নির্মাণাধীন রাতলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশার কিছু নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে সীমিত রাখার জন্যও ভারতকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে ২০২৩ সালে পাকিস্তানের অনুরোধে গঠিত এই আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতকে শুরু থেকেই স্বীকৃতি দেয় না ভারত। ভারত কখনোই আদালতের কোনও শুনানিতে অংশ নেয়নি এবং আদালতের এই রায়কে ‘অবৈধ ও বাতিল’ বলে বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তানের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ আগস্ট আদালত দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ঘোষণা দিয়েছিল, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্তভাবে বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত থাকবে। সালিসি আদালত পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত জানায়, চুক্তি অনুযায়ী ভারত একতরফাভাবে এটি বন্ধ বা স্থগিত রাখতে পারে না। ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে কোনও নতুন চুক্তির মাধ্যমে সংশোধন বা বাতিল না করা পর্যন্ত এটি পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। সার্বভৌমত্ব, সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা সশস্ত্র সংঘাতের মতো কোনও যুক্তিতেই চুক্তি স্থগিত রাখা বৈধ নয়।
চেনাব নদীর ওপর নির্মাণাধীন রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কিছু নকশা চুক্তির খেলাপ বলে অভিযোগ করে পাকিস্তান। এই আপত্তির বিষয়ে আদালত নির্দেশ দেয়, রাতলে বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশের কাঠামোর নির্দিষ্ট উচ্চতার ওপর যেন ভারত কনক্রিট ঢালাইয়ের কাজ না করে এবং নির্মাণের সময়সূচির কোনও পরিবর্তন হলে তা রিপোর্ট করে।
ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, এই সালিসি আদালতটিই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গঠিত হয়েছে। ভারত বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে ছিল। তবে চুক্তি স্থগিতের পর সেই প্রক্রিয়াও থেমে যায়। ২০২৬ সালের মে মাসে আদালতের এক রায়ের পর ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা এই আদালতকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি এবং এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’।
পহেলগাম ঘটনার আগেও ভারত ১৯৫০-এর দশকে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি সংশোধনের জন্য বারবার পাকিস্তানের কাছে দাবি জানিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও দিল্লি তার কঠোর অবস্থান বজায় রেখে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ‘রক্ত এবং পানি একসাথে বইতে পারে না’। অন্যদিকে, ভারত চুক্তি স্থগিত করায় উদ্বিগ্ন পাকিস্তান বিষয়টি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরে ভারতকে ‘আগ্রাসী’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করে আসছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ইরান এক লাখ বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে, দাবি ট্রাম্পের
পশ্চিমা চাপ সামলাতে চীনেই ভরসা রাশিয়া ও ইরানের







