বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার থেকে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার নগদে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতদিন মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ডলার কেনা যেত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন মেটাতে এককালীন বিক্রির সীমা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারগুলো বিদেশগামী একজন বাংলাদেশি নাগরিককে তার প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার নোট ও মুদ্রা আকারে বিক্রি করতে পারবে।
এর আগে প্রচলিত নিয়মে একজন বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিককে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার মার্কিন ডলার বিক্রি করা যেত। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এককালীন নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনার সীমা ১ হাজার ডলার বাড়ল।
বার্ষিক কোটার অবশিষ্ট অংশও কেনা যাবে
সার্কুলারে বলা হয়েছে, একজন গ্রাহকের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ তার প্রযোজ্য কোটার পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে অন্যান্য অবাধে বিনিময়যোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য মুদ্রার নোট ও মুদ্রা আকারে বিক্রি করা যাবে।
অর্থাৎ, কোনো ভ্রমণকারীর বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার সুযোগ অবশিষ্ট থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রা মানি চেঞ্জারে পাওয়া গেলে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে তা কেনা যাবে।
তবে একবারে ৩ হাজার ডলার কেনার সুযোগ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, একজন ভ্রমণকারী তার পুরো বার্ষিক ভ্রমণ কোটা একবারে নগদে কিনতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার প্রযোজ্য বার্ষিক কোটার পরিমাণ, আগে কতটা ব্যবহার করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিদেশ ভ্রমণে নগদ ডলার সংগ্রহ সহজ হবে
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন মেটাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মের ফলে বিদেশ ভ্রমণের আগে বৈধ চ্যানেলে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে যেসব ভ্রমণকারীর ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটায় পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অবশিষ্ট রয়েছে, তারা মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে আগের তুলনায় একবারে বেশি ডলার সংগ্রহ করতে পারবেন।
ব্যাংক ও মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত আগের মতোই প্রযোজ্য থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এককালীন সীমা কিছুটা শিথিল হলো। এর মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে ভ্রমণকারীদের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো আরও সহজ হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।