রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আর কোনও নিখোঁজের সংবাদ পেলে উদ্ধার কাজ আবার শুরু করা হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য নামে যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীসহ পন্টুন থেকে পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন সৌভাগ্যক্রমে ভেসে উঠতে পারলেও, অধিকাংশ যাত্রীই বাসসহ ডুবে যান। প্রায় ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এরপর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একের পর এক মরদেহ।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘আপাতত ডুবুরি দল ও সংশ্লিষ্টরা একটু বিশ্রাম নিচ্ছেন। যদি কারও কোনও স্বজন নিখোঁজ থাকেন তাহলে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে৷ আমরা দুপুর ১টা পর্যন্ত আর কোনও নিখোঁজের সংবাদ পাইনি।’
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। সে সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে হাসনা হেনা নামে একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’