X
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

২৩৮৬ গ্যাস সংযোগে এক কোম্পানি!

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২১, ১০:২৬

মাত্র ২ হাজার ৩৮৬টি সংযোগ, তার জন্যই আবার একটি পূর্ণাঙ্গ বিতরণ কোম্পানি। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় গ্যাস বিতরণের জন্য ১০ বছর আগে সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি গঠন করা হয়। কিন্তু ভোলার বাইরে দক্ষিণের আর কোনও জেলায় সেভাবে গ্যাস সংযোগ দিতে পারেনি কোম্পানিটি। শিল্প এবং বাণিজ্যিকে ব্যাপক চাহিদা থাকার পরও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি।

জালালবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ও ট্রান্সমিশন সিস্টেমের ২ লাখ ২১ হাজার ৪৫৪ বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ৪ লাখ ৯১ হাজার ৫৯১ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৩ পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৯১, কর্ণফুলীর ৬ লাখ ২ হাজার ৩৩৮টি গ্রাহক রয়েছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর লাখ-লাখ গ্রাহকের বদলে সুন্দরবনের গ্রাহক দুই হাজার ৫০০ অতিক্রম করেনি ১০ বছরে।

সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা নিজেদের মেলে ধরতে পারি না কথাটি ঠিক নয়। গ্যাসের স্বল্পতার কারণে আমরা গ্যাস দিতে পারছি না। ভবিষ্যতে গ্যাস পাওয়া কঠিন হবে জেনেও এই কোম্পানিটি করা হয়েছে। কেন এই ব্যয়ের বোঝা বাড়ানো হলো সে বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের নীতি নির্ধারকরাই ভালো বলতে পারবেন।

গ্যাস বিতরণ কোম্পানিটি ২১ জেলায় মাত্র পাঁচটি শিল্পে গ্যাস দিচ্ছে। দুটি বাণিজ্যিক, দুটি ক্যাপটিভ, পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ২ হাজার ৩৪৬ জন নন মিটার আবাসিক এবং ২৬টি মিটার ভিত্তিক আবাসিক গ্রাহককে গ্যাস দিচ্ছে।

কোম্পানি গঠনের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে একসময় খুলনা খ্যাতি লাভ করলেও গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী বিকশিত হতে পারেনি। উপরন্তু জ্বালানি স্বল্পতা ও উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার ফলে শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়ে। আর এই সমস্যার কার্যকরী সমাধানে সরকার দূরদর্শী ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে খুলনা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাস সরবরাহের উদ্দেশে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি গঠন করা হয়।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দক্ষিণ পশ্চিমের ২১ জেলায় বিতরণের কথা থাকলেও অধিকাংশ জেলাতেই গ্যাস বিরতণ নেটওয়ার্ক নেই। গ্যাস নেটওয়ার্ক করার জন্য লাইন পাইপ কেনা হলেও তা বসানো হয়নি, যা মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সত্যিকার অর্থে গ্যাসের সংকট রয়েছে। এখন যাও আছে আগামী কয়েক বছরে তা আরও প্রকট হবে। ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে গ্যাস পাঠানো একেবারে সম্ভব নয়। অন্যদিকে ভোলার গ্যাসও ভোলার বাইরে আনা সম্ভব নয়। ভোলা থেকে গ্যাস আনতে গেলে ভোলা-বরিশাল যে পাইপ লাইন নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল তার অর্থনৈতিক উপযোগিতা নিয়ে সন্দেহে রয়েছে পেট্রোবাংলা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, যে উদ্দেশে এই কোম্পানি করা হয়েছিল এখন আর সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আগামীতে গ্রাহক বৃদ্ধি পাওয়া বা গ্যাস বিতরণ এলাকা বড় হওয়ার যেহেতু সুযোগ নেই সেহেতু এ কোম্পানির বিষয়ে বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ সামনের দিনগুলোতে আমরা আমাদের দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস যতটা না পাবো তার চেয়ে অনেক বেশি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বো। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরাটাই আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ার শঙ্কা করছি আমরা। ফলে তখন আমদানি করা গ্যাসের দামেই আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে হবে এবং অবশ্যই এসব গ্যাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হবে। ফলে এই ধরনের কোম্পানির বিষয়ে এখনই সরকারের অর্থনৈতিক কারণেই চিন্তা করা উচিত।

/এমআর/ইউএস/
সম্পর্কিত
ইসলামি ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগ পাবেন যেভাবে
ইসলামি ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগ পাবেন যেভাবে
ডব্লিউসিও’র সার্টিফিকেট অব মেরিট পেলো ইআরএফ
ডব্লিউসিও’র সার্টিফিকেট অব মেরিট পেলো ইআরএফ
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদে আশঙ্কা দেখছে সিপিডি
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদে আশঙ্কা দেখছে সিপিডি
সিপিডির জরিপ: ব্যবসায় প্রথম বাধা দুর্নীতি
সিপিডির জরিপ: ব্যবসায় প্রথম বাধা দুর্নীতি
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
ইসলামি ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগ পাবেন যেভাবে
ইসলামি ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগ পাবেন যেভাবে
ডব্লিউসিও’র সার্টিফিকেট অব মেরিট পেলো ইআরএফ
ডব্লিউসিও’র সার্টিফিকেট অব মেরিট পেলো ইআরএফ
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদে আশঙ্কা দেখছে সিপিডি
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদে আশঙ্কা দেখছে সিপিডি
সিপিডির জরিপ: ব্যবসায় প্রথম বাধা দুর্নীতি
সিপিডির জরিপ: ব্যবসায় প্রথম বাধা দুর্নীতি
ইসলামি ব্যাংক ঋণ দেয় না, পণ্য বেচে
ইসলামি ব্যাংক ঋণ দেয় না, পণ্য বেচে
© 2022 Bangla Tribune