X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

পিছিয়ে গেলো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:০০

ডিসেম্বরে উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও রামপাল মৈত্রী সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসার সময়সীমা চার মাস পেছানো হচ্ছে। চলতি মাসেই কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও আগামী বছর মার্চ নাগাদ এটি উৎপাদনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকারী  ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি’ (বিআইএফসিএল) সূত্র বলছে, আর চার মাস নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের নির্মাণ শেষ হবে।

২০১২ সালে ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ একটি বৃহৎ কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে সম্মত হন। এরপর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এনটিপিসি) কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। উদ্যোগের নয় বছর পর কেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার সময় সীমা নির্ধারণ করা হলেও তা ঠিক রাখা সম্ভব হলো না। সাধারণত এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য কার্যাদেশের পর প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসতে ৩৬ মাস সময় প্রয়োজন হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে খবর রয়েছে তাতে দেখা গেছে কেন্দ্রটির কাজ শেষের দিকে। কেন্দ্র নির্মাণে এই দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিআইএফসিএল থেকে আমাদের জানানো হয়েছে অর্থ ছাড়ে দেরি হওয়ায় ও  করোনার কারণে নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না। তবে ভারতের ঠিকাদার কোম্পানি ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেড (ভেল) কাজ করতে দেরি করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

রামপালের তিন বছর পরে উদ্যোগ নিয়ে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রর দুটি ইউনিটই উৎপাদনে এসেছে। পায়রাতে একটি ১৩২০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট উৎপাদনে আসার পর সমান ক্ষমতার আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। যেটির ২০ ভাগ নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চীনের একটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার সময় চলতি মাসে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার মধ্যে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজে স্থবিরতা আসে। কেন্দ্রটি নির্মাণের দক্ষ শ্রমিক ভারত থেকে আনা হয়েছে। যারা মূলত কারিগরি দিকটি দেখে থাকে। তাদের আসা যাওয়াতেও সমস্যা ছিল। ফলে কেন্দ্রটি নির্মাণ কাজ মাঝে বেশ কিছুদিন অনেকটা বন্ধ ছিল। দেশীয় শ্রমিক দিয়ে যে কাজগুলো করানো সম্ভব তাই করানো হয়েছে। এখনও ভারত-বাংলাদেশ যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে বিশেষ ব্যবস্থায় শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়েছে।

সুন্দরবনের পাশেই কেন্দ্রটি নির্মাণ করায় পরিবেশবাদীদের তীব্র আপত্তি রয়েছে কেন্দ্রটি ঘিরে। তবে সরকারের তরফ থেকে বারবারই বলা হয়েছে এটিতে সুন্দরবনের পরিবেশের কোনও ক্ষতি হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ কেন্দ্রর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি  লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কাজী আবসার উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার কারণে আমাদের সব কাজের লোক এতদিন আসতে পারেনি। এখন অল্প অল্প করে আসতে শুরু করেছে আমরা কাজও শুরু করেছি। গত ৪ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানতে চান, ১৬ ডিসেম্বর চালু হবার কথা, এখনেও তো কাজ শেষ হয়নি। আসলে আমরা কবে নাগাদ কাজ শেষ করতে পারবো। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী মার্চে কাজ শেষ করার আশা করছি।  সচিব বলেন, মার্চ হলে সেটা যেন ২৬ মার্চের আগেই শেষ করা হয়। সুতরাং আমরাও তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

 

/এমআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ইসলামিক ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উপপরিচালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
ইসলামিক ফাউ‌ন্ডেশ‌নের উপপরিচালকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা
বিশেষজ্ঞদের মতে ইভিএম চমৎকার, অপেক্ষার কথা বললেন সিইসি
বিশেষজ্ঞদের মতে ইভিএম চমৎকার, অপেক্ষার কথা বললেন সিইসি
এক সংকল্প আর আত্মমর্যাদার নাম পদ্মা সেতু
এক সংকল্প আর আত্মমর্যাদার নাম পদ্মা সেতু
নওগাঁয় ২ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির টার্গেট 
নওগাঁয় ২ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির টার্গেট 
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত