X
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২২

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আগের মতোই শতকরা হিসেবে ১১ দশমিক ৫২ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।

১৫ লাখ টাকার বেশি হলেই মুনাফার হার কমে যাবে। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।

বিশেষ করে অবসরভোগী মধ্যবিত্তের আয় কমে যাওয়া নিয়ে সরকারের সাবেক আমলারাও এ নিয়ে সমালোচনা করছেন।

এমন বাস্তবতায় বিনিয়োগের এই স্লাব বা স্তর ১৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ টাকা হতে পারে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো’তে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রথম স্তরের সীমা বাড়তে পারে। এটি রিভিউ হলে অযৌক্তিক হবে না। এই স্লাব বা স্তর ১৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ হলে যৌক্তিক হবে।’

অর্থাৎ, যদি মুনাফার হার ও স্তর রিভিউ হয়, তাহলে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আগের মতোই ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান মনে করেন, প্রথম স্তর অন্তত ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো উচিৎ। তিনি বলেন, ‘পেনশন-ভোগী মধ্যবিত্ত ও বয়স্কা নারীদের সঞ্চয়পত্রের আয় দিয়েই চলতে হয়। এদের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। বিশেষ করে এই করোনাকালে এমনকি ধনী উদ্যোক্তাদের নানা রকমের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় এই ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর কথা বিশেষভাবে ভাবতে হবে। তাদের সঞ্চয়ের বিকল্প নির্ভরযোগ্য কোনও কর্মসূচি নেই বলেই এ কথা বলছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, একেবারে প্রান্তিক গোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম সীমারেখা ১৫ লাখ টাকা যথেষ্ট নয়। এর পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। পারলে দ্বিগুণ করা গেলে আরও  ভালো হয়।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে সঞ্চয় কর্মসূচির স্তর করা হয়েছে তিনটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম স্তর ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার, আর দ্বিতীয় স্তর ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা হার এবং তৃতীয় স্তর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের মহাপরিচালক মোছা. মাকছুদা খাতুন বলেন, কেউ ৪০ লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করলে তিনি নতুন নিয়মে প্রথম ১৫ লাখে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন, পরবর্তী ১৫ লাখে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন এবং এর পরবর্তী ১০ লাখে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

তিনি বলেন, কেউ যদি ১৫ লাখ টাকার কম কেনেন তাহলে তার হিসাব ১৫ লাখের মধ্যে (১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে) পড়বে। এর উপরে যে পরিমাণ অর্থই রাখুন না কেন এই ১৫ লাখের মুনাফা একবার এই হারেই পাবেন। কেউ ৩০ লাখের মধ্যে টাকা রাখলে বাকী ১৫ লাখের জন্য ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। অর্থাৎ কেউ ১৭ লাখ টাকা রাখলে ২ লাখের জন্য পরবর্তী ধাপের মুনাফা পাবেন। আর ৩০ লাখের উপরে যে পরিমাণ অর্থই রাখুন না কেন পরবর্তী অর্থের জন্য ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানোর ফলে বড় সঞ্চয়কারীদের অর্থাৎ মধ্যবিত্তের আয় কমে যাবে। প্রান্তিক বা ছোট সঞ্চয়কারীদের আয় অপরিবর্তিত থাকবে। কমবে প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়কারীদের আয়ও। এতে সার্বিকভাবে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হবে।

এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মুদ্রা বাজারে যে অস্থিরতা ছিল সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ফলে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দুই ডোজ টিকা নিশ্চিতের নির্দেশ
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দুই ডোজ টিকা নিশ্চিতের নির্দেশ
একই সাবস্টেশনে বার বার আগুন কেন?
একই সাবস্টেশনে বার বার আগুন কেন?
ই-কমার্সে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে কাজ করছে সরকার
ই-কমার্সে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে কাজ করছে সরকার
ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে অর্ধেক জনবলে
ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে অর্ধেক জনবলে
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দুই ডোজ টিকা নিশ্চিতের নির্দেশ
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দুই ডোজ টিকা নিশ্চিতের নির্দেশ
একই সাবস্টেশনে বার বার আগুন কেন?
উলন সাবস্টেশনে আগুনএকই সাবস্টেশনে বার বার আগুন কেন?
ই-কমার্সে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে কাজ করছে সরকার
ই-কমার্সে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দিতে কাজ করছে সরকার
ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে অর্ধেক জনবলে
ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান চলবে অর্ধেক জনবলে
ইসলামি ব্যাংকগুলো কি ঘুরিয়ে সুদ খায়?
ইসলামি ব্যাংকগুলো কি ঘুরিয়ে সুদ খায়?
© 2022 Bangla Tribune