সেকশনস

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৭

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ১২:০১

পূর্ব প্রকাশের পর

২০১০ সালে যখন হোটেল ম্যারিনা বে স্যান্ডস উন্মুক্ত করা হয় তখন এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টাকায় তৈরি একক ক্যাসিনো প্রপার্টি। জমিসহ এই প্রপার্টির তখন দাম ছিল ৫.৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার। হোটেলটিতে রয়েছে ২৫৬১টি রুম, ১৩ লক্ষ বর্গফুটের একটি এক্সিবিশন সেন্টার, ৮ লক্ষ বর্গফুটের একটি শপিং মল, ৭টি সেলিব্রিটি শেফ রেস্টুরেন্ট, ১টি মিউজিয়াম, ১টি থিয়েটার, ২টি ফ্লোটিং ক্রিস্টাল প্যাভিলিয়ন এবং ৫০০ টেবিল ও ১৬০০ স্লট মেশিন সম্পন্ন দুনিয়ার সর্ববৃহৎ ক্যাসিনো। এছাড়া স্কাইপার্ক তো আছেই। সিঙ্গাপুরের দুটো ক্যাসিনোর অপরটি সেন্তোশায় ক্রকফোর্ডসে অবস্থিত, আগেই বলেছি। সম্পূর্ণ প্রপার্টি ২০ হেক্টর জমির উপর দাঁড়ানো। সিঙ্গাপুরে ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্টস নির্মাণের আরও অনেক প্রস্তাবই ছিল। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে ২০০৬ সালে গেন্টিং গ্রুপের প্রস্তাব অনুমোদন পায় সেন্তোশার জন্য এবং লাস ভেগাস স্যান্ডস কর্পোরেশনের প্রস্তাব অনুমোদন পায় ম্যারিনা বে-তে। অন্য সব থেকে যা আয় হোক না হোক, এই প্রপার্টি ক্যাসিনো থেকে বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে। এই ক্যাসিনোতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০০০ জুয়াড়ির আসর বসে। সিঙ্গাপুরের জিডিপিতে ০.৮% অবদান হোটেল ম্যারিনা বে স্যান্ডসের। এর স্থাপত্য শিল্পী ছিলেন একজন ইজরাইলি, নাম মোশে সাফদি। সিঙ্গাপুর চাঙ্গি এয়ারপোর্টের অন্যতম ডিজাইনারও তিনি। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছিল কোরিয়ার স্যাঙ্গিয়ং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন (Ssangyong Engineering and Construction)।

হোটেল ম্যারিনা বে স্যান্ডস থেকে বের হয়ে এবার আমাদের গন্তব্য কোনো এক ম্যাকডোনালস। কারণ দুনিয়া জোড়া নিম্নবিত্তদের জায়গা হলো ম্যাকডোনালস বা সাবওয়ে। ম্যারিনা বে স্যান্ডসে অন্তত ৪৫টি রেস্টুরেন্ট আছে। তার কোনোটাই আমার পকেটের উপযোগী না। ‘কাট বাই ওলফগ্যাঙ পাকে’ দেখলাম ১৭০ গ্রাম গরুর মাংসের স্টিকের দাম ২৫০ ডলার। তা দিয়ে বাংলাদেশে এখনো ছোটখাটো একটা আস্ত গরু কেনা যায়। গুগলে ম্যাকডোনালস সার্চ দিয়ে গুগল নির্দেশিত পথে হাঁটতে লাগলাম। পথটা গার্ডেনস বাই দি বে-এর ভিতর দিয়ে। গার্ডেনে আমাদের দেশি শ্রমিকের অভাব নেই। তাই পথেও কোনো সমস্যা নেই। শেষে গুগল বাদ দিয়ে বাংলাদেশি ভাইদের নির্দেশনা মতোই মিনিট পনেরো-বিশের মধ্যে খুঁজে পেলাম ম্যাকডোনালস। ছেলেমেয়েদেরকে বসিয়ে রেখে গিয়ে দাঁড়ালাম অর্ডার দেয়ার কিউতে। গজাল দেশ থেকে বিদেশে গেলেও যে একই রকম গজাল থাকে সে বিষয়ক বরিশালের গল্প আশা করি আপনাদের স্মরণ করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। মনে না থাকলে আমাকেই পথে-ঘাটে আরেকবার দেখে নিয়েন। দীর্ঘ লাইনে ১৫ মিনিটের মতো দাঁড়িয়ে যখন প্রায় কাউন্টারের কাছে এসেছি তখন দেখি আমি যে কাউন্টারে দাঁড়িয়েছি সেটি বার্গারের কাউন্টার নয়, সেটি আইসক্রিমের কাউন্টার। গজালের নিয়মিত যা হয় তা-ই হলো। এবার গিয়ে কাউন্টারের লেখা পড়ে তারপরে সঠিকটায় দাঁড়ালাম। এবার অবশ্য আর পড়া লাগতো না, কারণ কাউন্টার তো তৃতীয় আরেকটা ছিল না। যাই হোক, বার্গার নিয়ে যখন ছেলেমেয়েদের কাছে গিয়ে হাজির হলাম তখন দেখি তারা তাদের মোবাইলে এতক্ষণের তোলা ছবি নিয়ে এত ব্যস্ত যে, তারা টেরই পায়নি আমার কত সময় লেগেছে বার্গার নিয়ে হাজির হতে। তবে আমি যে, উদাহরণযোগ্য গজাল তা আমার ছেলেমেয়েরা তার মায়ের বর্ণনায় ঠিকঠাক জানে বলেই আমি এই নতুন গল্পটিও তাদের কাছ থেকে গোপন করলাম না। তারা অবশ্য কিছু মনে করলো না।

বিকাল চারটার দিকে মূলত আমাদের লাঞ্চ শেষ হলো। এবার আমাদের গন্তব্য সুপারট্রি গ্রোভ। সুপারট্রি সত্যিকারে কোনো ট্রি বা গাছ নয়। এগুলো স্টিল স্ট্রাকচারের এক একটি বিশাল গাছের খাচা। সে খাচার চতুর্দিক দিয়ে বেয়ে উঠেছে প্রচুর ফার্ন, লতা ও অর্কিড। এগুলোয় ঢেকে আছে বলেই খাচাগুলোকে পুরোপুরি ডালপালা মেলে দেয়া বিশাল বৃক্ষ বলে মনে হয়। গার্ডেনস বাই দি বে-তে এরকম ১৮টি সুপারট্রি আছে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চটি ৫০ মিটার উঁচু এবং সর্বনিম্নটি ২৫ মিটার। এদের ভিতর দিয়ে লিফটে দর্শনার্থীরা উপরে উঠে যায় এবং বড় সুপারট্রিগুলোকে সংযোগকারী ওয়াকওয়েতে দর্শনার্থীরা হাঁটতে পারে। এই সুপারট্রিগুলোয় বসানো আছে সৌর বিদ্যুতের বড় সরঞ্জামাদি যা দিয়ে গার্ডেন বাই দ্য বে-তে পরিবেশ-বান্ধব অনেক কিছু করা হয়। এমনকি এগুলো ফ্লাওয়ার ডোম ও ক্লাউড ফরেস্টের ভিতরের আবহাওয়া রক্ষার ক্ষেত্রেও কী-যেন জটিল সব ভূমিকা-আদি পালন করে। রাতে এগুলোকে সাজানো হয় বিচিত্র সব আলোতে যা দূর থেকে পুরো গার্ডেন বাই দি বে-কে অনিন্দ্য এক সৌন্দর্যের লীলাভূমি করে তোলে। রাতের সেই অনিন্দ্য সৌন্দর্য উপভোগের আগেই সন্ধ্যায় আমাদেরকে ৬১০১৭৭ লিখে ডাকতে হলো গ্রাবের ক্যাব, কারণ আমরা অত্যন্ত ক্লান্ত। 

অনেক ক্লান্তি এবং প্রতিদিনের পার্টি কায়দার ডিনার ঘুমটাকে জব্বর বানিয়ে দেয়। ঘুম যতই জব্বর হোক উঠতে হবে খুব সকালে। কারণ পরের দিনের ভেন্যু হলো ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপ, ওদের ভাষায় ‘পুলাউ বাতাম’। আর এক নতুন দেশে গমন। তাই সকলের মধ্যেই একটা উত্তেজনা ছিল। সেই উত্তেজনায় পরের দিন সকলেই একটু সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলো। আমাদের সাথে যাবে বায়জিদ। আগের দিন বাতাম ফেরির টিকেট কেটে রাখা হয়েছে। প্রতি টিকেট ৫০ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার। একটি সেভেন সিটার গাড়িতে আমরা সকাল সকাল চলে গেলাম হারবার ফ্রন্ট। অনেক চেষ্টা করেও প্রথম ফেরি পেলাম না। কারণ, টিকেট কনফার্মেশন আর ইমিগ্রেশন মিলে হারবার ফ্রন্টেও অনেক সময় চলে যায়। সুবিধা হলো টিকেট কনফার্ম করা থাকলে এক ফেরি মিস করলে পরের ফেরিতে যেতে কোনো সমস্যা নেই। ধীরে-সুস্থে ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য ফরমালিটিজ শেষ করে আমরা পরের ফেরিতে উঠলাম। সম্ভবত সকাল ৯টায় ফেরি ছেড়ে দিলো।

ফেরি মানে যানবাহন পার করার জলযান নয়। মানুষ পরিবহণের জাহাজ। ফেরির নাম ‘বাতাম ফাস্ট’। ফেরির সিট সবই একই ক্লাসের। সিটের কোনো ইতর বিশেষ নেই, তবে ফেরির ছোট বড় আছে। আমরা যেটি পেলাম এটি আকারে ছোট। দেড়শোর মতো সিট। দুই ফ্লোরই সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বাতাম ফাস্ট ফেরি তাদের অপারেশন শুরু করেছে ১৯৮৫ সালে দুটি ফেরি দিয়ে। বর্তমানে তাদের বহরে ১৫টি ফেরি রয়েছে। সবই যাতায়াত করে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝে। সিঙ্গাপুরের হারবারফ্রন্ট, রিজিওনাল ফেরি টারমিনাল এবং তানাহ মেরা থেকে ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপের বাতাম সেন্টার, সেকুপাঙ এবং নংসাপুরায় বাতাম ফাস্ট ফেরি চলাচল করে। সমুদ্রস্রোত অনুকূল নাকি প্রতিকূল এর উপর ভিত্তি করে হারবার ফ্রন্ট থেকে বাতাম দ্বীপে যেতে বাতাম ফাস্ট ফেরিতে ৫৫ থেকে ৭০ মিনিট সময় লাগে। এর গতি ঘণ্টায় ২৮ নটিক্যাল মাইল যা প্রায় ৫২ কিলোমিটারের সমান। আমাদের দেশের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন গ্রিনলাইন ওয়াটার ওয়েজ ঢাকা থেকে বরিশাল ১৭০ কিলোমিটার নৌপথ যায় সর্বনিম্ন ৬ ঘণ্টায় এবং তাতে গ্রিনলাইনের গতিবেগ দাঁড়ায় ঘণ্টায় ২৮ কিলোমিটার। বোঝা যাচ্ছে বাতাম ফাস্ট ফেরি গ্রিনলাইনের দ্বিগুণ গতিবেগসম্পন্ন। এই দ্রুত গতিসম্পন্ন ফেরিতে এক ঘণ্টার মধ্যে নামলাম বাতাম সেন্টারে। এখানকার ইমিগ্রেশনে লাগলো আধ ঘণ্টার বেশি সময়। সব পার করে বের হয়ে আমার ছোট মেয়ে ফ্রেশ রুমে যাবে তাই ফ্রেশ রুম খুঁজছি। ফ্রেশ রুম কোন দিকে জানার জন্য টয়লেট, ফ্রেশরুম, ওয়াশ রুম, রেস্টরুম, বাথরুম এতসব বলে জনে জনে প্রশ্ন করছিলাম কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছে না দেখে যখন আমার প্রায় কাঁদ-কাঁদ অবস্থা তখন আমার মেয়ের মাথায় আসলো আরেক শব্দ ‘তানদাস’।  অমনি ছিছিম খুলে গেল। এবার যাকে জিগ্যেস করা হচ্ছে সেই দেখিয়ে দিচ্ছে জিনিসটি কোন দিকে। বুঝলাম মালয়েশিয়ার শব্দ এখানে অনেক চলে, কিন্তু ইংরেজি খুব চলে না।

এই অভিজ্ঞতা নিয়ে বের হলাম। বায়জিদ সিঙ্গাপুর বসেই দিনভর ঘোরার জন্য সেভেন সিটার গাড়ি একখানা ঠিক করে রেখেছিল। বায়জিদ ফোন করেই দেখলো গাড়ির ড্রাইভার আবাঙ ইদ্রিস আমাদের পাশেই প্রায় দাঁড়ানো। উঠলাম দিনভর বাতাম ঘোরার গাড়িতে। বাতাম উন্নয়নশীল একটি এলাকা। ভৌগোলিকভাবে এটি ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জ প্রদেশের অন্তর্গত। এখানে প্রদেশের চেয়ে বড় হলো রিজিয়ন। ইন্দোনেশিয়ায় বর্তমানে ৩৪টি প্রদেশ রয়েছে যা ৭টি রিজিয়নের অধীন। বাতাম হলো রিয়াউ প্রদেশ এবং সুমাত্রা রিজিয়নের অন্তর্গত। এটি সুমাত্রা রিজিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। এটা সিটি মেয়রের শাসনাধীনে পরিচালিত হয়। বর্তমান মেয়রের নাম মোহাম্মদ রুদি। এই সিটি মেয়রের অধীন তিনটি শহর বাতাম, রেমপাঙ ও গালাঙ একত্রে বারেলাঙ নামে পরিচিত। ড্রাইভার প্রথমেই আমাদের নিয়ে চললো পাহাড়ের উপর বিশাল করে লেখা WELCOME TO BATAM সাইনটি দেখাতে। সামনে বিশাল একটি খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে অনেকেই এমনভাবে পোজ দিয়ে ছবি তুলছে যাতে মনে হয় লোকটি সাইনটি তার হাতের উপরে ধরে আছে। এরপরই আমাদের গন্তব্য বারেলাঙ ব্রিজ। বারেলাঙ ব্রিজ যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশের ছোট ছোট দোকানপাট, জীর্ণ টঙের উপরের বাংলাদেশি চায়ের দোকানের মতো দোকানঘর ইত্যাদি দেখিয়ে বায়জিদ আমার বাচ্চাদেরকে বার বার বলে যাচ্ছিলো—‘দেখ, দেখ, বরিশাল’ কিংবা ‘দেখ, দেখ, বাংলাদেশ’। সত্যিই জীর্নতায় ও দীনতায় সেগুলো বাংলাদেশের ঘরবাড়িই মনে হচ্ছিলো। ঘণ্টাখানেকের কম সময়ে আমরা পৌঁছে গেলাম বারেলাঙ ব্রিজ।

ইন্দোনেশিয়ার বাতামে লেখক, তাঁর ছেলেমেয়ে ও ছোট ভাই বায়জিদ

বারেলাঙ ব্রিজ মূলত একটি ব্রিজ নয়, ছয়টি ব্রিজের একটি কমন নাম। বারেলাঙ ব্রিজ নামের এই ছয়টি ব্রিজের মাধ্যমে বাতাম, রেমপাঙ ও গালাঙ নামক তিনটি দ্বীপকে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ছয়টি ব্রিজের মধ্যে আমরা যে ব্রিজটি দেখতে গিয়েছি সেটি সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু। এটির মূল নাম টেংকু ফিসাবিলিল্লাহ ব্রিজ। দু’পাড়ের ৩৫৪ ফুট উঁচু দুটি পিলারের (pylon) সাথে ৬৪২ মিটারের এই ব্রিজটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। কমনভাবে এই ছয়টি ব্রিজকে বারেলাঙ ব্রিজও বলা হয়, আবার জেমবাতান হাবিবি বা হাবিবি ব্রিজও বলা হয়। ড. ইউসুফ হাবিবি তিনটি দ্বীপকে সংযোগের এই ব্রিজগুলোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে সাধারণ মানুষ সাধারণত এগুলোকে হাবিবি ব্রিজ বলে থাকে। যে-ই একবার বাতাম যায় সে-ই একবার হাবিবি ব্রিজগুলোর সবচেয়ে বড়টি অর্থাৎ টেংকু ফিসাবিলিল্লাহ ব্রিজ দেখতে যায়। গিয়ে দেখলাম অনেক মানুষ। কেউ পিকনিকে এসেছে, কেউ আমাদের মতো ঘুরতে এসেছে। ব্রিজের পিলারের গোড়ায় বিভিন্ন সুদৃশ্য নৌকা আছে আগ্রহীদেরকে নদীতে ঘোরানোর জন্য। অবশ্যই ব্যাপক টাকার বিনিময়ে। আমাদের বরিশালের লোকজনের সে আগ্রহ শূন্য না জেনে ওরা পিকিউলিয়ার ইংরেজিতে আমাদেরকেও অনেক আহ্বান করলো নৌকায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য এবং শেষে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেল। ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় হয়তো নিজ ভাষায় দুটো গালিও দিলো, যা আমরা বুঝিনি বলে রেগে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি।

বারেলাঙ ব্রিজ, বাতাম

বারেলাঙ ব্রিজ থেকে বাতাম শহরে ফিরে এসে শহরে গাড়ি চালানোর সময় আমাদের ড্রাইভার আবাং ইদ্রিস আমাদের কাছে তার কষ্টে উচ্চারিত ইংরেজিতে কয়েকবার জানতে চাইলো আমরা ‘মসিউম’ দেখতে যাবো কিনা। আমরা ভাবলাম ‘মসিউম’ মানে মসজিদ। তাই বললাম ‘চলো’। কিন্তু সে আবার বললো, ‘না, মসিউম’। ইদ্রিসের ইংরেজি বোঝার জন্য আমাদের ভরসা ছিল বায়জিদ। কিন্তু তাকেও এবার বেশ বিপন্ন মনে হলো। তখন আমার বড় মেয়ে যার লিসনিং স্কিল আমার মতোই খারাপ সে-ই ‘ইউরেকা’ ধ্বনি তুলে বলে দিলো ‘মিউজিয়াম’, ‘মিউজিয়াম’। দেখলাম ইদ্রিস জমিদারের মতো ঠান্ডাভাবে মাথা নাড়ালো, অর্থাৎ আমার মেয়ে ঠিকই ধরতে পেরেছে। আমরা তখন বললাম যে, আমরা মিউজিয়ামে নয়, মসজিদে যাবো। সে আমাদেরকে এক দীর্ঘ মিনারওয়ালা মসজিদে নিয়ে গেল। সেখানে আমরা জোহরের নামাজ পড়লাম। নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের ব্যাপারে মসজিদটি দেখলাম কাবা শরীফের মতোই, নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই, অবাধ যাতায়াত। মালয়েশিয়ার মসজিদের মতো মহিলাদের নামাজের জায়গাও একেবারে আলাদা নয়। জাস্ট পুরুষদের কয়েক কাতার পিছনে তারা দাঁড়িয়ে যায়। আমাদের খাস-পর্দার জিগিরতোলা বড় বড় হুজুরদের ঐ মসজিদে একবার নিয়ে গেলে নাউজুবিল্লাহ বলে তারা মসজিদ থেকেই হয়তো বের হয়ে যেতেন। চলবে

আরও পড়ুন : সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৬

//জেডএস//

সম্পর্কিত

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৫

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৫

তিস্তা জার্নাল | পর্ব চার

তিস্তা জার্নাল | পর্ব চার

তিস্তা জার্নাল | পর্ব তিন

তিস্তা জার্নাল | পর্ব তিন

তিস্তা জার্নাল | পর্ব দুই

তিস্তা জার্নাল | পর্ব দুই

তিস্তা জার্নাল | পর্ব এক

তিস্তা জার্নাল | পর্ব এক

সিঙ্গাপুর সায়েরি | শেষ পর্ব

সিঙ্গাপুর সায়েরি | শেষ পর্ব

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৯

সিঙ্গাপুর সায়েরি | পর্ব-০৯

সর্বশেষ

পাপড়ি ও পরাগের ঝলক

পাপড়ি ও পরাগের ঝলক

আমার হৃদয়ে তার সোনালি স্বাক্ষর

আমার হৃদয়ে তার সোনালি স্বাক্ষর

মায়া তো মায়াই, যত দূরে যায়...

মায়া তো মায়াই, যত দূরে যায়...

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

তিস্তা জার্নাল । পর্ব ৬

দুটো চড়ুই পাখির গল্প

দুটো চড়ুই পাখির গল্প

থমকে আছি

থমকে আছি

সালেক খোকনের নতুন বই ‘অপরাজেয় একাত্তর’

সালেক খোকনের নতুন বই ‘অপরাজেয় একাত্তর’

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

আমরা এক ধরনের মানসিক হাসপাতালে বাস করি : মাসরুর আরেফিন

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ


[email protected]
© 2021 Bangla Tribune
Bangla Tribune is one of the most revered online newspapers in Bangladesh, due to its reputation of neutral coverage and incisive analysis.