চার শতাংশ সুদে শাকসবজি চাষেও ঋণ পাবে কৃষক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৫৩, এপ্রিল ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১২, এপ্রিল ২৭, ২০২০

 

বাংলাদেশ ব্যাংকচার শতাংশ সুদে এখন থেকে শাকসবজি চাষেও ঋণ পাবেন কৃষক। একইসঙ্গে ধান, গম, শস্য, অর্থকরী ফসল চাষের জন্য কৃষক যাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন, সে জন্য একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে। গাইডলাইনটি দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

গাইডলাইনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামীতে খাদ্যের উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে কৃষি খাতে শস্য ও ফসল চাষের জন্য কৃষক পর্যায়ে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ সরবরাহ করা অত্যাবশ্যক। উল্লেখ্য, আমদানি বিকল্প ফসল (ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা) চাষ করার জন্য কৃষক পর্যায়ে ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষিঋণ বিতরণের জন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা রয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি বিকল্প ফসলের পাশাপাশি কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত ধান, গমসহ সব দানাশস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি ও কন্দাল ফসল চাষের জন্যও সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় কৃষক পর্যায়ে প্রণোদনা হিসেবে ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষিঋণ বিতরণ করার নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকৃত সুদ-ক্ষতি বাবদ ৫% হারে সুদ-ক্ষতি পুনর্ভরণ সুবিধা প্রাপ্য হবে।

স্কিমের নাম: ‘নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় শস্য ও ফসল খাতে ৪% রেয়াতি সুদ হারে কৃষি ঋণ প্রদান।’

স্কিমের মেয়াদ: এ স্কিমের মেয়াদ হবে ১ এপ্রিল ২০২০ থেকে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত।

ঋণের সুদের হার: এ স্কিমের আওতায় কৃষক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪%। উক্ত সুদ হার চলমান এবং নতুন ঋণগ্রহীতা উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। তবে ৩০ জুন, ২০২১-এর পর চলমান ঋণের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বাভাবিক সুদ হার প্রযোজ্য হবে।

ঋণ বিতরণ ও আদায়: কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত ধান, গমসহ সব দানাশস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি ও কন্দাল ফসল চাষের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো পূর্ববর্তী বছরগুলোর ন্যায় নিজস্ব উৎস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত তাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কৃষক পর্যায়ে ৪% হার সুদে ঋণ বিতরণ করবে। এক্ষেত্রে, ব্যাংকগুলো তাদের প্রকৃত সুদ-ক্ষতি অনুযায়ী ৫% হারে সুদ-ক্ষতি পুনর্ভরণ সুবিধা প্রাপ্য হবে।

শস্য ও ফসল চাষের জন্য রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে উল্লিখিত ঋণ নিয়মাচার এবং অন্যান্য নীতিমালা, যেমন—কৃষক প্রতি ঋণের সর্বোচ্চ সীমা, জামানত, আবেদনপত্র গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের সময়কাল, ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা নিরূপণ, পাস বইয়ের ব্যবহার, ঋণ বিতরণ, ঋণের সদ্ব্যবহার, তদারকি ও আদায় ইত্যাদি যথারীতি প্রযোজ্য হবে। এ স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে ৪% সুদ হার নিশ্চিত করতে হবে।

এই নির্দেশনা গত ১ এপ্রিল কার্যকর বলে গণ্য হবে।

/জিএম/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ