তিতাসে তোলপাড়

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ২০:৫৬, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৬, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

তিতাসতিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৌশলী এবং কর্মচারীদের যৌথ আন্দোলনের ঘোষণায় এখন জ্বালানি বিভাগ উল্টো জামিনের চেষ্টা করছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে গ্রেফতারকৃতদের জামিনের আশ্বাস দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিনভর নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ বিকালে আন্দোলন স্থগিত করে বাড়ি ফিরে গেছেন তিতাসের কর্মীরা।

তিতাস সূত্র বলছে, আন্দোলনের ঘোষণার পর দুপুরে তিতাসে ছুটে যান জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান এবং পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুল ফাত্তাহ। ওই বৈঠকে গ্রেফতার প্রত্যেককে জামিনের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি তিতাসে গিয়েছিলাম। ওদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। ওদের কিছু দাবি ছিল। আমরা বলেছি সেগুলো পূরণ হবে। দাবি ছিল জামিনের। আগামীকালের মধ্যে জামিন হয়ে যেতে পারে বলে আশা করি। তবে যেহেতু মামলা হয়েছে সেহেতু বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায়ই যাবে।

এদিকে তিতাসের এই গ্রেফতারের ঘটনায় তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) নেতারা সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিবিএ সভাপতি কাজিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ৩ দিন সময় দিয়েছি। আমাদের লোকেরা যদি নির্দোষ হয় তাহলে তিন দিনের মধ্যে জামিন দিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন জামিনের চেষ্টা করবেন। যদি নির্দোষ হয় তাহলে বিচার তো হবে না। ওই সিবিএ নেতারা প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, তারা যে দোষী তার কোনও প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। ঘুষের বিষয়েও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাহলে আমাদের লোকদের এভাবে গ্রেফতার কেন করা হলো? অভিযোগ তো তিতাসও করেছে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে। তাদের তো গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনে যাবো আমরা।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারের বিষয়টি বিধিসম্মত হয়নি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। রবিবার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং আইন মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন জ্বালানি সচিব।
অন্যদিকে তিতাসের এই ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)। বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সরকারের ঘোষিত ভিশন-২০২১, ভিশন-২০৪১ এবং ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে প্রকৌশলীরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ করছি, দেশে সুনামের সঙ্গে কর্মরত প্রকৌশলীরা বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন, মানসিক অত্যাচার, গ্রেফতার, রিমান্ড, এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকারও হচ্ছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া ফৌজদারি আসামি না হওয়ার পরও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৪ প্রকৌশলীকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করে এবং দুই দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করা হয়, যা সারা দেশের প্রকৌশলী সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন আইইবির নেতারা। একইসঙ্গে এসব প্রকৌশলীর দ্রুত সময়ের মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে আইইবি সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। আমাদের প্রকৌশলীরা দেশের প্রায় সব প্রান্তে কাজ করে যাচ্ছেন। এই করোনা মহামারির এই সময়েও ঘরে বসে নেই তারা। স্বাস্থ্য খাতের পর বড় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন প্রকৌশলীরা। তাদের এভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই হাতে হাতকড়া দিয়ে গ্রেফতার করা অন্যায়। তিনি বলেন, কেউ যদি দোষী হয় তার বিচার হবে। তাতে আমাদের কিছুই বলার নেই। মসজিদের এই ঘটনায় যে তদন্ত কমিটিগুলো হয়েছে তাতে শুধু তিতাসের প্রকৌশলীদের কথাই বলা হয়নি, গ্রাহক, মসজিদ কমিটি, বিদ্যুৎ, রাজউকসহ নানা বিষয় এসেছে। কিন্তু গ্রেফতারের সময় শুধু প্রকৌশলীদেরই কেন গ্রেফতার করা হলো। তারা কি চোর? তারা দেশের জন্য কাজ করেন। আমরা দ্রুত তাদের জামিনের দাবি জানাই।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি মাইনুল হাসান নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় তিতাসের আট জনকে গ্রেফতারের কথা জানান। এই আট জনকে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে তিতাস গ্যাস। এরা হলেন, তিতাসের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক মাহমুদুর রহমান রাব্বি, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মুনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, হেলপার মো. হানিফ মিয়া, কর্মচারী মো. ইসমাইল প্রধান। এরা সবাই রিমান্ডে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জন মারা গেছেন। একজন বাড়ি ফিরলেও ২ জন রয়েছেন হাসপাতালে।

/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ