ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিল চাইলো ডিসিসিআই

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:০৪, এপ্রিল ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৬, এপ্রিল ০৩, ২০২০




 ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জরুরি তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এই দাবির কথা তুলে ধরা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্পখাত (এমএসএমই), ট্রেডিং নির্ভর ব্যবসা, পরিবহন ব্যবসা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, মুদি দোকান, অপ্রচলিত খাত যেমন ভাসমান অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানপাট মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।

এ অবস্থায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন এমএসএমই এবং অপ্রচলিত খাতের সুরক্ষায় বেতনাদি পরিশোধের সুযোগ করে দিতে ডিসিসিআই সরকারকে ১ শতাংশ সুদে ৩ বছর মেয়াদি একটি জরুরি তহবিল গঠন করতে বিশেষভাবে আহ্বান জানায়। যে সব এমএসএমইর বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকা তাদের জন্য ১ শতাংশ, আর যে সব এমএসএমইর বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি টাকার ওপর তাদের জন্য ২ শতাংশ সুদ হারে উক্ত তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডিসিসিআই।

ডিসিসিআই বলছে, বিসিক শিল্প নগরীর অন্তর্ভুক্ত কারখানাসমূহও এ বিশেষ জরুরি তহবিলের আওতায় আসতে পারে। আর এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এসএমইর জন্য এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ারও কথা বলেছে ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি।

ঢাকা চেম্বার মনে করে ফরমাল (প্রচলিত) ও ইনফরমাল (অপ্রচলিত) খাতে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ (এমএসএমই) অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে এই এমএসএমই’দের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক এমএসএমই সীমিত বেচা-কেনা ও পুঁজি সংকটের কারণে খুব খারাপ সময় অতিবাহিত করছে। তাদের অনেকেই সময়মতো শ্রমিক এবং কর্মচারীদের বেতনাদি পরিশোধ করতে পারছে না। এ দুঃসময়ে ঢাকা চেম্বার সরকারকে স্থানীয় এমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা পরিচালনা ও এমএসএমই’র সুরক্ষায় স্বল্প এবং মধ্য মেয়াদি আর্থিক, অনার্থিক নীতিপরিকল্পনানির্ভর সহায়তা প্রদান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

এমএসএমই’র ক্ষেত্রে অনাদায়ী দেনাসমূহ আদায় হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করে সংগঠনটি। এ কারণে ডিসিসিআই এমএসএমই’র জন্য ঋণের সুদ আগামী ১ বছরের জন্য মওকুফ করার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি ডিসিসিআই এমএসএমই’র অর্থায়ন সহজলভ্য করতে স্বল্প সুদে এবং সহজতর জামানত শর্তে বিদ্যমান পুনঃঅর্থায়ন (এসএমই রিফিন্যান্সিং) তহবিলকে পূর্ব-অর্থায়ন (এসএমই প্রিফিন্যান্সিং) তহবিলে রূপান্তরের সুপারিশ করছে।

ডিসিসিআই বলছে, বেশিরভাগ এমএসএমই ভাড়া করা জায়গায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে। এ কারণে বিসিক শিল্প নগরী বা ইপিজেড এলাকায় অবস্থিত, সরকার তাদের ভাড়া ছয় মাসের জন্য মওকুফ করতে পারে। একইভাবে বাণিজ্যিক ভাড়া, বিদুৎ, গ্যাস ও পানির বিল এবং লাইসেন্স নবায়নের ওপর প্রযোজ্য ভ্যাট আগামী ছয় মাসের জন্য মওকুফের আবেদন জানায় সংগঠনটি।

তাছাড়া আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে যেমন খাদ্য, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি, রফতানিমুখী উৎপাদনকারী কারখানার ক্ষেত্রে সরকার অগ্রিম কর (এটি) ও ভ্যাট আগামী ছয় মাসের জন্য অব্যাহতি দিতে পারে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বন্দরের সীমিত কার্যক্রম বিবেচনায় রফতানিমুখী ও আমদানীকারক এমএসএমই ব্যাবসায়ীদের জন্য বিলম্ব জরিমানা ও ব্যাংক চার্জ মওকুফের আহ্বান জানায় ডিসিসিআই। এছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ তহবিল গঠনের জন্যও ডিসিসিআইর পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

/জিএম/টিটি/

লাইভ

টপ