প্রুফ রিডার ছাড়া লেখার চ্যালেঞ্জ

তানজিমুল নয়ন
১৭ মে ২০১৭, ১৪:১৪আপডেট : ১৭ মে ২০১৭, ১৪:১৫

তানজিমুল নয়ন প্রতিদিন যা পড়ছেন, যেখানেই পড়ছেন, লেখাটা নির্ভুল না হলে প্রচণ্ড অস্বস্তিবোধ করেন পাঠক। সেটা কারও লেখা হলে লেখকের ওপর কিংবা সংবাদ হলে সংবাদপত্রটির ওপরে প্রচণ্ড বিরক্তি জন্মায় তার। ‘এই সাধারণ ভুলগুলোও ঠিক করতে পারে না,’— এমন মন্তব্য তো বটেই, ওই লেখক বা সংবাদপত্রটি সম্পর্কে পরিচিতজনদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা দেন পাঠক। মুখে মুখে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে তা ছড়িয়ে যায় দূর-বহুদূর। তাই যা-ই লিখছি, লেখাটা নির্ভুল হওয়া খুব জরুরি। সংবাদপত্র বা সংবাদমাধ্যমের জন্য তা আরও বেশি জরুরি। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির বিষয়টিও।
আমাদের মূলধারার সংবাদপত্রগুলো পাঠকদের এই সংবেদনশীল আচরণ খুব ভালো করে বোঝে বলেই সংবাদের ‘লাস্ট চেকপোস্ট’ সাব এডিটরদের পরেও সংবাদটির বানান ও ভাষাগত ভুল সংশোধনের জন্য প্রুফ রিডার বা সম্পাদনা সহকারীদের সহযোগিতা নেয়। একঝাঁক প্রুফ রিডার একসঙ্গে বসে একের পর এক আসা সংবাদগুলো নির্ভুল নিখুঁত করে তোলেন।
সময়ের ধারাবাহিকতায় সংবাদপত্রের পর আরও বেশি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে অনলাইন সংবাদপত্র বা নিউজ পোর্টাল। দিনের শেষে নয়, ঘটনা ঘটার পরপরই বস্তুনিষ্ঠ তথ্যে সংবাদ প্রকাশিত হয় অনলাইন গণমাধ্যমে। তাই সংবাদপত্রের স্তর বিন্যাসগুলো এখানে সবসময় মেনে চলা সম্ভব হয় না, মানার উপায়ও নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদের পাশাপাশি ঘটমান বিষয়ের ছবি রিপোর্টারকে যেমন পাঠাতে হয়, তেমনই সংবাদটি যথাযথভাবে সম্পাদনা করার পাশাপাশি বানানের দিকটাও নিখুঁত হলো কিনা তা দেখতে হয় একজন সাব এডিটরকেই। তাই তাকে একইসঙ্গে হতে হয় প্রুফ রিডারও।

নতুন ধারার অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে এখন ইনপুট-আউটপুট বিভক্তি প্রায় উঠেই গেছে।  প্রুফ রিডারও নেই বেশিরভাগ অনলাইন পোর্টালে। যেমন, আমাদের বাংলা ট্রিবিউন। জন্মলগ্ন থেকেই এখানে প্রুফ রিডারের পদটি উধাও। কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই অনড় সিদ্ধান্তে, এখানে তেমন সাব এডিটরই চাই যারা বানানেও হবেন নির্ভুল।

বাংলা ট্রিবিউনে কাজের শুরুতে এটা ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বানানে নিখুঁত, নির্ভুল হওয়া কি চাট্টিখানি কথা? কিন্তু, বাংলা ট্রিবিউনের প্রাণ হচ্ছে তারুণ্যের দলগত উচ্ছ্বাস। একঝাঁক তরুণ কর্মী শুরু থেকেই মাতিয়ে রেখেছিল অফিস, তাদের যেমন শেখার আগ্রহ, তেমনই তাদের বাধাকে অতিক্রমের চ্যালেঞ্জ। অভিধান ছিল সার্বক্ষণিক সঙ্গী। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব ক্ষেত্রেই বাংলা একাডেমির বানানরীতি অনুসরণের সিদ্ধান্তের কারণে অভিধানই ছিল গাইডবুক। অভিধান এখনও দেখতে হয়, তবে আগে যেমন প্রায় সময়ে দেখতে হতো, সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেক।

তিন বছর পার হয়ে গেলো, বাংলা ট্রিবিউন এখন কোন অবস্থানে সেটা বিবেচনা করবেন পাঠক। তবে এখনও এখানে সাব এডিটরদের প্রতিটি দিন প্রতিটি মুহূর্ত কাটে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি নির্ভুলভাবে তা উপস্থাপনের এই চ্যালেঞ্জ আসলে কোনোদিনই শেষ হওয়ার নয়। নির্ভুল সঠিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের এমন একটি স্বাদ এনে দিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন, যে একটি শব্দ বা বানান ভুল থাকলেও তারা ফেসবুকের সাহায্যে কিংবা ফোন করে বা মেইল করে ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দেন। দ্রুতই তা সংশোধন হয় ঠিকই। কিন্তু পাঠকরা জানেন না, প্রতিটি সংবাদেই একেকটি ভুলের জন্য শুধু তিরস্কারই নয়, জরিমানাও গুনতে হয় সাব এডিটরদের। আর এর সবই করা হয় সংবাদকে নির্ভুল করার স্বার্থে।

লেখক : যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, বাংলা ট্রিবিউন

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বশেষসর্বাধিক