কম বরাদ্দের অজুহাতে পণ্য ওঠাননি ঢাকা বিভাগের টিসিবি’র বেশিরভাগ ডিলার। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় ঢাকা কিংবা বরিশাল থেকে পণ্য উঠিয়ে তা বিক্রি করতে রাজি হননি তারা। যে অল্প সংখ্যক ডিলার পণ্য উঠিয়েছেন তাদের দোকানে বা ট্রাকে করে বিক্রির সময় ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু পরে পণ্য না থাকায় ক্রেতাদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। টিসিবি’র কাছে পণ্যের বরাদ্দ আরও বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন এসব ডিলার। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য:
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জ জেলায় টিসিবির ডিলার রয়েছেন মোট ৫৫ জন।এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬জন, মিঠামইন ১, নিকলী ২, ভৈরব ৪, করিমগঞ্জ ৬, পাকুন্দিয়া ৭, ইটনা ৬, তাড়াইল ৭, কটিয়াদী ৫, বাজিতপুর ৬, অষ্টগ্রাম ৩ ও হোসেনপুর উপজেলায় ২। পণ্য উঠিয়েছেন মোট ১৫ জন ডিলার। পণ্য ওঠাননি ৪০ জন।
সদরের বৌলাই এলাকার টিসিবি’র ডিলার মো. জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, আমি রমজান মাসে মোট চারদিনের পণ্য পেয়েছি। বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪শ’ কেজি মসুর ডাল, ৮শ’ লিটার সয়াবিন তেল, ১২শ’ কেজি চিনি ও ১৬শ’ কেজি চোলা। পণ্যের মাণ ভালো। তবে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় পণ্যের পরিমাণ ছিল খুবই কম। বেশি বরাদ্দ চেয়েও পাইনি। টিসিবি যদি পণ্যের বরাদ্দ বাড়িয়ে দেয় এবং আমাদের একটু মুনাফার ব্যবস্থা রাখে তাহলে ডিলাররা আরেকটু উপকৃত হতো।
কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজারের টিসিবি’র ডিলার শাহজাহান ভুইয়া জানান, যোগাযোগ করেও পণ্য পাননি তিনি। এছাড়া ময়মনসিংহ থেকে পণ্য আনতে হয় বলে অনেক ডিলার পণ্য তুলতে আগ্রহী হন না। তিনি জানান, পণ্যের পরিমাণ কম হওয়ায় পরিবহন খরচ বেশি পড়ে। এতে অনেক ডিলার পণ্য আনতে নিরুৎসহিত হয়। প্রত্যেক জেলায় টিসিবি’র সরকারি গুদাম থাকলে সাধারণ মানুষ আরও উপকৃত হতো বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো, ওসমান গনি বলেন, টিসিবি’র পণ্যের সাপ্লাই ডিলারদের মাঝে বেশি থাকলে বাজারে একটি প্রতিযোগিতা থাকতো। পণ্যের পরিমাণ বেশি হলে ডিলারদের পরিবহন খরচ কম লাগত। এতে ডিলাররা পণ্য ওঠাতে আরো আগ্রহী হত। তাহলেই কেবল বাজারে এর প্রভাব ফেলা সম্ভব।
মাদারীপুর
জেলায় টিসিবির ডিলার সংখ্যা ২০। এদের মধ্যে পণ্য তুলেছেন তিনজন।সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পণ্যের গুণগত মান ভালো। তবে বরিশাল থেকে মালামাল উত্তোলন এবং ট্রাকে করে বিক্রির বাধ্য বাধকতাসহ বিভিন্ন কারণে মাদারীপুরে এবার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র কোন পণ্য বিক্রি করছে না লাইসেন্সধারী ডিলাররা। গত কয়েক বছরে এই ব্যবসায় কোন সুফল না পাওয়ায় অনেকে আবার লাইন্সেস বাতিলের জন্য আবেদনও করেছেন।
মাদারীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি বাবুল চন্দ্র দাস বলেন, আমি নিজে একজন টিসিবি’র ডিলার। বিগত বছরগুলোতে খোলা বাজারে বিক্রির জন্য দেওয়া পণ্যগুলো মাদারীপুরে কম চাহিদা থাকায় ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছি। আমার জানামতে এবার জেলা শহরের কোন ব্যবসায়ীই ডিলারশিপ থাকা সত্ত্বেও টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করছে না। কারণ মাদারীপুরের ক্রেতাদের কাছে মোটা চিনির বিক্রি নেই বললেই চলে। তারা সাদা মিহি চিনি কিনে থাকেন। এছাড়া টিসিবি’র দেওয়া ছোলার চেয়ে মাদারীপুরে উন্নতমানের ছোলা বেশি পাওয়া যায়। তাই এই ছোলাও ক্রেতারা কেনেন না।
মানিকগঞ্জ
জেলার সাতটি উপজেলার ১৬ টিসিবি ডিলারের কেউই লোকসানের অজুহাতে কোনও পণ্য সামগ্রী ওঠাননি। তাদের ভাষ্য, টাকা বিনিয়োগ করে তারা লোকসান দিতে রাজি নন। এছাড়া চারটি পণ্যের অনুকূলে ( সয়াবিন তেল,চিনি,ডাউল ও ছোলা ) সব মিলিয়ে ১২ শ’ কেজি বরাদ্দ দিতে চেয়েছিল টিসিবি।এতো কম বরাদ্দ নিয়ে বাজারে নেমে জনরোষে পড়ার আশঙ্কা তাদের।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পোড়রা এলাকার মেসার্স চারুতা নামের টিসিবির ডিলার এহতেশাম ভুনু জানান, তার লাইসেন্সের অনুকুলে চারটি পণ্য (সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল ও ছোলা) মিলিয়ে ১২শ’ কেজি পণ্য সামগ্রী বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি যা ঢাকায় গিয়ে আনতে পরিবহন খরচ লাগবে পাঁচ হাজার টাকা। বরাদ্দকৃত পণ্য বিক্রি করলে তাতে লাভ হতো সাড়ে তিন হাজার টাকা।এছাড়া যে পরিমাণ পণ্য বরাদ্দ তা দিয়ে একদিন সামাল দেওয়া যাবে। এতে জনরোষে পড়ার আশঙ্কা থাকায় তিনি পণ্য উত্তোলন করেননি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাজী আসাদুজ্জামান খান বলেন, পর্যাপ্ত সরবারহের পরও কেন ডিলাররা পণ্য তোলেননি বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদী
রমযান মাসে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করলেও নরসিংদী জেলাজুড়ে নেই কোন কার্যক্রম। জেলায় টিসিবি’র ৪৫ জন ডিলার থাকলেও বাস্তবে এর সুফল না পাওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে।
ডিলারদের ঠিকানা অনুযায়ী মঙ্গলবার জেলা শহরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে লক্ষ্য করা যায়নি টিসিবি’র পণ্য বিক্রির কোন কার্যক্রম। ডিলাররা জানিয়েছেন টিসিবি থেকে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না থাকায় তারা টিসিবির পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না।
নরসিংদী বড় বাজারের টিসিবি’র ডিলার জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টিসিবি ডিলারদের ১শ’ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৩শ’ কেজি পণ্য দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ঢাকা থেকে এই সামান্য পণ্য আনার জন্য কি ট্রাক ভাড়া করা সম্ভব? এতে কোনও কমিশন থাকে না বলেও জানান তিনি। এছাড়া প্রায়ই টিসিবি ডিলারদের গোডাউন ঘেরাও করে থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তদন্তের পর সবকিছু ঠিকঠাক পেলে চলে যায়। কিন্তু মানুষ কী মনে করে? এতে আমাদের সুনাম নষ্ট হয়।
রায়পুরা উপজেলার শ্রীরামপুর বাজারের মেসার্স মাসুম এন্টারপ্রাইজের মালিক টিসিবি’র ডিলার মো: মিলন মিয়া বলেন, পণ্যের গুণগত মান ও বর্তমান বাজারের তারতম্য অনুযায়ী টিসিবি’র পণ্যের দামটা বেশি। ফলে এসব মাল বিক্রি করে লোকসান গুণতে হয়।
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয় এর প্রধান কর্মকর্তা কাজী মো. ইফতেখার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এসব বিষয়ে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই, হেড অফিসে যোগাযোগ করেন।
টাঙ্গাইল
বাইরের খোলা বাজারের চেয়ে টিসিবির বিক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য কম থাকায় ক্রেতা সাধারণের কাছে টিসিবি পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু টাঙ্গাইলে ডিলারদের কাছে টিসিবি পণ্যের সরবরাহ না থাকায় তারা এসব পণ্য ক্রয় করতে পারছেন না। অপর দিকে টিসিবি পণ্য না থাকায় খোলাবাজারে চিনি, ছোলার দাম বেড়ে গেছে। তাই বাজারে চাল, ডাল, চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতি দ্রুত টিসিবি পণ্য সরবরাহের দাবি জানান ক্রেতারা।
টাঙ্গাইল শহরের আদালত পাড়া কেয়া হল মোড়ে অবস্থিত মেসার্স মাসুদ ট্রেডার্স এর মালিক পলাশ আল মাসুদ বলেন, চাহিদার তুলনায় একশত ভাগের দশ ভাগ মালও পাইনি। আমাকে দুই দিন ট্রাকে মাল বিক্রি করতে বলা হয়েছিল। আমি শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাকে করে দুই দিন মাল বিক্রি করি। চাহিদা বেশি থাকায় ট্রাকের মাল শেষ হয়ে যাওয়ার পর দোকানের মালও ট্রাকে নিয়ে বিক্রি করেছিলাম। ভেবেছিলাম পরে আরও পণ্য আনতে পারবো।
মাসুদ ট্রেডার্স এর ম্যানেজার কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, ‘প্রায় প্রতিটা মালের গুণগত মান ভালো ছিল। আমরা যা মাল পেয়েছিলাম তা জুনের দশ তারিখের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। প্রতিদিনই অনেক ক্রেতা আসেন পণ্যের খোঁজে। কিন্তু পন্য আসেনি শুনে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয় ময়মনসিংহের অফিস প্রধান শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জুনের ৮ তারিখ পর্যন্ত মালের বরাদ্দ ছিল। তখন পর্যন্ত ছয়টি জেলার ১১০ জন ডিলার তাদের মাল তুলে নিয়ে গেছে। ২৯ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রতিটি ডিলারকে ৮০০ কেজি ছোল, ৫০০ কেজি চিনি, ৩০০ লিটার তেল এবং ৩০০ কেজি ডাল দিয়েছে। ৮ জনু পর্যন্ত প্রতিটি ডিলারকে ৫০০ কেজি ছোল, ৫০০ কেজি চিনি, ২০০ থেকে ৩০০ লিটার তেল এবং ২৫০ কেজি ডাল দিয়েছি। বরাদ্দ না থাকার কারণে রমজানের মধ্যে আর মালামাল দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
গোপালগঞ্জ
জেলায় মোট ডিলার ৩৫ জন।গোপালগঞ্জ সদর ১২, মুকসুদপুর ৬, কাশিয়ানী ৬, কোটালীপাড়া ৬, টুঙ্গিপাড়া ৫। এদের মধ্যে পণ্য তুলেছে মাত্র ১৫ জন ডিলার । ২০ জন পণ্য তোলেন নি।
পণ্য তোলা টিসিবি ডিলার বুলবুল আলম বুলু বলেন, পণ্যের মান ভালো ছিলো।ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাইনি। রমজান শুরুর আগে ও পরে ৩/৪ দিন পণ্য বিক্রি করেছি। এখন টিসিবি থেকে পণ্য দিচ্ছে না। তাই গোপালগঞ্জ জেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে।
টিসিবি পণ্য পাননি এমন ক্রেতা বাবুল মোল্লা, বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরেতে হয়েছে। এখনতো বিক্রিই বন্ধ।
গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি আলহাজ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, এ বছর সীমিত আকারে গোপালগঞ্জে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু হয়। টিসিবি ডিলারের চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ডিলার পণ্যই তুলতে পারেনি।
ঢাকাবিভাগেরজেলাভিত্তিকটিসিবিডিলারওতাদেরকার্যক্রম
জেলা | ডিলার সংখ্যা | পণ্য তুলেছেন | পণ্য তোলেননি |
কিশোরগঞ্জ | ৫৫ | ১৫ | ৪০ |
মাদারীপুর | সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি | সঠিক তথ্য নেই | অধিকাংশই জানিয়েছেন, পণ্য তোলেননি |
মানিকগঞ্জ | ১৬ | ০ | ১৬ |
নরসিংদী | ৪৫ | ০ | ৪৫ |
টাঙ্গাইল | ৬০ | ১ ৫ | ৪৫ |
গোপালগঞ্জ | ৩৫ | ১৫ | ২০ |
মুন্সীগঞ্জ | প্রশাসন সুনির্দিষ্ট দিতে ব্যর্থ, স্থানীয় সূত্র মতে ২ ১ জন | ১ | ২০ |
শরীয়তপুর | ৮ | ০ | ৮ |
নারায়ণগঞ্জ | ৩ | ৩ | ০ |
ফরিদপুর | ২ (২৩ জন ছিলেন আগের বছর) | ০ | ২ |
মুন্সীগঞ্জ
জেলায় মোট ডিলারের সংখ্যা জানতে গলদঘর্ম হতে হয়েছে জেলা প্রতিনিধিকে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও জানা ছিল না জেলায় টিসিবি’রডিলারে প্রকৃত সংখ্যা ।এডিসি (সার্বিক) হারুন অর রশীদ বলেছেন, ‘টিসিবির ডিলার সম্পর্কিত বা অন্যকোন তথ্য আমাদের জানা নেই। আপনি ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করুন।’ ইউএনও শারাবান তাহুরা জানান, ‘ডিলারতো অবশ্যই আছে। কিন্তু, আমাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। আপনি কৃষি অধিদফতর ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে যোগাযোগ করে দেখুন।’ জেলা কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা জানান, “টিসিবি’র কোনও কাজের সঙ্গে আমরা জড়িত না। আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সৈয়দ তাজুল ইসলাম জানান, “টিসিবি’র কোনও কাজের সঙ্গে আমরা জড়িত নই। তাই বলতে পারছি না ডিলার কতজন আছে বা আদৌ আছে কিনা। কয়েক বছর আগে ডিলারদের একটি তালিকা উপজেলা পরিষদ থেকে আমাদের পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, এখন কে বা কারা ডিলার তা বলতে পারছি না। মুন্সীগঞ্জে টিসিবি’র কোনো অফিস আছে কিনা, কারা টিসিবির কাজ করে তাও জানিনা।’ এ পরিস্থিতিতে জেলায় ডিলারদের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। তবে একজন ডিলার দাবি করেছেন, জেলায় গত বছর মোট ২১ জন ডিলার ছিলেন। এরমধ্যে এ বছর মাত্র একজন পণ্য তুলেছেন। অন্য ডিলাররা জামানতের টাকা ফেরত পেলে লাইসেন্স ফেরত দেওয়ার পক্ষে।
ধলাগাঁওয়ের ডিলার মনির জানান, গতবছর ২০০ কেজি চিনি তুলে এর মান খারাপ হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। টিসিবি’র নাম শুনে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, “যদি আমার জামানতের টাকা ফেরত দেয়, আমি রোজামুখে বললাম, আজকেই আমি লাইসেন্স সারেন্ডার কইর্যা দিমু।’
মুন্সীগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন জানান, “টিসিবি’র কোনও ডিলার মুন্সীগঞ্জে নেই। কাউকে তো দেখি না টিসিবির মাল বিক্রি করতে।’
শরীয়তপুর
জেলায় টিসিবি ডিলারের মোট সংখ্যা ৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩, নড়িয়া উপজেলায় ১, ডামুড্যা উপজেলায় ২ ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ২ জন ডিলার রয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৭। কিন্তু ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান না হওয়ায় ৯ জন চলতি বছর তাদের ডিলারশীপ নবায়ন করেননি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর বাজারের টিসিবি ডিলার মেসার্স রবীন এন্টারপ্রাইজের মালিক রিপন ঘোষ বলেন, টিসিবির পণ্য উঠানোর জন্য রমজানের আগে থেকে বরিশাল অফিসে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু বরাদ্দ নেই বলে আমাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলায় টিসিবি ডিলারের সংখ্যা ৩ জন। সবাই টিসিবির পণ্য উঠিয়েছেন।
মাশফি এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মাসুদ আলী জানান, ফতুল্লার দাপা এলাকার টিসিবির খাদ্য গুদাম হতে মালামাল আনতে হয়। তবে এলাকা খুব দূরে না হওয়ায় সময় বেশি লাগে না। আমাদের কাছে যেসব ক্রেতা আসে তাদের কোনও অভিযোগ নেই। আর চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহ রয়েছে।
ফরিদপুর
ফরিদপুরে মোট ডিলারের সংখ্যা ২৩ জন, এদের মধ্যে ২ জন লাইসেন্স নবায়ন করেছেন।
জেলার হাটকৃষ্ণপুর এলাকার ব্যাবসায়ী বাদল চন্দ্র সাহা সাম্প্রতিক সময়ে সদরপুর উপজেলা পরিষদের সামনে তার বরাদ্যকৃত অবশিষ্ট টিসিবির পণ্য বিক্রয় করেছেন, যা এক দিনেই শেষ হয়ে যায়। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও টিসিবির পণ্যে বরাদ্দ দশ ভাগের এক ভাগও না। তাছাড়া খুলনা আঞ্চলিক অফিস থেকে ২শ-৩শ’ কেজি মাল এনে পরিবহন খরচ পোষায় না।
জেলা শহরের তিতুমীর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব বলেন কয়েক বছর পূর্বেও তিনি টিসিবির পন্য আনতেন কিন্তু সর্বশেষ ২০১৩ সালে ১লক্ষ টাকা ডিডি করেও তিনি সম্পূর্ণ টাকার মাল না পাওয়ার পর থেকে আর মাল ওঠান না।
ফরিদপুরের জেলা প্রসাশক সরদার সরাফত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টিসিবি জেলায় পৃথক ভাবে তাদের কাজ করে। তাদের কর্যক্রমকে বেগবান করার কোনও পদক্ষেপ আপাতত আমাদের নেই।
/এইচকে/টিএন/আপ-এসটি
এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ:
রোজায় ১৮ জেলায় পৌঁছায়নি টিসিবি’র পণ্য
রংপুর অঞ্চলের ডিলারদের অভিযোগ: ব্যাপক চাহিদা তবুও বন্ধ করা হয়েছে পণ্য সরবরাহ
চট্টগ্রামের ৬ জেলার মানুষ পাননি টিসিবি’র কোনও পণ্য
খুলনা অঞ্চলে পণ্য তুলেছেন মাত্র ২৩ শতাংশ ডিলার, দেওয়া হয়নি তেল-খেজুর