X
রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩
১৪ মাঘ ১৪২৯

চার লাখ টন পেঁয়াজ গেলো কই?

শফিকুল ইসলাম
৩০ অক্টোবর ২০১৭, ২১:০৭আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৭, ১১:৫৭

 

পেঁয়াজ (ফাইল ছবি: সংগৃহীত) বাজারে পেঁয়াজের এখন অনেক ঝাঁজ। দাম আকাশছোঁয়া। মাত্র পনেরো দিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ২৫ থেকে ৩৫ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পেঁয়াজের সংকট। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। তাই দাম বেড়েছে। এছাড়া উৎপাদনকারী দেশ ভারতেও দাম বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন, আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতির সঙ্গে ব্যবসায়ী, বাজার পর্যবেক্ষক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন। আর  এ বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসেবে ঘাটতি থাকার কথা সর্বোচ্চ  ৩ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু বছর শেষ হওয়ার বাকি আর দুই মাস। আর ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, ঘাটতি মেটানোর পর নতুন ফসল ওঠার ২ মাস আগে এই মুহূর্তে দেশে পেঁয়াজ মজুদ থাকার কথা ৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন। অথচ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনই বাজারে পেঁয়াজ নেই। বাজার পর্যবেক্ষণ ও ভোক্তাদের প্রশ্ন, তাহলে আমদানির বাড়তি ৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ গেলো কোথায়?

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। তাই পেঁয়াজ নিয়ে উদ্ভব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোমবার (৩০ অক্টোবর) দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত সংস্থাগুলোর প্রতিনিধির পর্যবেক্ষণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি থাকার কোনও তথ্য মেলেনি। কাজেই সংকটের অজুহাত ভিত্তিহীন। দেশে এই মুহূর্তে এখনও পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। যা দিয়ে আরও  ২/৩ মাস ভালোভাবে চলে যাওয়ার কথা। অবশ্য এর আগেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে।

একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের দু’টি টিম রাজধানীর দু’টি পাইকারি বাজার (শ্যামবাজার ও কাওরানবাজার) পরিদর্শনে গিয়ে পেঁয়াজের খোঁজ-খরব নিয়েছেন। বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ, মজুদ ও দামের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তারাও বাজার পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। সেখানেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। পর্যবেক্ষণ টিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহে স্বাভাবিক। পর্যাপ্ত মজুদও আছে। কোথাও সংকট দেখা যায়নি। এরপরও কেন পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, জানতে চাইলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনও কথা বলেননি।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি (পরিচালক) জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে ৪২ হাজার ৩৮২ টন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫২ হাজার ১১৭ টন, মার্চ মাসে ৬৫ হাজার ২৫৫ টন, এপ্রিল মাসে ৬২ হাজার ২২০ টন, মে মাসে ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ টন, জুন মাসে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৯ টন, জুলাই মাসে ১ লাখ ৩ হাজার ৫৯ টন, আগস্ট মাসে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৫০ টন, সেপ্টেম্বর মাসে ৬৫ হাজার ৪৬২ টন ও ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৩৫৫ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যার পরিমাণ ৭ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৫ টন। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা ওই বৈঠকে আরও জানান, এ পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্যে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ১৯ হাজার ৪৩ টনের।

এদিকে, বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়া নিয়ে রাজধানীর শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আরিফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দেশে বৃষ্টিতে পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। চাহিদা তো আর কমেনি। চাহিদা মতো পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। তাই দাম বেড়েছে।’ বিষয়টিকে স্বাভাবিক নিয়ম বলেই মনে করেন আরিফুল হক।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামীমা ইয়াসমিন বংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘কমিটির পর্যবেক্ষণে এই মুহূর্তে দেশে পেঁয়াজের কোথাও কোনও সংকট নেই। মজুদও ভালো। তারপরও দেশের বাজারগুলোয় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি সন্দেহজনক। কাজেই মনিটরিংয়ের প্রয়োজন হওয়ায় আমরা কমিটির পক্ষ থেকে ওপর মহলে অভিমত দাখিল করেছি। বাজারে কঠোর মনিটরিং বাড়ানো উচিত বলে জানিয়েছি। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেও কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতেও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। সেখানেও বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে ভারতে পেঁয়াজের দাম এতটা বাড়েনি। একসপ্তাহ আগে ভারতে প্রতিটন পেঁয়াজ ২৭১ মার্কিন ডলার দরে বিক্রি হলেও ২৭ অক্টোবর সেখানে বিক্রি হয়েছে ৩৪১ মার্কিন ডলার দরে।           

এদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে তাহেরপুরি, বারি পেঁয়াজ-১ (তাহেরপুরি), বারি পেঁয়াজ-২ (রবি মৌসুম), বারি পেঁয়াজ-৩ (খরিপ মৌসুম), স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরি জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন করা হয়। ফলে বছরজুড়েই কোনও না কোনও জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এ কারণে নির্দিষ্ট কোনও মৌসুমে এসে পেঁয়াজের সরবরাহ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা কম।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী শফিউল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃষ্টিতে দেশের ভেতরেও অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নতুন পেঁয়াজ ওঠার সময় হয়ে গেছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলেই দাম কমে যাবে। এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।’

/এমএনএইচ/
সর্বশেষ খবর
সংকট সমাধানে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার
ওয়েবিনারে বক্তারাসংকট সমাধানে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার
‘পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে’
‘পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে’
নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে সংসদ নির্বাচনের তারিখ জানাবে: আইনমন্ত্রী
নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে সংসদ নির্বাচনের তারিখ জানাবে: আইনমন্ত্রী
ফেনীতে ‘গোপন বৈঠক’ থেকে জামায়াতের ১২ নেতাকর্মী আটক
ফেনীতে ‘গোপন বৈঠক’ থেকে জামায়াতের ১২ নেতাকর্মী আটক
সর্বাধিক পঠিত
খাবারের দাম দ্বিগুণ, বাস মালিক-হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেট
খাবারের দাম দ্বিগুণ, বাস মালিক-হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেট
যে জুটি কখনও ব্যর্থ হয়নি
যে জুটি কখনও ব্যর্থ হয়নি
হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে রিয়াজ, দিলেন ব্যাখ্যাও
হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে রিয়াজ, দিলেন ব্যাখ্যাও
নতুন উচ্চতায় মাশরাফি
নতুন উচ্চতায় মাশরাফি
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার