ঘরের মাঠে খেলা, গ্যালারিতে সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন। তাই সব মিলিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের বাস্তব সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তবে শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এমন সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন কৌশলগত পরিকল্পনা, দলীয় শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা এবং চাপের মুহূর্তে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া। এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশ ফুটবলের সাবেক কোচ অস্কার ব্রুজন।
আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী এই স্প্যানিশ কোচ। তার মতে, ভারত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামা উচিত বাংলাদেশের। শুধু অংশগ্রহণ কিংবা সেমিফাইনালে ওঠার চিন্তায় আটকে থাকলে চলবে না।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সাফের শিরোপার জন্য লড়াই করার বাস্তব সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে। বিশেষ করে ঘরের মাঠে খেলা এবং আবেগপ্রবণ সমর্থকদের সমর্থন বড় সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।’
তবে ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি দলীয় সমন্বয় ও কৌশলগত শৃঙ্খলার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্রুজনের ভাষায়, ‘একটি টুর্নামেন্ট জিততে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে আরও বেশি কিছু প্রয়োজন। কৌশলগত সংগঠন, দলীয় শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপ সামলানোর সক্ষমতা খুবই জরুরি। ভারত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে বাংলাদেশের উচিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া।’
বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খুব কাছ থেকে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়েছিলেন ব্রুজন। শেষ মুহূর্তে বিতর্কিত লাল কার্ড ও পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙেছিল তার দলের। সেই স্মৃতি এখনো মনে রেখেছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
ব্রুজন বলেন, ‘আমরা ফাইনালে ওঠার খুব কাছাকাছি ছিলাম। শেষ মুহূর্তে বিতর্কিত লাল কার্ড ও প্রশ্নবিদ্ধ পেনাল্টির সিদ্ধান্তের কারণে পিছিয়ে পড়ি। হতাশা থাকলেও আমি মনে করি, আমরা খুব ভালো মানের ফুটবল খেলেছিলাম এবং টুর্নামেন্ট থেকে আরও বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য ছিলাম।’
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত করার অভিজ্ঞতাও স্মরণ করেছেন তিনি। ধারাবাহিক ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে যাওয়া দলকে অল্প সময়ে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার সেই অভিজ্ঞতা তার কাছে বিশেষ কিছু।
ব্রুজনের ভাষায়, ‘মাত্র ১০ দিন সময় পেয়েছিলাম এমন একটি দলকে প্রস্তুত করতে, যারা একের পর এক হতাশাজনক ফল করছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে আমরা দলকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অবস্থায় ফিরিয়েছিলাম। একটি পরিষ্কার খেলার ধরন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলাম এবং যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিলাম। সীমিত সময়ের মধ্যে আমরা যা অর্জন করেছিলাম, তা নিয়ে আমি গর্বিত।’
বিদেশে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও বাস্তবসম্মত মূল্যায়নের পক্ষে ব্রুজন। তার মতে, খেলোয়াড়ের জন্মপরিচয় কিংবা বিদেশে খেলার বিষয়টি নয়, জাতীয় দলের প্রতিযোগিতামূলক মান বাড়ানোর সক্ষমতাই হওয়া উচিত নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত প্রশ্ন হওয়া এটা হওয়া উচিত নয় যে, বিদেশে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের দলে নেওয়া উচিত কি না। বরং দেখতে হবে, তারা জাতীয় দলের প্রতিযোগিতামূলক মান সত্যিকার অর্থে বাড়াতে পারবে কি না। তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা, খেলার অভিজ্ঞতা ও প্রতিযোগিতার মান বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ক্লাবগুলোর সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করা উচিত।’
ব্রুজনের মতে, বিদেশে খেলেন বলেই কাউকে জাতীয় দলে নেওয়া উচিত নয়। যোগ্যতা ও সামর্থ্যের ভিত্তিতেই তাদের বিবেচনায় আনতে হবে। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় দলকে শক্তিশালী করা, বিদেশে খেলা ফুটবলারের সংখ্যা বাড়ানো নয়।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে ৮৪ লাখ আবেদন!