X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বৈদেশিক বাণিজ্যের তিন সূচকেই স্বস্তি

গোলাম মওলা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২১:৫৯আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:৩৯

রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহে স্বস্তির পর এবার আমদানি বাণিজ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। অর্থাৎ বৈদেশিক বাণিজ্যের এই তিনটি সূচকই এখন স্বস্তি দিচ্ছে। এতে ডলারের বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেওয়া নানা পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও গত মাস থেকে আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি থেমেছে। ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমেছে, যা সামনে আরও কমতে পারে। এতে সার্বিক আমদানি ব্যয় কমবে। আবার প্রবাসী আয় ও রফতানি আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বস্তি মিলছে।

ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ-জুন পর্যন্ত টানা চার মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। তবে পঞ্চম মাসে তথা নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে এসে পণ্য আমদানি ব্যয় ৭০০ কোটি ডলারের নিচে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৬৭৯ কোটি ডলার। আগস্টে এই ব্যয় আরও কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার পরিমাণ কমেছে। জুলাই মাসে ৬২২ কোটি ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭১ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। আগস্ট মাসে ৫৬৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। অর্থাৎ বিদায়ী মাসে এলসি খোলা পরিমাণ কমেছে ৫৭ কোটি ৪০ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩২ ডলার। শুধু তা-ই নয়, ২০২১ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে এলসি খোলা কমেছে প্রায় দুইশ’ কোটি ডলার। ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৭৪১ কোটি ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৬৮৫ ডলারের এলসি খোলেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিলাসবহুল পণ্য আমদানি কমাতে নানা উদ্যোগ ও কম প্রয়োজনীয় প্রকল্প কাটছাঁট করায় আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম  বলেন, বিলাসবহুল পণ্যে এলসি মার্জিন শতভাগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম পেলে তা আটকে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের পর নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ৩০ লাখ ডলারের বেশি হলে ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আমদানি বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিলাসবহুল পণ্যের পাশাপাশি কম প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি কমাতে এলসি মার্জিন বাড়ানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমিয়ে আনতে বিদেশ সফর কমানোসহ ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে কৃচ্ছ্রতার পথে হাঁটে সরকার। বিদেশ সফর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সবশেষে আগামী এক বছর ব্যাংকগুলোর গাড়ি কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গত কয়েক মাস থেকেই আমদানির পরিমাণ একটু একটু করে কমছে।

গত এপ্রিল থেকেই আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন গভর্নর যোগ দেওয়ার পরও তা অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে জুলাই ও আগস্ট মাসে এলসি নিষ্পত্তির (এলসি স্যাটেলমেন্ট) পরিমাণ কমেছে। যেটাকে সফলতা হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র বলছে, ২০২২ সালের জুন থেকেই এলসি খোলার পরিমাণ কমতে থাকে। গত জুনে ৮৩৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ৭৭ হাজার ২১৭ ডলারের এলসি খোলা হয়। যা জুলাই মাসেই ৬২২ কোটি ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭১ ডলারে নেমে আসে। আর আগস্টে তা আরও কমে ৫৬৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ডলারে নেমে আসে।

এদিকে জুলাই মাসের তুলনায় আগস্টে আমদানির ক্ষেত্রে এলসি (ঋণপত্র) নিষ্পত্তি কমেছে ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এলসি পেমেন্ট হয়েছে ৫.৯৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের মাসের ৭.৪২ বিলিয়নের চেয়ে অনেকটাই কম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব ধরনের পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কেবল দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানির জন্য ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্য পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এলসি মার্জিন আরোপ করায় এলসি পেমেন্ট ধীরে ধীরে কমে আসছে।

আমদানির জন্য এলসি খোলার পরিমাণ কমায় তা সামনের মাসগুলোতে ডলার সংকটে কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী আগস্টে আমদানিকারকরা ৫.৩১ বিলিয়ন ডলারের এলসি খুলেছেন, যা আগের মাসের ৬.২২ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৬৮৫ কোটি ডলারের। ফেব্রুয়ারিতে ৬৫৫ কোটি, মার্চে ৭৬৭ কোটি, এপ্রিলে ৬৯৩ কোটি, মে মাসে ৭২৫ কোটি, জুনে ৭৭৫ কোটি এবং জুলাই মাসে নিষ্পত্তি হয় ৭৬৬ কোটি ডলারের।

উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণ কমে আসতে থাকলে অর্থনীতি গতিশীল হতে শুরু করে। ওই সময় থেকে দেশে আমদানি বাড়তে থাকে। গত অর্থবছরে একপর্যায়ে যা একক মাসে আট বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুনে এলসি খোলা যেমন বেড়েছিল, তেমনি আগে খোলা এলসির পণ্য দেশে আসায় আমদানি দায় পরিশোধ করতে হয়েছিল ৮ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এপ্রিল থেকে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপের পর ওই মাস থেকেই এলসি খোলা কমে। ওই মাসে আগের মার্চের চেয়ে নতুন এলসি খোলার হার কমে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। মে মাসে তা এপ্রিলের চেয়ে কমে ১৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং জুনে এর আগের মাসের চেয়ে কমে ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

/এমআর/এমওএফ/
চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
মেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
আর্জেন্টিনার জয়ে ফেরামেসিকে পরীর চুমু, চঞ্চলের সংলাপ ‘বোঝনাই ব্যাপারটা’!
নারীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহিংসতাই অন্যতম বাধা
নারীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহিংসতাই অন্যতম বাধা
যেভাবে জানা যাবে এসএসসি ও সমমানের ফল
যেভাবে জানা যাবে এসএসসি ও সমমানের ফল
সর্বাধিক পঠিত
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী