X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

ভাস্কর্য, শিল্পকর্ম এবং মোল্লা প্রসঙ্গ

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৭, ১২:৪৯

নাদীম কাদির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু এ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কতটুকুই বা বহির্বিশ্বের কাছে প্রতিফলিত হয়? কতটুকুই বা তারা আমাদের সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারে?
আমরা গর্বিত, কিন্তু কেন? আমাদের শিল্প ভাণ্ডার কি বিশ্বের কাছে দৃশ্যমান?
সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভার পাশ দিয়ে আমি যখন হেঁটে আসছিলাম, তখন সেদেশের শিল্পীদের তৈরি সুন্দর সুন্দর ভাস্কর্যের ছবি তুলেছিলাম আমি। এক নগ্ন নারীর যে ভাস্কর্যটি রয়েছে তা এতোটাই শোভাময়, এতোটাই মিষ্টি। যদি যথাযথ দৃষ্টি দিয়ে আপনারা তা দেখেন তবে বুঝবেন এটি এক খণ্ড সৌন্দর্য। একটি শিল্পকর্ম। এক নগ্ন তরুণকে নিয়ে ঘোড়ার ভাস্কর্যটি মানুষের শক্তিমত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে। অবিশ্বাস্য!
আমি উপলব্ধি করেছি, এ ভাস্কর্যগুলো না থাকলে শহরটিকে ঢাকার চেয়ে নিষ্প্রভই মনে হত। শহরের বিভিন্ন অংশে স্থাপিত এসব ভাস্কর্য সৌন্দর্য বাড়িয়েছে এবং পর্যটকরা সেইসবের ছবি তুলে বাড়িতে নিতে পারছেন।
এ ধরনের কাজ এশিয়া ও প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেই দেখা যায়। ভারতে বিশাল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস। অন্য ধর্মীয় বিশ্বাসীদের পাশাপাশি মুসলিমরাও ভারতজুড়ে থাকা শিল্পকর্মের প্রশংসা করেন।
আমাদের দেশে মেধাবী শিল্পী রয়েছে। তাদের একজন এখন ইংল্যান্ডে বাস করেন। দিন দিন তার খ্যাতি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তার শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। ব্রিটেনে তিনি অনেক সংস্থার জন্য কাজ করেছেন। তাদের বাগান কিংবা পার্ক সাজিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশেও এরকম করতে কেন তাকে ডাকা হচ্ছে না?
তবে বাংলাদেশে কতিপয় ‘মোল্লা’ যখন শিল্পকে যৌনতার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলার এবং বাংলাদেশের ভাস্কর্যগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন তখন দেশের মাটিতে কিছু করার ব্যাপারে তিনি সংশয় বোধ করবেন।
সর্বশেষ বিষয়টি হলো সুপ্রিমকোর্টের সামনের ভাস্কর্য সংক্রান্ত। আমি এতে অশোভন কিছু দেখি না। বিশ্বের অনেক আদালতের সামনেই এমন ভাস্কর্য আছে। কেউ এমনকি কট্টরপন্থী মুসলিমরাও তা গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেন না।  এ হলো শিল্পের জন্য ভালোবাসা এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়।
বাংলাদেশে বড় বড় শিল্পী ও ভাস্কর্য পেয়ে আমরা গর্বিত। কিন্তু আমাদের শহরে আমরা তাদের কাজগুলো পাই না।

আমি আমার বাড়ির বাগানের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য একটি নার্সারি থেকে কয়েকটি ভাস্কর্য কিনে এনেছিলাম। কারণ এগুলো আমার কাছে কোনও অশোভন জিনিস নয়, বরং তা শিল্পকর্ম। বসন্তকালীন ফুলের সঙ্গে তা বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে।

কেবল আমিই যে শিল্পের পূজারি তা কিন্তু নয়। অনেক বাড়িঘর ও অফিসেও এ ধরনের সংগ্রহ আমি দেখেছি। কিন্তু সেগুলো বেশিরভাগই চিত্রকর্ম। কিন্তু ভাস্কর্য কেন হবে না?

যে কাজগুলো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে বর্ণনা করে তা করা উচিত। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কৃষক, কারিগর এবং আরও অনেকে আমাদের সুন্দর বাংলাদেশে সৌন্দর্য যুক্ত করতে পারে।

যারা শিল্পকর্মকে যথাযথ দৃষ্টিতে দেখতে পারে না তাদেরকে বলা উচিত যেন তারা শিল্পকে, সৌন্দর্যকে শ্রদ্ধা করে এবং প্রত্যেকটি কাজকে বাড়ি কিংবা বাগানের সঙ্গে যুক্ত করে।

তাদেরকে বুঝতে দেওয়া উচিত যে আমরা ধর্মকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু সব কিছুর সঙ্গে আমাদের ধর্মকে মেলানোর দরকার নেই। এর মধ্য দিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব না। আমাদেরকে দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পকে শ্রদ্ধা করা শিখতে হবে। বিশ্বকে আমাদের মেধা সম্পর্কে জানাতে হবে।

চলুন, শহর সুন্দর করতে আমরা আমাদের শিল্পী ও কারিগরদের ব্যবহার করি। আমরা বিশ্বে চমক লাগিয়ে দেব!

লেখক: সাংবাদিকতায় জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারসোল্ড স্কলার এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা কূটনীতিক বঙ্গবন্ধু পদক’ প্রদান করবেন বৃহস্পতিবার
প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা কূটনীতিক বঙ্গবন্ধু পদক’ প্রদান করবেন বৃহস্পতিবার
সয়াবিনের দামেই রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করছে টিসিবি
সয়াবিনের দামেই রাইস ব্র্যান তেল বিক্রি করছে টিসিবি
ডনেস্কর দিকে রুশবাহিনীর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি ইউক্রেনের
ডনেস্কর দিকে রুশবাহিনীর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি ইউক্রেনের
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ