দেশের আর্থিক খাত দীর্ঘদিন ধরে গুটিকয়েক ব্যক্তির একচ্ছত্র প্রভাব ও চরম দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যাংকের মালিক, সে-ই আবার সংসদ সদস্য, হোটেল ও টেলিভিশনের মালিক। সব খাতে তাদের আধিপত্য ছিল। তবে আমরা এখন সে অবস্থা থেকে কিছুটা মুক্ত হয়েছি। আসল মুক্তি তখনই আসবে, যখন এ অবস্থা আর পুনরাবৃত্তি হবে না। সবাই যেন সমান সুযোগ পায়, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে।’
সোমবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকরা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও যোদ্ধারা।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অল্প সময়ের জন্য এসেছি। সংস্কারের জন্য যতটুকু পারছি, চেষ্টা করছি। গত ১৫ বছরে প্রতিষ্ঠান, প্রক্রিয়া ও মানুষ সব কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। এত বছরের জমে থাকা পাথর সরাতে সময় লাগবে। ভালো লোক পাওয়া কঠিন হলেও, এখনও সোনার মানুষ আছে—তাদের নিয়েই এগোতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর্থিক খাত একসময় আইসিইউতে ছিল। এখন সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে। দেশের অর্থনীতি এখন কেবিন পেরিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময় এসেছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমরা আর্থিক খাতকে আগের সংকটাপন্ন অবস্থায় যেতে দেবো না। সংস্কারের মাধ্যমে এ খাতকে শক্তিশালী করতে চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যপদ্ধতি বদলানো হবে, যেখানে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা হবে। নিজস্ব শক্তিও বাড়াতে হবে। তবেই সফল হওয়া সম্ভব।’
আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের স্বার্থই দেশের স্বার্থ। এদের নিরাপত্তা দিতে পারলেই সামগ্রিক অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখা যাবে।’
আলোচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক বলেন, ‘মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল বলেই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। তাই এ দিবসকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলা হয়। শহীদ ও আহতদের ঋণ শোধ করা না গেলেও তাদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের দায়িত্ব। আর্থিক খাতের সংস্কার করতে পারলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব হবে।’








