দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উন্নয়নের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, “এই খাতের অগ্রগতি মানেই সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তাই সরকার ও বেসরকারিখাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয়: ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে তাসকীন আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিনের ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশের ঘাটতির কারণে শিল্পখাতে উৎপাদন কমেছে, বেড়েছে খেলাপি ঋণ এবং কমেছে বেসরকারিখাতে ঋণপ্রবাহ। বর্তমানে ব্যাংক খাতে তারল্যের ঘাটতি না থাকলেও—অতিরিক্ত তারল্য প্রায় তিন লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা—ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ছয় দশমিক শূন্য তিন শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।”
তিনি জানান, শিল্পখাতের মোট ঋণের প্রায় ৫০ শতাংশ অনাদায়ী এবং খেলাপি ঋণের হার ৩১ শতাংশের বেশি। একইভাবে এসএমই খাতের প্রায় ৩৫ শতাংশ ঋণ সময়মতো পরিশোধ হচ্ছে না। ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছে এবং ট্রেজারি বিলের মতো ঝুঁকিহীন বিনিয়োগে ঝুঁকছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ব্যাংক খাতের কাঠামোগত সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংক ও বেসরকারিখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি রফতানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পায়নে অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি ড. তিতুমীর বলেন, “একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনসহ আর্থিক খাতের বিভিন্ন আইনের সংস্কার প্রয়োজন। শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।” নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা বাড়ানোর আশ্বাস দেন উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, “বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।” আর্থিক খাতের সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থায়নের জন্য শক্তিশালী বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার এসএমই অর্থায়ন সহজ করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, যা দূর করা জরুরি।” বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা বলেন, “নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধা সৃষ্টি করছে। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর তথ্য বিনিময় ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।”








