যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালে আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার রাখলেও তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকেরা।
তিনজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অবস্থিত মার্কিন সম্পদ ও মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী দেশগুলোতেও লক্ষ্যবস্তু বিস্তৃত করার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন শীর্ষ কমান্ডাররা। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউ ইয়র্ক থেকে ফেরার পর এই প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ইরান বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি বলেন, প্রতীকী কোনও পদক্ষেপে তারা আর প্রতীকী জবাব দেবে না; বরং প্রতিরোধ গড়ে তোলার আশায় সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেবে।
জানা গেছে, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান, যাতে হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে পুরো অঞ্চল ও তার বাইরে সমন্বিত জবাব দেওয়া যায়।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির জন্য সাত দিনের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, যার মধ্যে বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পত্তি মুক্ত করা ও তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানালেও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি জবাব তেহরানে পৌঁছেছে।
তবে ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যু যুক্ত করতে চাইলেও ইরান শর্ত পূরণের আগে তাতে রাজি নয়। এক কর্মকর্তা বলেন, পরোক্ষ আলোচনা চললেও উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি হওয়া খুবই অসম্ভব।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, মার্কিন অর্থনৈতিক অবরুদ্ধ অবস্থা ধরে রাখা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়, যা সরকারের অস্তিত্বের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
দীর্ঘ সাত মাসের এই যুদ্ধে একদিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে সামরিক চাপ ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। এতে ইরানে আবার জানুয়ারি মাসের মতো ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সাবেক এক সংস্কারপন্থি কর্মকর্তা।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধ চলাকালে দেশটিতে দমন-পীড়ন জোরদার করা হয়েছে এবং মে মাসের পর থেকে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
তাইওয়ানে চীনের আক্রমণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাভাসে কী বলা হয়েছে