ইনস্টাগ্রাম রিল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে জালনোট তৈরির অভিযোগে ভারতের গুজরাটের রাজকোটের এক সবজি বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজকোট সিটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) যৌথ অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার মুদ্রণ সরঞ্জাম এবং দুইশতের বেশি জালনোট জব্দ করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
রাজকোটের ডিসিপি (ক্রাইম) জগদীশ বাঙ্গারওয়া জানান, অভিযুক্ত কিষাণ সোলাঙ্কি শহরের মানদাদুঙ্গার এলাকার নিজের বাসায় ১০০ ও ৫০০ রুপি মূল্যের জালনোট ছাপছিলেন। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও এসওজির একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সোলাঙ্কিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তার বাসা থেকে ২১৬টি ১০০ রুপির জালনোট এবং তিনটি ৫০০ রুপির জালনোট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সেখান থেকে একটি সিপিইউ, মনিটর, দুটি প্রিন্টার, একটি ল্যামিনেটর-হিটার মেশিন, বাটার পেপার এবং ১০০ টাকার নোট প্রিন্ট করা কাগজ জব্দ করে। জব্দ করা এসব সরঞ্জামের মোট মূল্য আনুমানিক ৬৫ হাজার ৫০০ রুপি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোলাঙ্কি পুলিশকে জানান, তিনি পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা এবং কম আয়ের কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ইনস্টাগ্রাম স্ক্রোল করার সময় ১০০ ও ৫০০ রুপির জালনোট তৈরির একটি রিল তার নজরে আসে। এরপর তিনি ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে টেলিগ্রামের মাধ্যমে তার সঙ্গে কথা বলেন। টেলিগ্রাম চ্যাটের মাধ্যমেই তিনি জালনোট ছাপার পুরো প্রক্রিয়াটি শিখেছিলেন বলে পুলিশ জানায়।
অভিযুক্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি প্রশিক্ষণদাতাকে ১০ হাজার টাকার জালনোট দিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে ওই ব্যক্তি তাকে ৩ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পুলিশ বর্তমানে এই ঘটনার প্রশিক্ষণদাতা ও তার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।
তদন্তে জানা গেছে, সোলাঙ্কি পাইকারিতে এই জালনোট বিক্রি করতেন না। বরং তিনি নিজেই বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো কেনাকাটা করার সময় এই নোটগুলো চালিয়ে দিতেন। গত চার থেকে পাঁচ মাসে তিনি প্রায় ৪০টি ১০০ রুপির জালনোট বাজারে ছড়িয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি সমাপ্ত জন্মাষ্টমীর মেলায় ছোট কেনাকাটার ছলে তিনি এই জাল নোটগুলো ব্যবহার করেছিলেন। ছোট লেনদেনে বিক্রেতারা সাধারণত কম নজর দেন বলেই তিনি ১০০ টাকার নোট বেছে নিয়েছিলেন বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
একটি আদালত অভিযুক্তকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তিনি মোট কতগুলো জালনোট প্রিন্ট ও বাজারে ছড়িয়েছেন, সরঞ্জামের উৎস কোথায় এবং তার প্রশিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া এই জালনোটের কারবারে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং তার চালানো নোটগুলো রাজকোটের অন্য কোথাও পৌঁছেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
প্রাণ বাঁচিয়ে ‘হিরো’ ভারতীয় পাইলট, প্রশংসায় ভাসালেন নেতানিয়াহু-মোদি