কেবল বাতিতেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়?

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:৩১, জানুয়ারি ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৩, জানুয়ারি ০৯, ২০২০

বাতিহলুদ বাতির (ইনক্যান্ডিসেন্ট লাইট) দিন ফুরিয়েছে। কমপ্যাক্ট ফ্লোরোসেন্ট ল্যাম্প (সিএফএল)-এর মতো প্রযুক্তিকেও পেছনে ফেলে বাজারে এসেছে ‘লাইট এমিটিং ডায়োড’ (এলইডি) বাতি। আর এই বাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচে গত এক দশকে সাধারণ মানুষ যেভাবে সচেতন হয়েছেন, সেভাবে অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে তারা সচেতন হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে এসব বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ব্যবহারে গ্রাহককে সচেতন করা সম্ভব হয়নি।

টেকসই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) বলছে, বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মান উন্নয়নে তারা স্টার লেবেলিং করতে চায়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া মাঠপর্যায়ে এগোয়নি। অসচেতন গ্রাহকরা শুধু কম মূল্যে নিম্নমানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকৌশলী ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘বাতির বিষয়ে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। কিন্তু শিল্প খাতে এসি, ফ্রিজ, ওভেন, আয়রনের মতো বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের বিদ্যুৎ নেওয়ার লোড অনেক বেশি। এক্ষেত্রে সাশ্রয়ের কোনও উদ্যোগ এখনও দেখা যায়নি। দুই-একটি কোম্পানি ভালো মানের যন্ত্রাংশ আনলেও বেশিরভাগেরই মান ভালো নয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কোনও অপশনই সেখানে নেই।’ তিনি বলেন, ‘বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এমন যন্ত্রের মূল্য কম, মানও খারাপ। না বুঝেই বেশিরভাগ মানুষ তা ব্যবহার করছে।’

ইজাজ বলেন, ‘স্রেডা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেগুলো এখনও সব বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে সাধারণভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে শুধু বাতির কথাই সাধারণভাবে চিন্তা করা হচ্ছে। কিন্তু বাতির চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলোয়। সেগুলোকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করতে হলে মানের ক্ষেত্রে বিষয়টিতে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি কিছু নীতিমালাও করা দরকার।’

স্রেডা বলছে, সাশ্রয়ী নীতি নিলে ২০২১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ১৫ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।

দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগই আবাসিক খাতে ব্যবহৃত হয়। আবাসিক খাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে জ্বালানি দক্ষতার লেবেলিং কর্মসূচি চালু করা। স্রেডা জাতীয় জ্বালানি দক্ষতার স্টার লেবেলিং কর্মসূচি চালু করার পক্ষে। স্টার লেবেলিং হলে বাজার থেকে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ উঠে যাবে। এর ফলে আমদানি বা তৈরির ক্ষেত্রে একটি মান-নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সাশ্রয়ী যন্ত্রাংশ ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের কম বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে। আর একই কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকারেরও লোকসান কমবে।

স্রেডার কর্মকর্তারা জানান, একটি ১৫ ওয়াটের হলুদ বাতি যে পরিমাণ আলো দেয়, একই পরিমাণ আলো পেতে সিএফএল বাতিতে ৩ ওয়াট আর এলইডি বাতিতে প্রয়োজন হয় মাত্র এক ওয়াট বিদ্যুৎ। অর্থাৎ সাধারণ বাতির তুলনায় এলইডি বাতি ১৫ গুণ বেশি সাশ্রয়ী। গত এক দশকে দেশে ব্যাপকভাবে সিএফএল ও এলইডি বাতির চাহিদা বেড়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কম হওয়ার বাতির ক্ষেত্রে যেভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে, অন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সেভাবে কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।

শুধু বাতি নয়, টেলিভিশন ও কম্পিউটার মনিটরেও এখন এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ টেলিভিশন সেট ও কম্পিউটর মনিটরের তুলনায় এলইডিতে কম বিদ্যুৎ খরচ হয়।

একইভাবে সাধারণ এসির তুলনায় ইনভারটার এসি ৬০ ভাগ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এই প্রযুক্তির এসি ব্যবহার করলে সাধারণ এসির তুলনায় ৬০ ভাগ বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। দেখা গেছে, ইলেকট্রিক ফ্যান, ইলেকট্রনিক ব্যালাস্ট, ইনডাকশন মোটরেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। কিন্তু গ্রাহক এসব বিষয়ে তেমন সচেতন নয়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে একদিকে নেই প্রচারণা, অন্যদিকে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের মূল্যও বেশি। এসব কারণে সাধারণ মানুষ এসব বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কেনায় তেমন আগ্রহী হয় না বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ