পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়লো, কেজি ১১০ টাকা!

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২২:৪৫, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:১১, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭

 

onionদেশের বাজারে আবারও বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ।  প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ১১০ টাকা। এ ছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। গত মাসে (নভেম্বরে) প্রতি কেজির দাম ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। অথচ গত এই সময়ে (ডিসেম্বর) প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৬০ টাকা। এদিকে, বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে, তবে তার পরিমাণ খুব বেশি নয়। রাজধানীর কাওরান বাজার ও শ্যামপুর কাঁচা বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বন্যায় পচে যাওয়াসহ আমদানির পর  বাজারজাত সমস্যার কারণে পেঁয়াজের সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট কাটাতে কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় অস্বাভাবিকভাবে দামও বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম বাড়ে। তবে গত বছর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও এ বছর এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। কোরবানির সময় বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের দাম আর নাগালের মধ্যে আসেনি। উল্টো বাড়তে বাড়তে ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ বছর দেশে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। এরপরও কেন দাম বাড়ছে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে কমে যাবে পেঁয়াজের দাম।’

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে। আর দেশি পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা।  

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আড়ৎদাররা বেশি দামে বিক্রি করছেন। আমাদেরও বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া আমাদের তো কোনও রাস্তা নেই। পাইকারি দাম বেশি হলে খুচরাপর্যায়ে দাম বাড়েই। যার প্রভাব ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ে। যা খুবই স্বাভাবিক।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাবে দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছরে ২০ থেকে ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। রমজান মাস ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে এ চাহিদা  আরও বাড়ে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। বাকিটা আমদানি করতে হয়। যা বেশিরভাগই প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, পেঁয়াজের চাহিদার ৬০ ভাগ দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করে মেটাতে হয়।

এদিকে, দেশে গড়ে প্রতি মাসে পেঁয়াজের চাহিদা এক লাখ ১৫ হাজার টন। এর মধ্যে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এছাড়া রোজার মাস ও কোরবানির সময় দেড় থেকে দুই লাখ টন বাড়তি পেঁয়াজের চাহিদা তৈরি হয়। এ চাহিদাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে ওঠে সিন্ডিকেট। এবারের রোজায় পেঁয়াজ নিয়ে কোনও কারসাজি না হলেও কোরবানি ঈদকে টার্গেট করেছে অসাধু চক্র।

জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। ২/৪ দিনের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। আর পুরনো পেঁয়াজ তো শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, তাই হয়তো সেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।’ তবে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অযৌক্তিক পেঁয়াজের দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ও আমদানি মূল্য বিবেচনায় নিলে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বাবদ ব্যবসায়ীদের খরচ পড়েছে ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা। দেশে পেঁয়াজের বিদ্যমান মজুদ দিয়ে পুরো ডিসেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যাবে।

এদিকে সরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, গত এক মাসে দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশেরও বেশি। দেশে বর্তমানে তাহেরপুরি, বারি পেঁয়াজ-১ (তাহেরপুরি), বারি পেঁয়াজ-২ (রবি মৌসুম), বারি পেঁয়াজ-৩ (খরিপ মৌসুম), স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরি জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন করা হয়। ফলে বছরজুড়েই কোনও না কোনও জাতের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। এ কারণে নির্দিষ্ট কোনও মৌসুমে এসে পেঁয়াজের সরবরাহ কমার আশঙ্কা কম।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর কাওরানবাজারের একজন ব্যবসায়ী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজারে দেশি পেঁয়াজ আছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।’ দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে দাম এত বাড়তো না বলেও তিনি মনে করেন।

 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ