সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংক রফতানিকারকদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তৈরি পোশাক খাত তীব্র সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রত্যাবাসিত রফতানি আয় (এক্সপোর্ট প্রসিড) থেকে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গভর্নর এ আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
গভর্নর বলেন, “সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে রফতানিকারকদের জরুরি আর্থিক চাহিদা মেটানো যায়। পরবর্তী সময়ে সমস্যাটির একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দুই শতাধিক রফতানিকারক ক্ষতিগ্রস্ত
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, বর্তমানে ২০০-এর বেশি পোশাক রফতানিকারক সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর কারণে চরম সমস্যায় পড়েছেন। তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট এতটাই প্রকট যে রফতানি আয় এলেও তা সময় মতো রফতানিকারকদের পরিশোধ করা হচ্ছে না। এমনকি নতুন লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলাও সম্ভব হচ্ছে না।”
এর ফলে অনেক কারখানা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সময়মতো দিতে পারছে না। এতে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে, যা শিল্প ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভাবমূর্তি সংকট ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
বিজিএমইএ নেতারা বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে অনেক কারখানা রুগ্ন শিল্পে পরিণত হবে। এতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে এবং দেশের প্রধান রফতানি খাত আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে গেলে বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে— যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের জন্য অশনি সংকেত।








