ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদের কাছে ভিরামগামে চার দুষ্কৃতকারীর চুরির গাড়ি আটকে দিয়েছিল পুলিশ ইন্সপেক্টর এস এ গাধভীর গাড়ি। চোরদের গাড়িটি পুলিশের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ইন্সপেক্টর গাধভীর চালকের দিকের দরজাটি জ্যাম হয়ে যায়। দরজা খোলার ফাঁকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য চালক গাড়ি ব্যাক করতে শুরু করেন। কিন্তু পিছপা না হয়ে পায়ে হেঁটে ছুটে যান ইন্সপেক্টর গাধভি, চলন্ত গাড়ির দরজা আঁকড়ে ধরে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন।
আহমেদাবাদ গ্রামীণ পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ওম প্রকাশ জাট জানান, চালক এক্সিলারেটরে চাপ দিলে ইনস্পেক্টরকে প্রায় ৫০০ মিটার পথ টেনে নিয়ে যায় গাড়িটি। কিন্তু অসাধারণ সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়ে ইনস্পেক্টর গাধভি গাড়িটির দরজা খুলতে সক্ষম হন, স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং হ্যান্ডব্রেক টেনে ধাওয়া শেষ করেন।
আহমেদাবাদ গ্রামীণ পুলিশ ও গভর্মেন্ট রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) যৌথ অভিযানে চার দুষ্কৃতকারীই গ্রেফতার হয়েছে। নাদিয়াদ রেলওয়ে স্টেশনে এক ট্রেন যাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপি মূল্যের ২.৯ কেজি চোরাই স্বর্ণের গয়না উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ৩ অক্টোবর বিকেল ৫টায়। হাওড়া-আহমেদাবাদ সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস থেকে নাদিয়াদ রেলওয়ে স্টেশনে নামেন ভরত কারসান চৌধুরী। ঠিক তখনই এক দুষ্কৃতকারী ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপির স্বর্ণের গয়না থাকা তার সবুজ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ভরত ধাওয়া করলেও দুষ্কৃতকারী একটি টাটা টিয়াগো গাড়িতে উঠে চম্পট দেয়। তবে পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে গাড়িটির একটি ছবি তুলে জিআরপি-কে দেন ভরত।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে খবর পেয়ে আহমেদাবাদ গ্রামীণ পুলিশ বিশেষ টিম নিয়ে তদন্তে নামে। গাড়িটির গতিপথ ট্র্যাক করে দেখা যায়, টিয়াগো গাড়িটির সঙ্গে একটি অলিপিত মারুতি ব্যালেনিও গাড়ি রয়েছে। আহমেদাবাদ গ্রামীণ পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সম্ভাব্য পথগুলো চিহ্নিত করি। লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (এলসিবি) এবং ভিরামগাম টাউন পুলিশ অবিলম্বে চেকপয়েন্ট সক্রিয় করে টিম মোতায়েন করে।
ভিরামগামের কাছে ভারী ট্রাক ব্যবহার করে ব্যালেনিও গাড়িটিকে আটকে এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর আটক আসামির মোবাইল থেকে টাটা টিয়াগোতে থাকা অন্য আসামিদের হোয়াটসঅ্যাপ লাইভ লোকেশন পাঠাতে বলা হয়। পুলিশ যে মেসেজ পাঠাচ্ছে তা বুঝতে না পেরে দুষ্কৃতকারীরা লাইভ লোকেশন শেয়ার করে ফাঁদে পা দেয়।
নির্ধারিত স্থানে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে টিয়াগো গাড়িটি ইন্সপেক্টর গাধভীর গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। সেখানে ৫০০ মিটার টেনে নেওয়ার পরও গাধভি হ্যান্ডব্রেক টেনে গাড়ি থামান।
পুলিশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসেন এবং গাড়িতে থাকা তিন আসামিকে কাবু করেন। একজন পাশের মাঠে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও চিরুনি অভিযান চালিয়ে তাকেও ধরা হয়।
চার অভিযুক্তকেই হেফাজতে নিয়ে ব্যালেনিও গাড়ির সিট কভারের নিচে লুকিয়ে রাখা ২.৯ কেজি চোরাই স্বর্ণ ও দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়। পরে আসামিদের নাদিয়াদ জিআরপির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস