১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমা দিয়ে নানা পাটেকারের অভিনয় জীবনের সূচনা। আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকার। তবে নানা নামেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। মূলত হিন্দি ও মারাঠি সিনেমায় চুটিয়ে কাজ করেছেন। দর্শকদের দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী সিনেমা। যার অনেকগুলোই বক্স অফিস কালেকশন বা হলের আয় দিয়ে মূল্যায়ন করা যাবে না। সেই নানা বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে ভারতের গোয়ার নিজ ফ্ল্যাটে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। চিকিৎসক এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়েও আর জ্ঞান ফেরাতে পারেনি। ভক্তদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বলিউডের গুণী এই অভিনেতা।
নানা পাটেকারের অভিনয় মানে শুধু তীব্রতা নয়। তার অভিনয়ের নিজস্ব অভিধানে ছিল গলার স্বরের ওঠানামা, চোখের স্থির দৃষ্টি, শরীরী ভাষা ও সংলাপ উচ্চারণের এক স্বতন্ত্র ছন্দ। সেই অভিনয় ভাষাই কখনও চরিত্রকে করে তুলেছে ভয়ঙ্কর, কখনও অসহায়, কখনও আবার নিখাদ হাসির উৎস।
‘পরিন্দা’-য় আন্নার চরিত্রে তার অভিনয়ে হিংস্রতা ও মানসিক অস্থিরতার যে মিশ্রণ দেখা যায়, তা তাকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ারের সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার। ‘ক্রান্তিবীর’-এ প্রতাপনারায়ণ তিলকের চরিত্রে তার ক্রোধ, ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের বিস্ফোরণ তাকে দেয় সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার।
‘অগ্নিসাক্ষী’-তে মানসিকভাবে বিপজ্জনক এক স্বামীর চরিত্রে আবারও তার অভিনয় জাতীয় স্বীকৃতি পায়।
কিন্তু নানার অভিনয় যে শুধু ক্রোধ ও অন্ধকারে আটকে নেই, তার প্রমাণ ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’। শ্রবণ ও বাকশক্তিহীন মেয়ের বাবার চরিত্রে সংলাপের চেয়ে মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরী ভাষাই হয়ে ওঠে তার প্রধান অস্ত্র।
‘আব তক ছাপ্পান’-এর সদু আগাশে এবং ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেট্টি—দুই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর চরিত্রেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। আর ‘নটসম্রাট’-এ গণপত বেলভালকরের ভূমিকায় এসে নানা পাটেকার যেন নিজের অভিনয় ক্ষমতার শেষ সীমানাটাই ছুঁয়ে ফেলেন। এখানে তার শক্তি সংলাপের উচ্চারণে নয়, বরং সংলাপের পরের নীরবতায়। অহংকার যখন ধীরে ধীরে অসহায়তায় বদলে যায়, স্মৃতি যখন বর্তমানকে গ্রাস করে, তখন তার মুখটাই হয়ে ওঠে চরিত্রের মঞ্চ।