বাপেক্স: পরিকল্পনা করতেই সময় পার, কাজ হয় না

Send
সঞ্চিতা সীতু
প্রকাশিত : ১৩:০০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০০, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

বাপেক্স

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) তাদের পরিকল্পনার নাম দিয়েছে রূপকল্প। কিন্তু গত কয়েক বছরে বারবার সেই রূপকল্পে আনা হয়েছে পরিবর্তন। রূপকল্প-১, ২, ৩ এমন করে বারবার আনা হয়েছে পরিবর্তন। আবার সেই পরিবর্তনের পরেও লেখা হয়েছে দ্বিতীয় সংশোধন, তৃতীয় সংশোধন। প্রশ্ন উঠেছে, ‘বাপেক্স আসলে কি শুধু পরিকল্পনাই করে, নাকি কাজের কাজও কিছু করে?’

জানতে চাইলে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী প্রথমে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি না হলেও পরে বলেন, আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো কাজ করছি।

২০১৩ সালের পর থেকে গত সাত বছরে ৮ বার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদল হয়ে আরেকজন যোগ দিলেই বাপেক্স তার রূপকল্প পরিবর্তন করেছে।

বাপেক্সের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রূপকল্প-১ খনন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বন্ধনী চিহ্নের মধ্যে লেখা হয়েছে ২য় সংশোধনী। অর্থাৎ এর আগেই এই রূপকল্পে একবার সংশোধন আনা হয়েছে। এখানে দুটি গ্যাস কূপ খননের উল্লেখ রয়েছে। শ্রিকাইল এবং সালদা নদীতে। এরমধ্যে একটি কূপে বাপেক্স কোনও গ্যাস পায়নি বলে উল্লেখ করেছে।

একইভাবে রূপকল্প-২ এর খনন প্রকল্পের ক্ষেত্রেই একটি সংশোধনীর কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ রূপকল্পটি প্রণয়নের পর একবার ইতোমধ্যেই সংশোধন হয়ে গেছে। এখানেও সেমুতাং এবং জকিগঞ্জের দুটি কূপ খনন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এরমধ্যে সেমুতাং-এ একটি বিদেশি কোম্পানি কূপ খনন করেও গ্যাস পায়নি। অন্যদিকে জকিগঞ্জে বাপেক্স নিজেই কূপ খনন করছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

এভাবে রূপকল্প-৩ কে একবার সংশোধনের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানেও দুটি কূপের মধ্যে কসবা-১ এবং মাদারগঞ্জ-১ এর মধ্যে কসবা খনন করা হলেও কোনও গ্যাস পায়নি বাপেক্স। অন্যদিকে মাদারগঞ্জে বিদেশি কোম্পানি চুক্তি করলেও পরে তারা খনন না করে চুক্তি বাতিল করেছে।

গ্যাস পাওয়ার জন্য প্রথমবার কূপ খনন করলে সেটিকে বলা হয় অনুসন্ধান কূপ। একবার কোনও ক্ষেত্রে গ্যাস পেয়ে গেলে পরবর্তীতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খনন করা কূপগুলোকে বলা হয় উন্নয়ন কূপ। কূপগুলোর গ্যাস উত্তোলন কমে গেলে সেগুলোর সংস্কার করাকে বলা হয় ওয়ার্কওভার। শুধু অনুসন্ধান আর উন্নয়ন কূপে নয় ওয়ার্কওভারেও বারবার পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমদ ফারুক চিশতী বলেন, একের পর এক পরিকল্পনা করলে আর তা সংশোধন করে গেলে কাজের ধারাবাহিকতা থাকবে না। বাপেক্সের কাজের গতি বাড়াতে হলে দরকার সঠিক পরিকল্পনা। তিনি বলেন, রূপকল্প ১ এ ১০৮টি কূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়। যা বাস্তবসম্মত হয়নি। এতগুলো প্রকল্প একসঙ্গে নেওয়া ঠিক হয়নি। যে কয়টি কূপ তারা খনন করতে পারবে সেটুকুই পরিকল্পনা করা উচিত। বাপেক্সের এখন অনেক রিগ। রিগগুলো বসিয়ে রাখলে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি রিগ বাপেক্সের কাজে লাগানো দরকার। সে অনুযায়ী হিসেব করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা দরকার বাপেক্সের।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে যে বাপেক্সের জন্ম হয়েছিল তা বাপেক্স হয়ে উঠতে পারেনি। বাপেক্সকে অথর্ব প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ফেলার জন্যই এইসব পরিকল্পনা করা হয় আর বারবার তা সংশোধন করা হয় যাতে মাঝপথেই কাজ থেমে যায় আর তারা বলতে পারে, বাপেক্স পারছে না, তাদের কাজ বিদেশি কোম্পানিকে দাও। গ্যাসের দাম বাড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বাপেক্স যদি থার্ড পার্টির সঙ্গে কাজ করে তাহলে তাদের গ্যাসের দাম আইওসি থেকেও বেশি পড়বে। এতে এই দোহাইয়ে গ্যাসের দামও বাড়ানো যাবে বলে তিনি মনে করেন।

/এমআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X