চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকতা এস এম জিয়াউল হক বলেছেন, নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য একমাত্র ইন্স্যুরেন্সই উপযুক্ত মাধ্যম। যদিও অর্থনীতিতে বিমার অবদান মাত্র দশমিক চার শতাংশ। এই হার বাড়াতে হলে উন্নত দেশের ন্যায় ব্যাংক-ইসুরেন্সসহ আরও সাত আটটি চ্যানেলে পলিসি বিক্রি করতে হবে।
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিমা খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরামের (আইআরএফ) সদস্যদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চতুর্থ প্রজম্মের জীবন বিমা কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সহযোগিতায় রাজধানীর রামপুরায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এস এম জিয়াউল হক বলেন, ‘নতুন নতুন প্রোডাক্টের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিমার বাজার আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। চার্টার্ড লাইফ তার বাজার সম্প্রসারণে নতুন বেশ কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছে।’ প্রতিনিয়তই সেসব প্রোডাক্টের চাহিদা বাড়ছে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিমা কোম্পানিগুলোকে যেখানে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কম, সেখানে বিনিয়োগ করতে হয়। ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের প্রধান জায়গা হচ্ছে বন্ড। কিন্ত বন্ড থেকে যে আয় আসে সেটি খুবই অপার্যপ্ত। তাই ভালো রির্টানের জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চার্টার্ড লাইফের বিনিয়োগের প্রায় ৬০ শতাংশ রিটার্ন আসছে পুঁজিবাজার থেকে।’
নতুন কোম্পানি হিসেবে আমাদের এখনও বড় ধরনের কোনো বিমা দাবি পরিশোধ করতে হয়নি। তবে ২০২৫ সালের পর আমাদের বেশিরভাগ পলিসির মেয়াদ শেষ হবে। তখন আমাদের দাবি পরিশোধে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি। আমরা সেটিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যাতে চার্টার্ড লাইফ যেকোনও সময় স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারে।’
আইআরএফ সভাপতি গাজী আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন।
কোম্পানিটির প্রধান ফিন্যান্সিয়াল কর্মকর্তা মনজুর আহমেদ বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে বিমা। তবে সে ক্ষেত্রে সব কোম্পানিতে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থাকা জরুরি। বিমার পলিসি থাকলে কর সুবিধা পাওয়া যায়। এই তথ্যই অনেক নাগরিক জানেন না।’ বিমার সুবিধাগুলো সব নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিলে সবাই আগ্রহ পাবে বলে মনে করেন তিনি।
কোম্পানিটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ বলেন, ‘বিমা দাবি পরিশোধের হার ৭০ শতাংশের বেশি। মাত্র দুই-তিনটা কোম্পানির কাছে মার্কেটের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যারা ভালো করছে তাদের বিষয়ে গণমাধ্যম ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করলে বিমা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।’
চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যক্তিগত জীবন বিমা পলিসি এবং গ্রুপ জীবন বিমা পলিসি বিক্রি করে। বর্তমানে, কোম্পানিটি সারাদেশে ৩৫টি সেলস অফিস, ২৪টি শাখা অফিস এবং ১৫টি ইউনিট অফিসের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৪ কোটি টাকা এবং লাইফ ফান্ডের আকার ৪৯ কোটি টাকা।
২০২২ সালে চার্টার্ড লাইফ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এটির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ২৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৭.৫০ কোটি টাকা।








