হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১ ফেব্রুয়ারি চীন ফেরতদের নিয়ে যাত্রী ভোগান্তির প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর আন্তরিকভাবে দুঃখিত বলে জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। চীনা যাত্রীদের অপেক্ষা করার বিষয়ে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিভাবে নিয়ন্ত্রণ ছিল না তবে সবাইকে থার্মাল স্ক্যান করা হয়েছে বলে জানান তারা।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আইইডিসিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ওই দিনের পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, সেদিন চীনের উহান থেকে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে আসে একটি ফ্লাইট। তাদের অধিকাংশকেই কোয়ারেন্টিনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্ত চীনের অন্য অঞ্চল থেকে আসাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিভ্রান্তি ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতামত ছিল শুধু উহান ফেরতদেরই কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। বাকিদের কোরোনা ভাইরাসের লক্ষণ সাপেক্ষে কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিমানবন্দরে দীর্ঘ আলোচনার পর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতানুযায়ী সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এতে যথেষ্ঠ বিলম্ব হয়। যাত্রীরা যথারীতি থার্মাল স্ক্যানার পার হয়ে ইমিগ্রেশন এলাকায় চলে আসে। কিন্তু ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে প্রক্রিয়া শেষ করে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে না দেওয়ায় সেখানে জটলা হয়। কয়েকজন যাত্রীকে উত্তেজিত দেখা যায়। থার্মাল স্ক্যানারে লক্ষণ ধরা না পরায় যাত্রীদের স্বাস্থ্যকার্ডে ওকে লিখে দেওয়া হয়। যাতে করে সহজে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। পরিস্থিতিরি ওপর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিকে কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর বিমানবন্দরে ১০ জন অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করেছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও সেনিটারি ইন্সপেক্টর এখন দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন
হজক্যাম্পে থাকা চীন ফেরত সবাই ভালো আছেন: আইইডিসিআর
চীন ফেরত ৩৭৫৪ যাত্রীর স্ক্রিনিং করা হয়েছে: আইইডিসিআর
চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
চীন ফেরত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন, ঝুঁকি থাকলেও সতর্ক আইইডিসিআর
চীন ফেরত নাগরিকদের তালিকা করার নির্দেশ