আইএফসি-ইআরএফের কর্মশালাকর্মসংস্থান সহায়ক প্রবৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার পরামর্শ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৪৬, এপ্রিল ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫১, এপ্রিল ২১, ২০১৯

আইএফসি-ইআরএফের কর্মশালামোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি যেভাবে বাড়ছে, কর্মসংস্থান ওইভাবে বাড়ছে না। ফলে আগামীতে কর্মসংস্থান সহায়ক প্রবৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

রবিবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারের ইআরএফের নিজস্ব কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। কর্মশালার বিষয়বস্ত ছিল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যান্ড বাংলাদেশ।

ইআরএফের সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইএফসির সিনিয়র ইকোনমিস্ট ড. মাসরুর রিয়াজ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য খোন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম, বিশ্ব ব্যাংকের বেসরকারিখাত বিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ ববি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ফার্স্ট সেক্রেটারি মো. গিয়াস কামাল ও ইউকে এইডের প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজর মুশফিক ইবনে আকবর। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কর্মশালাটি আগামীতে আরও কয়েকটি পর্বে চলবে। দ্বিতীয় পর্বের বিষয় থাকবে দেশের বাণিজ্যনীতি। এছাড়াও অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা হবে এই কর্মশালায়।

কর্মশালায় ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের (জনসংখ্যার বোনাসকাল) মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবছর বাংলাদেশে ২০ লাখ শ্রমবাজারে আসছে। কিন্তু, ওইভাবে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হয় এই ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিবছর ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসছে, কিন্তু এর অধিকাংশই পুনর্বিনিয়োগ। কিন্ত, নতুন বিনিয়োগ আসছে না। রফতানি বেড়েছে, কিন্ত বাংলাদেশের মতো জনসংখ্যার দেশে রফতনি আরও বাড়ানো জরুরি।’

খোন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, ‘কাস্টমস থেকে কত সহজে পণ্য খালাস করা যায়, সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। আমাদের প্রত্যাশা দ্রুতই একাজে সফলতা আসবে।’

আবুল কাশেম বলেন, ‘সহজে ব্যবসা করার সূচকে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ব্যাংকের ইজ অব ডুইং বিজনেস রিপোর্টে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাশের দেশগুলোর মধ্যে বন্দরের জটিলতায় সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশে আমদানি করা পণ্য কাস্টমসে খালাস করতে ৩৬০ ঘণ্টা সময় লাগে। আর রফতানি করা পণ্য জাহাজীকরণে সময় লাগে ৩১৫ ঘণ্টা। কিন্তু, দক্ষিণ কোরিয়ায় আমদানি পণ্য ৭ ঘণ্টা এবং রফতানি পণ্য জাহাজীকরণে মাত্র ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে। ভিয়েতনামে আমদানি ১৩২ এবং রফতানিতে ১০৫ ঘণ্টা সময় লাগে।

সাইফ ইসলাম দিলাল বলেন, ‘সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে ইআরএফের এই ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির বড় অংশই বিশ্ব বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। এই বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে কর্মশালার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়।’

কর্মশালায় ইআরএফের ৮০জন সদস্য অংশ নেন।

 

 

/এসআই/এনআই/

লাইভ

টপ