মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার কথা কেন ভাবছে সিরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৬ আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মক্কা প্যাক্টে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মূল্যায়ন করে দেখছে সিরিয়া। শনিবার বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মানামা সংলাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেশনে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেন, মক্কা জোটে সিরিয়ার যোগদানের বিষয়টি মূল্যায়ন করতে বর্তমানে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে দখলকৃত দক্ষিণ সিরিয়া নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে দরকষাকষির জন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সামরিক সমঝোতা বাড়াতে চাইছে দামেস্ক, যাতে আক্রমণের মুখে পড়লে তারা যৌথ চুক্তির ধারাগুলো সক্রিয় করার অধিকার পায়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সিরিয়াকে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে শাইবানি জানান, এই অঞ্চলে যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। গত ৭ আগস্ট তিন দেশের স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনও এক দেশের ওপর আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা নীতিগতভাবে ৩২ সদস্যের ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোর মতোই। শাইবানি সম্মেলনে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

তবে সিরিয়া রিপোর্ট-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামি আকিল জানান, আলোচনাগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে দামেস্ক চতুর্থ সদস্য হচ্ছে এমন সম্ভাবনা কম। তিনি মনে করেন, সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনার বিষয়টি মাথায় রেখেই দামেস্ক কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কও রিয়াদকে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদিও ইয়েমেনে তুর্কি সেনা পাঠানোর বিষয়টি তারা নাকচ করে দিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক অংশীদার হয়ে উঠেছে সৌদি আরব।

হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সৌদিতে পদাতিক সেনা পাঠানোর খবর এর আগে দামেস্ক অস্বীকার করেছে। সামি আকিল বলেন, সিরিয়া যদি এতে যুক্তও হয়, তাদের ভূমিকা পদাতিক বাহিনীর চেয়ে ১৯৯১ সালের অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম-এর মতো সহায়তামূলক ছোট কন্টিনজেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

অন্যদিকে শাইবানি জানান, দুই বছরেরও কম সময়ে সিরিয়ায় ১ হাজারটির বেশি ইসরায়েলি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। প্রতিদিন সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের মুখে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র কেবল রাষ্ট্রের অধীনে রাখার দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৪-এর পূর্ববর্তী অবস্থানে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও ১৯৭৪ সালের চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

/এএ/
সম্পর্কিত
আইএলআর নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: ১০ বছরের শর্তে বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি পরিবার
সিনচিয়াংয়ে জিরকন বালুর বিশাল মজুদের সন্ধান পেলো চীন
জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা: চালককে মোটা অঙ্কের জরিমানা
সর্বশেষ খবর
জেলহত্যা দিবস আজ  
জেলহত্যা দিবস আজ  
ছয় মাসে ১৩৪১ টাকার এলপিজি ২০৬০
ছয় মাসে ১৩৪১ টাকার এলপিজি ২০৬০
শ্রমিক আন্দোলন দমনে সেই পুরোনো পথেই পুলিশ?
শ্রমিক আন্দোলন দমনে সেই পুরোনো পথেই পুলিশ?
জামায়াত নেতার ভিডিও ভাইরালের পর রুকন পদ স্থগিত, বললেন ‘ভিডিওতে আমার স্ত্রী’
জামায়াত নেতার ভিডিও ভাইরালের পর রুকন পদ স্থগিত, বললেন ‘ভিডিওতে আমার স্ত্রী’
সর্বাধিক পঠিত
সিএনজি অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং
সিএনজি অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং
অনুর্বর জমিতে ৩০ দিনেই ফুটলো জাফরান, লাদাখে কৃষির নতুন সম্ভাবনা
অনুর্বর জমিতে ৩০ দিনেই ফুটলো জাফরান, লাদাখে কৃষির নতুন সম্ভাবনা
নিষেধাজ্ঞার সুফল কই, কেন এত কমলো ইলিশের উৎপাদন
নিষেধাজ্ঞার সুফল কই, কেন এত কমলো ইলিশের উৎপাদন
এক মাসের ব্যবধানে আবারও বাড়লো এলপিজির দাম
এক মাসের ব্যবধানে আবারও বাড়লো এলপিজির দাম
বরিশালে বাস ধর্মঘটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
বরিশালে বাস ধর্মঘটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা