সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও হেনস্তাকারী কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ৫টি নারী ও মানবাধিকার সংগঠন। পাশাপাশি রোজিনাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে চেয়েছে তারা।
বুধবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, নারীপক্ষ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিসহ আইন সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
সংগঠনগুলো প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন এবং গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী, নারীপক্ষের তামান্না খান, মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী, ব্লাস্ট থেকে ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও ব্যারিস্টার শারমিন আক্তার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, নারী ও পুরুষ মিলে রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে যেভাবে হেনস্তা করেছেন, তা যৌন হয়রানির আওতায় পড়ে এবং তা স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধ। প্রয়োজনে যেকোনও আইনি সুবিধা দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আটকে রাখার ঘটনা দেশের সংবিধান পরিপন্থী। একজন সাংবাদিককে বিশেষ করে একজন নারী সাংবাদিককে আটক রাখার ঘটনাটি নিন্দনীয়। রোজিনা অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা না করে, থানা হাজতে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি অমানবিক।
আরও পড়ুন:
‘রোজিনা ইসলাম ঠিক কাজটিই করেছেন’
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ
রোজিনার প্রিজন ভ্যানের ছবি কী কথা বলে?
স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে আবেদন নিয়ে থানায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা
রোজিনা ইসলামকে হেনস্তার ঘটনায় সম্পাদক পরিষদের নিন্দা
রোজিনা ইসলামের গ্রেফতারের ঘটনায় পেন বাংলাদেশের নিন্দা
সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ১৫ জুলাই
রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের নিন্দা
রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চায় প্রথম আলো
‘আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে’ (ভিডিও)
সাংবাদিক রোজিনার রিমান্ড নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
নথি চুরির অভিযোগ: সাংবাদিক রোজিনাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হেনস্তার পর থানায় হস্তান্তর
রোজিনা ইসলামকে আটকের ঘটনায় জাতীয় পার্টির নিন্দা
রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবি আইন-সালিশ কেন্দ্রের
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বা অন্যকোনও ব্যক্তিকে সরকারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কী আটকে রেখে হেনস্তা করতে পারেন? কোনও ন্যায্য কারণ ছাড়া বাংলাদেশের কোনও নাগরিককে ৫ ঘণ্টা কেন, ৫ সেকেন্ডও আটকে রাখার অধিকার কারও নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয়, যে নথি ফাঁস হলে দেশের গোপনীয়তা ক্ষুন্ন হতে পারে, সেটা কীভাবে একজন প্রাইভেট সেক্রেটারির টেবিলে বিনা পাহারায় পড়ে থাকে? রোজিনা ইসলাম কোন কোন
গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন নথি ‘চুরি’ করেছেন, তা জনগণ জানতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘আদালত চাইলে রোজিনাকে জামিন দিতে পারতো। কেউ কি রোজিনাকে এই তিন দিন ফিরিয়ে দিতে পারবে?’
নারীপক্ষের তামান্না খান বলেন, ‘এরকম একজন সাংবাদিককে যদি এভাবে হয়রানি করা হয়, তাহলে বাকিদের অবস্থা কী হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।’
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং করে আইনি সংগঠনগুলো মামলা চালাতে পারে।’
নীনা গোস্বামী বলেন, ‘এভাবে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই।’
শাহীন আনাম বলেন, ‘‘রোজিনা অনেক যুদ্ধ করে আজকে সাংবাদিকতার এই স্থানে এসে দাঁড়িয়েছেন। অথচ আজ তাকে ‘চুরি’র অপবাদ দিয়ে জেলে দেওয়া হলো।তার ছোট সন্তানটির ট্রমা নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে।’