এক বছর ভ্যাট স্থগিত চান গার্মেন্ট মালিকরা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ০৬:১০, এপ্রিল ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১০, এপ্রিল ০২, ২০২০

বিজিএমইএ

বিশ্বব্যাপী  ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে গার্মেন্টস শিল্পে ভ্যাট এক বছর স্থগিত রাখার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লেখা এক চিঠিতে বিজিএমইএ’র সভাপতি  রুবানা হক এ অনুরোধ করেছেন। গত ২৫ মার্চ পাঠানো চিঠিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভ্যাট না দেওয়াসহ বেশ কিছু  সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে  রুবানা হক বলেন, টিকে থাকার জন্য এই মুহূর্তে আমরা সরকারের কাছে সহায়তা চাই। এর মধ্যে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট দাবিনামা এক বছরের জন্য স্থগিত চেয়েছি আমরা।

এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গার্মেন্টস মালিকদের কারখানা চালু রাখতে গিয়ে যেসব ক্ষেত্রে ভ্যাট দিতে হয় আপাতত তা এক বছরের জন্য  স্থগিত রাখা জরুরি।

এনবিআরের চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভ্যাট সংক্রান্ত দাবিনামা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখতে হবে। এছাড়া আপদকালীন সময়ে বন্ড অডিটের জন্য দলিলাদি জমার সময়সীমা এক বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রফতানি চালানের বিপরীতে বন্ডিং মেয়াদ অতিরিক্ত এক বছর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়া আপদকালীন সময়ে উদ্ভূত চলমান দাবিনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা, পরবর্তীতে আপদকালীন সময়ে উদ্ভূত দাবিনামা ও জরিমানা মওকুফ করা এবং তৈরি পোশাক শিল্পে ভ্যাট দাবিনামা এক বছর স্থগিত রাখতে হবে।

বিজিএমইএ’র চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ ভাইরাসকে বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা তাদের বর্তমান ক্রয়াদেশগুলো স্থগিত করছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ ক্রয়াদেশ কমিয়ে ফেলেছে। যার কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ১০ শতাংশ রফতানি হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত টিকিয়ে রাখতে হলে কাস্টমস সংক্রান্ত জরুরি নীতি-সহায়তা প্রয়োজন।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারা সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে না পারার কারণে ধার্যকৃত জরিমানা আদায় যেন এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়। একইভাবে আগামী এক বছর রফতানি বিলম্বিত হতে পারে, সে কারণে সব ধরনের তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলেছে সংগঠনটি। এছাড়া রফতানি পণ্য ক্রেতারা গ্রহণ না করে দেশে ফেরত পাঠালে শর্তহীনভাবে বন্ডের আওতায় ফেরতের অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে গার্মেন্ট শিল্পের সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। ফলে সময়মতো কাঁচামাল আমদানি করা যাবে না। যে কারণে ক্রয়াদেশ বাতিল হবে। আর আগের আমদানিকৃত পণ্য চালান দ্বারা তৈরিকৃত পোশাক রফতানি করতে না পারায় স্টক লট সৃষ্টি হবে। সময়মতো বার্ষিক অডিট সম্পন্ন করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময়ে বন্ড লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে তৈরি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কারণে দাবিনামার উদ্ভব হবে। কাস্টমস আইনের বিধি-বিধান পালনে ব্যর্থ হওয়ার জন্য জরিমানা-শুল্ক ধার্য করা হবে। এসব উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এড়াতে আইনগত সহযোগিতা চেয়েছে বিজিএমইএ।

বিজিএমইএর চিঠির ব্যাপারে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা  বলেন, বিজিএমইএ’র চাহিদার যৌক্তিকতা জানতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটকে চিঠি দেওয়া হবে। তাদের মতামত নিয়ে এনবিআরের শীষ পর্যায়ে পর্যালোচনা হবে। তারপর অর্থমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

/এমআর/

লাইভ

টপ