শাকসবজির দাম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, “শাকসবজির দাম বেশি মনে হলেও উৎপাদন খরচের বিষয়টিও দেখতে হবে। কারণ, কৃষকেরও পেট আছে, সংসার আছে, বাঁচতে তো হবে।”
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কৃষিপণ্য রফতানি বাড়াতে কার্গো ভিলেজ, কোল্ড স্টোরেজ ও কুল রুমসহ বিমানবন্দরে বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রত্যেক দিন বাজার করি এবং ব্যাগ নিয়ে। মহাখালী বাজার আমার পরিচিত বাজার।”
বর্ষা মৌসুমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে কৃষিপণ্যের যে দাম আছে, এটা বৃষ্টির সিজন। এই সিজনে বিশেষ করে ভেজিটেবল উৎপাদন করা খুব সহজ কাজ না। পানি জমে গেলে গাছ মরে যায়। তার পর উৎপাদন খরচটাও একটু বেশি থাকে।
কাঁচামরিচের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের ফসল উৎপাদনে শেড তৈরি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল।”
সবজির কেজি দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক কেজি করলা ফলাইতে কয় টাকা খরচ হয়, একটু দেখেন না। কৃষকেরও পেট আছে, সংসার আছে, বাঁচতে তো হবে!”
উৎপাদন ও চাহিদার সমন্বয়ে গুরুত্ব
কৃষিপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন এখনো সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ কারণে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদন ও চাহিদার হিসাব আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমি যদি জানি আমার এই জেলায়, এই উপজেলায় ভেজিটেবলের চাহিদা আছে, সেই অনুযায়ী ওই এলাকার কৃষককে যদি উদ্বুদ্ধ করতে পারি—ভাই, তুমি এটা ফলাও, তোমার উপজেলায় এটা বিক্রি হবে। এর কিন্তু ক্যারিং কস্ট নাই।”
মন্ত্রীর মতে, কোন এলাকায় কোন কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে, সেই তথ্য অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করা গেলে কৃষকের পরিবহন খরচও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখা সহজ হবে।
উৎপাদন এলাকায় মিনি কোল্ড স্টোরেজ
কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে মিনি কোল্ড স্টোরেজের ধারণা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষক যে এলাকায় ফসল উৎপাদন করবেন, তার কাছাকাছি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা গেলে ফসল পরিবহনের ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, “কৃষক যেখানে ফলাবে, তার গ্রামে এসে কাঁধে ভারে, মাথায় নিয়ে কোল্ড স্টোরেজে নিয়ে রাখবে। কোনো ক্যারিং কস্ট নাই। তাহলে তার কস্টিংটা কমে যাবে। এই কনসেপ্ট নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, উৎপাদনস্থলের কাছাকাছি সংরক্ষণ সুবিধা তৈরি করা গেলে একদিকে কৃষকের ব্যয় কমবে, অপরদিকে কৃষিপণ্য দ্রুত সংরক্ষণ করে বাজারে সরবরাহের সময়ও আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।









