পাশের বাসায় সিমি অঙ্কে ৯৮ পেয়েছে, তুমি কেন ৯৫ পেলে? বাবলু কি সুন্দর ইংরেজিতে সবসময় কথা বলে, তুমি কেন বাংলায় কথা বলো? দু’জনেই তো একই ক্লাসে পড়ো! অমুক এই পারে তুমি কেন পারো না? অমুক সেই পারে তুমি কেন পারো না? ‘এই কেন পারো না’ বা অমুকের বাচ্চা এই পারে বা কী কী প্রাইজ পেলো, সেই কথা ছাড়া আমরা মা-বাবারা বাচ্চাদের সঙ্গে কয়টা কথা বলি? দামি স্কুলে বা বেশি বেতনের গৃহশিক্ষক রেখে আমরা সব সময় বাচ্চাদের বেশি নম্বর পাওয়ার পেছনে ছোটাচ্ছি। বাচ্চা কম নম্বর পেলে তাকে দিনরাত উঠতে-বসতে কথা শোনাচ্ছি। বকার সঙ্গে সঙ্গে মার দিতেও দ্বিধা করছি না। রাতদিন প্যানপ্যান করি প্রথম তোমাকে হতেই হবে। যেকোনও মূল্যে সন্তানের নম্বরপত্র ওজনদার চাই। এ জন্য আমরা মরিয়া হয়ে ছুটছি। এই ছোটার জন্য দায়ী আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা।
কিছুদিন আগে আমার এক পরিচিতা তার মেয়েকে জোর করছেন ডাক্তারি পড়ার জন্য, সেই মেয়ের ইচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইনে পড়ার। কিন্তু মা-বাবা চান, বড় জনের মতো ছোট দুজনও ডাক্তারি পড়ুক। আরেকজন নিজে আইনজীবী, তিনি চান তার সন্তান তার মতো আইন পেশায় আসুক। তিনি জানেন, মেয়ের পড়াশোনায় তেমন মন নেই, তার আগ্রহ ফ্যাশন ডিজাইনে। নিজের পছন্দের সাবজেক্টে পড়তে না পেরে, বা জোর করে পড়ানোর ফল কী হয়, তা ভেবে দেখি না। সোশ্যাল স্ট্যাটাস নির্ভর করে আজকাল বাচ্চার রেজাল্টের ওপর! কিন্তু মা-বাবার ইচ্ছের আগে খুব কম সন্তানই তার পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারে আমাদের সাবকন্টিনেন্টে। সব বাচ্চা তো সমান মেধাবী হয় না। কিন্তু তারা কিছু না কিছুতে মেধাবী হয়, কেউ ভালো ছবি আঁকে, কেউ ভালো গান গায়। কেউ তুখোড় বক্তা, কেউ ভালো সাঁতারু, কেউ ভালো খেলাধুলায়, কেউ রান্না করে অসাধারণ, কেউ ডিজাইনে দারুণ, কেউ নাচে দুর্দান্ত। আমাদের মা-বাবা ও শিক্ষকদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের মেধার এদিকটা খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ অভিভাবক বাচ্চাদের সিলেবাসভুক্ত বইয়ের বাইরে অন্য বই পড়তে দেন না। বাবা-মা ভাবেন, তাতে নাকি মনে বাজে চিন্তা ঢুকবে? অনেকে আবার মনে করেন পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য বই পড়া সময়ের অপচয়। এই মনে করার জন্য দায়ী আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা।
এই বাচ্চারা স্কুলে কী শেখে? তা কি জানার বা যাচাইয়ের সুযোগ আছে? কিংবা পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে কি শিক্ষকরা আলোচনা করেন গার্ডিয়ানদের সঙ্গে? বাচ্চাদের মেধা খুঁজে বের করেন তারা? কোন বাচ্চা কোন সাবজেক্টে ভালো বা পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের অন্য কোনও মেধা আছে কিনা, আজকালকার স্কুলে কি দেখা হয়? বাচ্চার গার্ডিয়ানর কি এই ব্যাপারে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন বা বলতে পারেন? আমরা শুধু প্রশ্ন তুলি, এই বাচ্চাগুলো জিপিএ বা এ+ বা গোল্ডেন জিপিএ পেলো কেমন করে? যারা সাধারণ জ্ঞান বা সিলেবাসের বাইরে কেন কিছু জানে না। এর জন্য দায়ী আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা।
সব বাবা-মা চান তাদের সন্তান যেভাবে হোক পরীক্ষায় ভালো নম্বর নিয়ে আসু্ক, ভালো নম্বর না পেলে ভালো স্কুলে/ কলেজে/ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হতে পারবে না। ভালো স্কুলে/ কলেজে/ইউনিভারসিটি থেকে বেশি নম্বর নিয়ে পাস না করলে বা মেধা তালিকায় না থাকলে ভালো চাকরি পাবে না। ভারো চাকরিই হয়ে ওঠে মূল কথা। ভালো সেলারির চাকরি দেবে সন্তানকে সচ্ছল জীবন। সন্তানের নিরাপদ-সচ্ছল জীবন চাওয়া এই বাবা-মার কি দোষ দেওয়া যায় সন্তানকে দাবড়িয়ে বেড়ানো হায়েস্ট মার্কের জন্য? দোষ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার।
ঢাকায় আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন একজন শিক্ষক, তিনি রাজশাহী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন, অসুস্থ হওয়ার কারণে ঢাকায় থাকতেন। আমাদের বিল্ডিঙে ফ্ল্যাট কেনেন। তার স্ত্রী রাজশাহীর একটি কলেজে পড়াতেন। ঢাকায় তিনি একটি স্কুলে জয়েন করেন। মাঝে মাঝে তিনি সময় পেলে আসতেন। ঢাকায় বেড়াতে এলেই তিনি আসেন। দুই বছর আগে মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার সময় ঢাকায় ছিলাম। সেই খাল আম্মা আসেন। গল্পের এক পর্যায়ে কথা ওঠে ফল নিয়ে। জিজ্ঞাসা করি আমাদের সময় ৫০ টিক দিয়েও বাকি ৫০ থেকে ৮০ তুলতে ঘাম ছুটে যেত। এখন এত গণহারে লেটার মার্ক বা এ+ পায় কেমন করে? ঘটনা কী? আপনারা সবার খাতা ঠিক করে দেখেন তো?
তিনি হাসতে হাসতে বললেন, এখন মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ আসে বেশি নম্বর দেওয়ার। না দিলে কপালে দুঃখ আছে, প্রতিবাদ করলে চাকরি নিয়ে টান পড়ে যাবে। ফেল করানো যাবে না। এই নির্দেশ না মানলে পর্যায়ক্রমে, তোমাকে বাদ দেওয়া হবে। প্রথমবার ১১ জন ফেল করেছিল আমার বিষয় ভূগোলে। আমাকে যাচ্ছেতাই অপমান করে আবার খাতা দেখে পাস নম্বর না শুধু, ৭৫% মার্ক দিতে হয়েছিল। সেই অপমান কোনওদিনই ভোলার না। চাকরিটা খুব দরকার, তাই বাধ্য হয়েছি মেনে নিতে। অবাক হই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় সরকার নিজের জনপ্রিয়তার জন্য একটা জাতিকে পক্ষান্তরে অশিক্ষিত করে তুলছে, করে তুলছে শিক্ষিত মূর্খ। শিক্ষার হারের অধিক নম্বর প্রত্যাশী সরকার, পিছপা নন যেকোনও দুর্নীতির মাধ্যমে পাসের হার বাড়াতে।
আমার শৈশবে স্কুলের স্মৃতিতে মনে পড়ে, তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস টিচার ছিলেন হাস্না আপা, তিনি আমাকে বললেন ইস, তোর হাতের লেখা এত খারাপ, পড়ায় যায় না। খাতা উঁচু করে সবাইকে দেখালেন, এক ক্লাস স্টুডেন্ট, হেসে গড়াগড়ি খেলো, আপা ওদের চুপ করতে বললেন। কারণ তিনি দেখেন আমার দুগাল বেয়ে ঝরছে জল। আপা সবার খাতা দেখা শেষ করে আমাকে ডেকে কোলে বসালেন, বললেন বোকা কি বোকারে কাঁদলি কেন? তুই তো উল্টা আমাকে বলবি, আমি হাতের লেখা ভালো করবই করব। হাতের লেখা ভালো করে সবাইকে দেখিয়ে দে। যারা দাঁত বের করে হাসছিল। কাল থেকে আমাকে এক পাতা করে হাতের লেখা দিবি, যা ইচ্ছেতাই লিখবি। ভালো হলে প্রাইজ থাকবে। আমি পরদিন থেকে ভালো করে লিখতে শুরু করি, পরদিন আপা আমাকে রুশ উপকথার একটা বই উপহার দেন। আপা আমাকে আদর না করলে হয়তো আমি লজ্জাই ওই স্কুলেই আর যেতাম না। আমার মা-বাবা আমাদের যার যা ইচ্ছে পড়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার উপকারিতা। নিয়ম ছিল সংবাদপত্র পড়ার। আমাদের বাসায় নিয়মিত আসতো ভারত বিচিত্রা, বিচিন্তা, আনন্দ বিচিত্রা, রহস্য পত্রিকা, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সসহ আরও কিছু দেশিবিদেশি সবগুলোর নাম মনে নেই। শুধু বিধিনিষেধ ছিল পরীক্ষার আগে গল্প-উপন্যাস বা অন্য কোনও বই পড়ার।
আমার মেয়ে এবার স্কুলে গেলো, তার স্কুলে যাওয়ার আগে থেকে চিন্তা ছিল কী পড়াবে? কিভাবে পড়াবে? বাচ্চা যে মুডি, বকা খায় কিনা বারেবারে। মেয়ে অনেক ইমোশনাল, প্রথমবারে মতো লম্বা সময়ের জন্য মা-বাবা ছাড়া অন্যদের সঙ্গে সময় কাটবে মিলমিশ হবে তো? একটুতেই গাল ফোলাই অভিমানে, কী যে হবে, ভেবে স্কুলে যাওয়ার সাত দিন আগে থেকেই আমাদের ঘুম হারাম। কিন্তু মেয়ে স্কুলে খুব খুশি, টিচারকে খুবই পছন্দ, স্কুল তার কাছে মোস্ট ফ্যান প্লেস। কিন্ডারগার্টেনে পড়ে, ক্লাসে, গল্পের মাধ্যমে টিচার পড়ান, ক্লাসে তারা স্মার্ট স্ক্রিনে মুভি দেখে, গান শোনে, পড়ে। কার্টুন দেখে। এই সব কিছুর মাধ্যমে বাচ্চারা পড়া শেখে। মিউজিয়ামে যায়, থিয়েটারে যায়, চিড়িয়াখানায় যায়, ফার্মে যায়। বোট্যানিক্যাল গার্ডেনে যায়। মিউজিক শুনতে যায়, সবই তাদের শেখার অংশ। বাচ্চার গার্ডিয়ানকে টাইম টু টাইম জানানো হয় ক্লাসে কী পড়ানো বা করানো হচ্ছে। ক্লাসের প্রতিটি গার্ডিয়ান টিচারের সঙ্গে গ্রুপ ইমেলের সঙ্গে যুক্ত। চারজন গার্ডিয়ান আবার ক্লাস প্যারেন্ট হিসেবে আছেন। তারা চাইলেই ক্লাসে থাকতে পারেন। নিউইয়র্কের সব পাবলিক স্কুলের কারিকুলাম একই। যা সিটি এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট ঠিক করে দেয়। টিচারদের পারফর্মেন্সের ওপর নির্ভর করে ভালো রেটিং স্কুল, খারাপ রেটিং স্কুল। এখানে গার্ডিয়ানরা বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচেন, পিছিয়ে পড়া বাচ্চাকে টিচারই চেষ্টা করেন এগিয়ে নিতে। প্রয়োজনে বারবার আলোচনা করেন গার্ডিয়ানের সঙ্গে। এখানে বাচ্চার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে শিক্ষকই মূখ্য ভূমিকা রাখেন।
স্কুল থেকে আমাকে আমাদের ডাকা হলো মেয়ে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আড়াই মাসের মধ্যে। আমি তো ভাবলাম নিশ্চয় মেয়ে জেদ করে কথা শোনেনি বা কিছুই পারে না। কিংবা দুষ্টুমি করেছে। আমরা ক্লাসে গেলাম ছুটির পর, মেয়ের টিচার আমাদের কাছে জানতে চাইলেন আইয়ান কিভাবে এত ভালো পড়ে। মাত্র পাঁচ বছরে এত নির্ভুল করে পড়ে কী করে? আমি জানাই, ওর পাঁচমাস বয়স থেকে আমরা ওকে বাচ্চাদের গল্প পড়ে শোনাতাম।আটমাস বয়স থেকেই ওকে বই কিনে দেওয়া শুরু করেছি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অক্ষর চিনতে না চিনতে পড়তে শিখে গেছে। সে পড়তে পছন্দ করে। টিচার জানান, আইয়ানের মতো ভালো রিডার গ্রেড ওয়ানেও কেউ নেই। সে ইনক্রিডিবল রিডার নির্বাচিত হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন ও ফাস্ট গ্রেডারদের মধ্যে। আমাদের খুব ভালো লাগল মেয়ের সাফল্যে। এরপর টিচার জানতে চাইলেন আমরা কেন ওকে জি এ টিতে ( গিফট অ্যান্ড ট্যালেন্টেড) দেইনি? আইয়ান বয়সের তুলনায় অনেক এগিয়ে, কিন্ডারগার্টেনে বদলে কেন আমরা তাকে গ্রেড ওয়ানে দেইনি? আমরা জানাই, আমরা চাইনি মাত্র স্কুলে এসেই পড়াশোনার বোঝা চেপে বসুক ওর ওপর। এ কারণে ওকে গিফট অ্যান্ড ট্যালেন্টেড প্রোগ্রামে দেইনি। টিচার জানান, আগামী বছর আমিই ওকে দিয়ে দেব গিফট অ্যান্ড ট্যালেন্টেড প্রোগ্রামে। আমরা জানাই, সেকেন্ড গ্রেড বা থার্ড গ্রেডে উঠে যদি তার আগ্রহ থাকে তাহলে দেব। এখন এত লেখাপড়ার চাপ দিতে চাই না আমরা। এখানে সাউথ এশিয়ান বিশেষ করে ইন্ডিয়ান গার্ডিয়ানরা গিফট অ্যান্ড ট্যালেন্টেড প্রোগ্রাম মিস করতে চান না। এখানের স্কুলগুলো প্রতিমাসে বাচ্চাদের রিকগ্নাইজ করে। এতে বাচ্চারা উৎসাহী হয়, গার্ডিয়ানরা উৎসাহী হন। স্কুলের সঙ্গে পরিবারগুলোর নিবিড় যোগাযোগ থাকে। রাজনীতির ছিটেফোঁটায় কলুষিত হয় না এখানকার শিক্ষাঙ্গন। মন্ত্রী, সাংসদ ও রাজনৈতিক নেতারা স্কুলগুলোকে অপব্যবহার করেন না।
আমাদের আইনপ্রণেতা ও শিক্ষার নীতিনির্ধারকদের আগে মান নির্ধারণ করা উচিত, তাদের অধিকাংশের যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, তার ফলেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বাচ্চাদের কাছে ভয়ঙ্কর লাগে। দিনের পর দিন সিলেবাস মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতা ভরিয়ে দিলে বা যাচ্ছেতাই লিখে দিলে নম্বর পাবার বিধি ব্যবস্থা তুলে দিতে হবে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবই বদলে যাওয়া বন্ধ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত প্রবাসীদের দেশের ন্যাশনাল কারিকুলাম অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট কনসালটেন্টদের একত্র করে কাজ করে, তাহলে অনেক ইতিবাচক ফল আসবে বলে মনে করি। যেকোনও পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলেই জিপিএ পাঁচ প্রাপ্তদের সংখ্যাবৃদ্ধি নিয়ে ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই ধরনের কথাই শোনা যায়। কথা বন্ধের জন্য মন্ত্রণালয় ভেবে দেখতে পারে, শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নিতে পারে শিক্ষা পরিকল্পনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ। পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষা সংগঠন পালন। শিক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা ও পরামর্শ দান। পরিকল্পনা অনুযায়ী গৃহীত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ। শিক্ষার সমসুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ। সময়োপযোগী কারিকুলাম ও শিক্ষা প্রশাসন গড়ে তোলা, শিক্ষা তথ্য সরবরাহ ও গবেষণা কর্ম পরিকল্পনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশি-বিদেশির সঙ্গে শিক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়ন, শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও যুক্তকরণ। সারাবিশ্বে যেখানে পরীক্ষা কমানো হচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশে পরীক্ষা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা না বাড়িয়ে শিক্ষার মান বাড়ানো জরুরি। সেই সঙ্গে জরুরি শিক্ষকের প্রশিক্ষণ। শিক্ষায় সৃজনশীলতার প্রয়োজন, শেখাতে, প্রশ্ন তৈরিতে ও শিক্ষার্থীও যেন সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে একইভাবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি পরিবারকেও দিতে হবে সময়। শুধু শিক্ষকের ওপর চাপ না দিয়ে পরিবারকেও পদক্ষেপ নিতে হবে যেন সন্তানের কাছে লেখাপড়াটা আনন্দদায়ক হয়।
লেখক: সাংবাদিক।
আরও পড়তে পারেন: ছেলেমেয়েরা কী শিখছে, সেটা জানা জরুরি



