ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই মিসিসিপির একটি আবাসিক এলাকায় তাদের ডেটা সেন্টারের কাছে ৪১৮টি পর্যন্ত বাড়ি কিনতে চাইছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রস্তাবের সঙ্গে একটি শর্ত আছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছাকাছি বিদ্যুৎকেন্দ্রের শব্দ নিয়ে করা মামলায় বাড়ির মালিকদের যোগ দেওয়া যাবে না।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসিসিপির সাউথাভেনের কলোনিয়াল হিলস এলাকায় এক্সএআইয়ের পক্ষে রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক রিয়েলটর এক বাসিন্দাকে জানান, প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ৪১৮টি বাড়ি। প্রতিষ্ঠানটি এসব সংখ্যা বা এলাকা নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেনি। তবে ডিসোটো কাউন্টির নথিতে দেখা যায়, ৯ অক্টোবর থেকে এক্সএআইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমজেডএক্স পাঁচটি বাড়ি কিনেছে।
ডেটা সেন্টারের কাছে কেন বাড়ি কিনছে এক্সএআই
মেমফিস ও সাউথাভেন এলাকায় এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের মধ্যেই এ বাড়ি কেনার প্রস্তাব এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটি কলোসাস ওয়ান, কলোসাস টু ও ম্যাক্রোহার্ড নামে তিনটি ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে। এগুলো গ্রক এআই চ্যাটবট তৈরির জন্য।
বাড়িগুলো এক্সএআইয়ের কর্মীদের আবাসনের কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাউথাভেনের মেয়র ড্যারেন মাসেলহোয়াইট বলেন, কর্মীদের আবাসন এবং আশপাশের শিল্প উন্নয়নে অসন্তুষ্ট বাসিন্দাদের সহায়তাসহ একাধিক উদ্দেশ্যে এ কেনাকাটা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বাড়ি কেনা এই মুহূর্তে কোম্পানি শহর গড়ার উদ্দেশ্যে নয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের শব্দে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা
এ সম্প্রসারণের বিরোধিতা করছেন কিছু স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের অভিযোগ, ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ জোগানো গ্যাস টারবাইন থেকে একটানা শব্দ হয়। সাইট থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে থাকা পিয়ানো শিক্ষক এলিজাবেথ রোজ বলেন, শব্দটা বিমানের ইঞ্জিনের মতো, কিন্তু তা একটানা, অবিশ্বাস্য রকম জোরালো।
এ বছরের জুনে তিনজন বাসিন্দা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে প্রায় অবিরাম শব্দ, কম্পন ও অন্যান্য উপদ্রবমূলক ক্ষতির অভিযোগ এনে মামলা করেন। বাসিন্দাদের লেখা এক চিঠিতে এমজেডএক্স জানিয়েছে, বাড়ির মালিকেরা মামলায় যোগ না দিলে তারা কাছের সম্পত্তি কিনতে ইচ্ছুক। এক বাসিন্দা গ্যাভিন ফাউস্ট বলেন, এ শর্তের কারণে তিনি প্রস্তাব নেবেন না।
এক্সএআইয়ের বক্তব্য
শব্দ-সংক্রান্ত মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এক্সএআই। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা ভালো প্রতিবেশী হতে চায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন সমন্বয় ও শব্দ কমানোর দেয়াল নির্মাণের কথাও জানিয়েছে তারা। এ অঞ্চলে ডেটা সেন্টারের কার্যক্রম সম্প্রসারণ চলছে। প্রকল্পগুলোর আনা কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ এবং আশপাশের জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব নিয়ে বাসিন্দারা বিভক্ত।
অক্টোবরের শেষ দিনে ধাক্কা: ইন্টেল ও রেডিটের শেয়ারে বড় পতন
গুগল ফটোসে ছবি ইডিটের পর অন্য অ্যাপে খুঁজে না পাওয়া সমস্যার সমাধান