X
বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ১৬:৩২

মো. জাকির হোসেন আজকাল পত্রিকা খুলতে গুম, খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি এসব নিয়ে ভয় পাই না। পৃথিবীর এমন কোনও দেশ নেই যেখানে এসব অপরাধ হয় না। সংখ্যায় কম আর বেশি, এই যা। ভয় পাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কুকর্মের খবর বয়ে নিয়ে এসেছে পত্রিকা। আবারও লজ্জায় কতখানি ডুবতে হবে কয়েকজনের অপরাধের জন্য। এ শঙ্কার মাঝেই খবরের শিরোনাম হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টু রেজিস্ট্রার’ না লেখায় শিক্ষকের পদোন্নতি স্থগিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন জ্ঞান সৃজনের সক্ষমতা নিয়ে বেশ বিতর্ক থাকলেও অন্যায় ও অপরাধের নিত্য-নতুন কৌশলে বেশ পারঙ্গম হয়ে উঠছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী এম আনিছুল ইসলামকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতি পেয়ে জনাব ইসলাম গত ১ মার্চ সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। তখন থেকে তিনি সহকারী অধ্যাপকের স্কেলে বেতন-ভাতাদি পেয়ে আসছেন।

সম্প্রতি পাসপোর্ট করার সময় আনিছুল ইসলামকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অনাপত্তিপত্রও (এনওসি) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এরমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি পক্ষ আনিছুলের আগের কর্মস্থল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সনদ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমা দেওয়া হয়নি বলে রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ তোলেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুন সিন্ডিকেটের ৮০তম সভায় আনিছুল ইসলামের বিষয়টি উত্থাপন করা হয় এবং তার পদোন্নতি স্থগিত করা হয়। পদোন্নতির চার মাস পর ওই পদোন্নতি স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি এবং ওয়েবসাইটে তাঁর পদ সহকারী অধ্যাপকের পরিবর্তে প্রভাষক উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে ৮০তম সিন্ডিকেট সভায় আনিছুল ইসলামের পদোন্নতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়, সেই সভা অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি ও ওয়েবসাইটে কাজী এম আনিছুল ইসলামের পদবি পরিবর্তন করে প্রভাষক লেখা হয়। সিন্ডিকেট সভার এক সপ্তাহ আগেই পদ পরিবর্তন করে ডায়েরি প্রকাশ ও ওয়েবসাইটের তথ্য পরিবর্তনে এটা সুস্পষ্ট যে অভিজ্ঞতা সনদ জমাদানের প্রক্রিয়াগত ত্রুটিই মুখ্য বিষয় নয়। ‘ডালমে কুচ কালা হ্যায়’। দলাদলি, পক্ষ-বিপক্ষের প্রতিহিংসা কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হয়ে থাকতে পারেন আনিছুল ইসলাম।

তথ্য-উপাত্তে জানা যায়, কাজী এম আনিছুল ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির বিজ্ঞাপনে সাধারণত উল্লেখ থাকে চাকরিরত প্রার্থীদের যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। যথাযথ চ্যানেল বলতে বোঝায় কর্মরত প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করে কিংবা সেই প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তি সহকারে আবেদন করতে হবে। অনুমান করা যায়, আনিছুল ইসলাম স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপনে যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন আবশ্যকীয় শর্ত থাকলে এবং আনিছুল ইসলাম সেই শর্ত পূরণ না করে থাকলে তার আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন চাকরি প্রার্থীর আবেদন একাধিক বিভাগে/দফতরে বারবার যাচাই-বাছাই করা হয়। আনিছুল ইসলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চাকরির আবেদনের বিষয়ে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে যে অবহিত করেছেন তার একটা প্রমাণ মেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের সময় আনিছুল ইসলাম ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সনদ জমা দিয়েছেন। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক আনিছুল ইসলামকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সনদ প্রদান যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদনের কথাই বলে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরী একটি জাতীয় দৈনিককে এই বিষয়ে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেখানেও এর প্রমাণ মেলে। তিনি বলেছেন, আনিছুল ইসলাম স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেছেন, এটা সত্যি। তার অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।

তাহলে সমস্যা কোথায়? কাজী আনিছুলের আবেদনে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। কী ত্রুটি ছিল? আনিছুল ইসলামের বক্তব্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলছেন, অভিজ্ঞতা সনদে লেখা আছে “টু হুম ইট মে কনসার্ন”। এর সাথে “টু রেজিস্ট্রার” কেন লেখা হয়নি। এটা তাঁদের আপত্তির জায়গা। যদি আনিছুল ইসলামের বক্তব্য সত্যি হয়, তাহলে আপত্তির জায়গাটি সঠিক নয়। “টু হুম ইট মে কনসার্ন” বা “যাহার জন্য প্রযোজ্য” সনদ কোনও কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে না লিখে সাধারণভাবে লেখা হয় যাতে এই সনদ দেশে-বিদেশে, অ্যাকাডেমিক, নন-অ্যাকাডেমিক যেকোনও প্রতিষ্ঠানে আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। কেননা, এরূপ সনদের জন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার যাওয়া সমীচীন নয়। এটি সময়ের অপচয় ও বিরক্তির কারণও হয় অনেক সময়।

আবার “টু রেজিস্ট্রার” বলতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যদি এটি বুঝিয়ে থাকেন যে আনিছুল ইসলামের সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তার অভিজ্ঞতার সনদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠাবেন, এটিও সাধারণ প্র্যাকটিস নয়। কারণ, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মধ্যে অফিসিয়াল যোগাযোগ হলেই কেবল তারা অফিসিয়াল পত্র প্রেরণ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত চাহিদা মতো প্রেরণ করে থাকেন। কোনও একজন সাধারণ শিক্ষকের কথায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পত্রাদি প্রেরণ করেন না। সাধারণ প্র্যাকটিস হচ্ছে কোনও চাকরি প্রার্থী তার আবেদনে অভিজ্ঞতার সনদ বা অন্য কোনও সনদ যুক্ত করে থাকেন। এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাবেক প্রতিষ্ঠানে তার সত্যতা যাচাই করতে পাঠান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তা না করে আবেদনে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির অজুহাতে আনিছুল ইসলামের পদোন্নতি স্থগিতের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সঠিক নয়, বরং এটি বিদ্বেষমূলক বলে অনুমান করার যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।

আনিছুল ইসলামের চাকরির আবেদনে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে কেন তা গ্রহণ করা হলো? কেন সেই আবেদনের ভিত্তিতে তাকে চাকরি দেওয়া হলো? আবেদনের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও ত্রুটি দূর করার আগেই কেন তাকে পদোন্নতি দেওয়া হলো? যাদের অবহেলার কারণে ত্রুটিযুক্ত আবেদনপত্র পদোন্নতির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে তাদের কি শাস্তি দেওয়া হয়েছে? পদোন্নতি দেওয়ার পর আবেদনের ত্রুটি আবিষ্কার ও পদোন্নতি স্থগিত আইনের প্রতিষ্ঠিত বিধান লঙ্ঘন ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা মূলত ব্রিটিশ কমন ল’র ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেছে। কমন ল’-ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থায় এটি বারবার উচ্চারিত হয়েছে যে, প্রক্রিয়াগত ত্রুটির প্রতি অতি অনমনীয় হয়ে অন্যায়ভাবে কোনও ব্যক্তিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। শত বছর আগে Cropper v. Smith মামলায় লর্ড জাস্টিস Bowen ঘোষণা করেছেন, ‘It is a well-established principle that the object of the courts is to decide the rights of the parties and not to punish them for the mistakes they make in the conduct of their case… লর্ড জাস্টিস আরও বলেন, ‘I know of no kind of error or mistake which, if not fraudulent or intended to overreach, the court ought not to correct, if it can be done without injustice to the other party’.

Maneka Gandhi v. Union of India মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি Mirza Hameedullah Beg বলেছেন, ‘When an administrative action involving any deprivation of or restriction on fundamental rights is taken, the authorities must see that justice is not only done but manifestly appears to be done as well’. Siemens Engg. and Mfg. Co. of India Ltd. v. Union of India মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, যখন কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রায় বিচারিক (quasi-judicial) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা অবশ্যই অকাট্য, সুস্পষ্ট ও সংহত হতে হবে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিমত ব্যক্ত করেন, ‘Reasons in support of decisions must be cogent, clear and succinct. A pretence of reasons or “rubber-stamp reasons” is not to be equated with a valid decision-making process’. ব্রুনাই সুপ্রিমকোর্টের Rules এ প্রক্রিয়াগত ত্রুটির বিষয়ে উল্লেখ আছে, ‘…..a failure to comply with the requirements of these Rules, whether in respect of time, place, manner, form or content or in any other respect, the failure shall be treated as an irregularity and shall not nullify the proceedings, any step taken in the proceedings, or any document judgment or order therein’. (Order 2, Rule 1)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পদোন্নতি স্থগিত করার আগে যদি আনিছুল ইমলামকে আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বক্তব্য শুনানির সুযোগ না দিয়ে থাকেন তবে এই পদোন্নতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের (Natural Justice) নীতির লঙ্ঘন। কেননা, Natural Justice-এর বিধান হলো audi alteram partem তথা কোন ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে তাকে কোনও শাস্তি দেওয়া কিংবা কোনও অধিকার/সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

Dr. Avneesh Kumar And Others vs Director, Indian Veterinary মামলায় Avneesh কে টি-৫ গ্রেড থেকে টি-৬ গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তিনি ওই গ্রেডে যোগদান করে এক মাস চাকরি করার পর তার পদোন্নতি স্থগিত করে আবার টি-৫ গ্রেডে ফেরত আনা হয়।  Avneesh এই প্রশাসনিক আদেশ চ্যালেঞ্জ করলে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ‘…we find that the impugned order suffers from violation of rules of audi alteram partem, unreasonableness and irrationality.’ Bhagwan Shukla v. Union of India মামলায় আবেদনকারীকে পদোন্নতি দিয়ে তার বেতন নির্ধারণ করার পর প্রশাসনিক আদেশে কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ দেয়া হয়নি। আদালত বলেন, ‘the order was violative of principle of natural justice’. একইভাবে Shrawan Kumar Jha and others v. State of Bihar মামলায় আবেদনকারীকে পদোন্নতি দেওয়ার পর তা শুনানির সুযোগ না দিয়ে বাতিল করা হলে সুপ্রিম কোর্ট বলেন,‘…that if an appointment has been cancelled, then it is incumbent upon the authority passing such an order to give an opportunity to show cause to the person against whom such an order was passed’.

পদোন্নতি নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড কেবল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য ঘটনা নয়। অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা শুনেছি, জেনেছি। যোগ্যতা পূরণ করা সত্ত্বেও পদোন্নতির আবেদন মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রেখে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে প্রতিশোধ স্পৃহায়। তোষামোদকারী জুনিয়রকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়রকে জুনিয়র বানানো হয়েছে। স্বেচ্ছাচারী এসব সিদ্ধান্তে বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে নয়, চিৎকার করে কেঁদেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি নিয়ে কু-তর্কের কয়েক দিন আগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থে ছেলেকে দেড় কোটি টাকার পাজেরো ভিসির’। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী উপাচার্য নিজের ব্যবহারের জন্য একটি জিপ গাড়ি পেয়ে থাকেন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ যোগদানের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে একটি পাজেরো গাড়ি পান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী। তারপরও নিয়ম লঙ্ঘন করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা নিয়ে আরেকটি জিপ গাড়ি কিনেছেন অধ্যাপক রোস্তম আলী। এই গাড়ি উপাচার্য রোস্তম আলী নিজে ব্যবহার করছেন না। সেটা ব্যবহার করছেন রাজশাহীর পৈতৃক বাড়িতে থাকা তার ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

শুধু তাই না, গাড়ির চালকের বেতন এবং জ্বালানি খরচও বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে নেওয়া হচ্ছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি সংবাদ শিরোনাম হলো ‘পাবিপ্রবি প্রক্টরের রোমান্টিক টিকটক ভিডিও ভাইরাল’। সংবাদে প্রকাশ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক হাসিবুর রহমানের টিকটক ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। হাসিবুর রহমান টিকটক ভিডিওতে রোমান্টিক বাংলা সিনেমার গানে এক নারীর সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়েছেন এবং নানা অঙ্গভঙ্গি করছেন।

সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ‘টিকটক প্রক্টর’ নামে ট্রল চলছে। যখন দেশব্যাপী টিকটক, ভিগোর মতো সাইটগুলো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে, সরকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রক্টরের টিকটকে কুরুচিপূর্ণ অভিনয় অনভিপ্রেত হলেও প্রক্টর মোটেও বিব্রত নন। বরং, টিকটকের ভিডিওটি তিনি নিজেই তৈরি ও শেয়ার করেছেন বলে নিশ্চিত করে বলেন, এটি আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এসব নিয়ে নিউজ করার কিছু নেই।

অন্যায়-অপরাধ-অনৈতিকতায় কলুষিত সমাজের মানুষও শিক্ষককে আদর্শবান হিসেবেই দেখতে চান। শিক্ষকের কাজ শুধু শিক্ষার্থীকে পুঁথিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা নয়, বরং সঠিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে মানুষের ভেতর সত্যিকারের মানুষ সৃজন করা। অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও নৈতিক সমাজ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা তাই অনস্বীকার্য। শিক্ষকরা নিজেরাই যদি প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ, বিদ্বেষ, দুর্নীতি, কু-তর্ক আর কুরুচিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার শিক্ষা তারা কীভাবে দেবেন? বিদ্বেষ, দুর্নীতি ও অনৈতিকতায় বিষাক্ত যে হৃদয়, হিংসার অনল জ্বলছে যে মনে, সে হৃদয় কলুষিত। কলুষিত হৃদয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনুষ্যত্বের, সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা দেওয়া যায় কী? কথায় আছে, ‘দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য’। আমরা কী পরিত্যাজ্যদের দলভুক্ত হবো?

লেখক: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: [email protected]

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সচিব হলেন তিন কর্মকর্তা
সচিব হলেন তিন কর্মকর্তা
যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে সেতু
যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে সেতু
বার্সেলোনা জানিয়ে দিলো, ডি ইয়ং ‘বিক্রির জন্য নয়’
বার্সেলোনা জানিয়ে দিলো, ডি ইয়ং ‘বিক্রির জন্য নয়’
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ