মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের আটকে রাখতে না পারার কারণ জানালেন আইজিপি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, আইনের ফাঁকফোকরের কারণে মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের অনেক সময় দীর্ঘদিন কারাগারে রাখা সম্ভব হয় না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশপ্রধান বলেন, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়। তবে আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘদিন আটক রাখা যায় না। পরে তারা আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

আইজিপি বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। প্রত্যেক মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি। তারা আবার বের হয়ে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আইজিপি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা নামে তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় এগুলোকে এনার্জি ট্যাবলেট বা অন্য কোনও আকর্ষণীয় নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের সন্তানদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

মাদকাসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, একজন সন্তান মাদকে জড়িয়ে পড়লে শুধু তার নিজের জীবনই নষ্ট হয় না, পুরো পরিবারকে এর খেসারত দিতে হয়। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় এমন ঘটনাও দেখেছি, যেখানে মাদকের টাকা না দেওয়ায় সন্তান নিজের বাবাকেই মারধর করে আহত করেছে।

মো. আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশকে জনবান্ধব ও জনগণমুখী পুলিশিং করতে হবে। তবে পুলিশকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের পুলিশিং হবে পিপল ওরিয়েন্টেড। জনগণের প্রতি আমরা জনবান্ধব হবো। কিন্তু জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন। পুলিশ যদি কাজ করতে না পারে, তাহলে সমাজে কী ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তা আমরা দেখেছি।

অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, শুধু লোক দেখানো বা প্রচারের জন্য নয়, বাস্তবে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সড়কে চলাচলের নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, বিদেশে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের রাস্তা পারাপার ও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম শেখানো হয়। বাংলাদেশেও শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকে এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

‘আমার শহর, আমার দেশ-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ কর্মসূচিকে সরকারের পরিকল্পনার অংশ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও পুলিশ ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা শহর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি মাইলফলক। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং পুরো ঢাকা শহরে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশ ও কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে আজকের যে ক্যাম্পেইনটি শুরু হলো, আমি বিশ্বাস করি এই ক্যাম্পেইনটি ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়বে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগের জন্য কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই এত সুন্দর একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশ ভালো রাখতে হলে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা কোনও বিষয়ে গুরুত্ব দিলে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একইভাবে নগরবাসীও যদি ঢাকাকে নিজের শহর মনে করে ভালোবাসে, তাহলে শহরের পরিবর্তনও সম্ভব।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বদলাতে হলে আগে আমাদের নিজেদের বদলাতে হবে। আমি যদি অন্তর দিয়ে ঢাকাকে ভালোবাসি, তাহলে আমার ঘরের মতো শহরকেও পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখার চেষ্টা কবরো। এই দেশটা আমার, এই শহরটা আমার-আমি যদি না বদলাই, তাহলে শহর বদলাবে না।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা কোনোভাবেই সুখকর নয়। তাই নগরবাসীকে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার পাশাপাশি নিজেদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

নগরবাসীর মধ্যে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা তৈরি করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি জানান, স্কুলশিক্ষার্থীদের ঢাকার ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে পারবে এবং শহরের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা বাড়বে।

অনুষ্ঠান শেষে ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি নিম গাছ রোপণ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের এমডি পরিচালক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসএনকে/আরকে/
সম্পর্কিত
পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকের আসর, আটক ৮৪
আওয়ামী লীগকে ‘পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চোরের দল’ বললেন স্পিকার
পূজা নিয়ে কেউ কেউ অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে, পুলিশ সজাগ রয়েছে: আইজিপি
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ৯ নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরি, থানায় জিডি
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ৯ নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরি, থানায় জিডি
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: রিসোর্টের মালিক দুজন, আসামি কেন একজন?
কক্সবাজারে ১০ পর্যটকের মৃত্যু: রিসোর্টের মালিক দুজন, আসামি কেন একজন?
মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য কনস্টেবল, যেভাবে ধরা পড়লেন
মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য কনস্টেবল, যেভাবে ধরা পড়লেন
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন