পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১২ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির নির্দেশ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:৪৯আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৯:৫৮

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ১২টি আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার ও আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে ৩২টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান পাচার হওয়া অর্থের উৎস শনাক্ত, আইনি সহায়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করবে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ওমর ফারুক খান বলেন, “কিছু ব্যাংক নেতৃত্ব দিয়ে অন্যদের সঙ্গে কনসোর্টিয়াম গঠন করবে। এরপর তারা আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার সংস্থাগুলোর সঙ্গে চুক্তি করবে। চুক্তি সম্পন্ন হলে উদ্ধার হওয়া অর্থ কীভাবে দেশে ফেরানো ও জমা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, বিশেষ সিআইডি প্রাথমিকভাবে পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১১টি দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীকে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে নাসা এবং এস আলম গ্রুপের নাম রয়েছে।

ওমর ফারুক খান বলেন, “আমরা নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের (এনডিএ) আওতায় এসব সংস্থার সঙ্গে কাজ করবো। কিছু প্রাথমিক আলোচনাও শুরু হয়েছে।”

এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “এই উদ্যোগটি কোনও একটি ব্যাংকের একক প্রচেষ্টা নয়, বরং একাধিক ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর উদ্যোগ।”

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১২টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছে এবং ব্যাংকগুলোকে এনডিএ সই করে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র জানায়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামও উঠে এসেছে। পাশাপাশি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপ, এস আলম, সিকদার, নাসা, ওরিয়ন, নাবিল ও সামিট গ্রুপের নামও তদন্তের আওতায় এসেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের উপকারে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থা—স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (এসটিএআর) ইনিশিয়েটিভ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ইন্টারন্যাশনা—বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের খোঁজে কাজ করেছে।

এগুলো ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

/জিএম/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
বাজেটের আগেই নতুন ধাক্কাবিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ায় মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ 
সর্বশেষ খবর
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী