সিরিয়ার গোপন ঘাঁটিতে ‘ডার্টি বোমা’র উপাদান, ইসরায়েলি হামলার আগেই ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ

সিরিয়ার একটি গোপন স্থান থেকে সংরক্ষিত পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসরায়েল, সিরিয়া ও তুরস্কের জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন প্রশাসন ও আইএইএ জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশলের সফলতা তুলে ধরে এবং নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে সংকট দূর করার ক্ষমতা প্রমাণ করে।

২০০৭ সালে ইসরায়েল আল-কিবার পারমাণবিক রিয়্যাক্টরে বোমা হামলা চালিয়ে আসাদ সরকারের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করেছিল। তবে কিছু গবেষণা ও সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে যায়। আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন সরকার আইএইএ-কে অতীতে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালিত সাইটগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ফেলো চার্লস লিস্টার জানান, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুনাম ফিরিয়ে আনতে আসাদ সরকারের আমলের স্পর্শকাতর পারমাণবিক ও রাসায়নিক ফাইলের ঝামেলা মেটাতে নতুন সরকার আগ্রহী।

ইসরায়েল গত দুই বছর ধরে ‘সাইট ৯৯’ নামের একটি গোপন কেন্দ্র নজরদারিতে রেখেছিল, যেখানে আল-কিবার রিয়্যাক্টরের ইয়েলো কেক (ইউরেনিয়াম আকরিকের গুঁড়া)-সহ অন্যান্য অবশিষ্ট পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষিত ছিল। এই উপাদান দিয়ে পারমাণবিক বোমা বানানো না গেলেও তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ‘ডার্টি বোম্ব’ তৈরি সম্ভব। আসাদ সরকারের পতনের পর প্রাঙ্গণটিতে প্রবেশ ঠেকাতে এর প্রবেশপথে বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।

পরবর্তীতে সিরিয়া সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আসাদ সরকারের রেখে যাওয়া এই পারমাণবিক উপাদানের ব্যাপারে নতুন সিরীয় সরকারের ধারণা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছে।

তবে কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি নজরদারিতে সেখানে সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়লে তারা আশঙ্কা করে যে, নতুন সিরীয় সরকার হয়তো সমঝোতা ভঙ্গ করছে এবং তুরস্ক এতে সহায়তা করছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলিরা বিষয়গুলো নিখুঁত কি না তা নিশ্চিত করতে সবসময় পরীক্ষা করে, যা প্রশংসনীয়। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানায় এবং আইএইএ-কে যুক্ত করে।

এরই ধারাবাহিকতায় তিন সপ্তাহ আগে আইএইএ ও সিরিয়া সরকারের মধ্যে পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়ার চুক্তি সই হয়। তবে হোয়াইট হাউস, আইএইএ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপাদানগুলো এখনও সরানো হয়নি, কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং চলতি বছরের শেষের আগেই তা সম্পন্ন হবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস