সংযোগ ও সহযোগিতা: ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশ

তারিক কারিম
০৮ মে ২০২৩, ১৯:২৩আপডেট : ০৮ মে ২০২৩, ১৯:২৩

আমাদের পৃথিবীর ৭১ ভাগই সমুদ্রের পানি। আমরা এমন একটি গ্রহে বাস করি যার নাম ‘প্ল্যানেট ওশেনিয়া’ও হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তৃতীয় বৃহত্তম ভারত মহাসাগরকে ‘গ্রেট মিডেল বে’ বলা হয়। বঙ্গোপসাগর হলো বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগর, যার আয়তন ২ দশমিক ১৭ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার। এটিকে ভারত মহাসাগরের মধ্যে ‘কেন্দ্রীয় উপসাগর’ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ভারত মহাসাগর: বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। উল্লেখযোগ্যভাবে বৈশ্বিক সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি ভারত মহাসাগর দিয়ে হয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ইউরোপের সঙ্গে চীনের ৯৫ শতাংশ বাণিজ্যও ভারত মহাসাগরে দিয়ে হয়ে থাকে, যেখানে ভারতের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্য ৭০ শতাংশের বেশি হয়ে থাকে এই সাগর দিয়ে। মৎস্য ও খনিজসহ নবায়ন-অযোগ্য জ্বালানি এবং অ-নবায়নযোগ্য সম্পদও রয়েছে ভারত মহাসাগরে।

বৈশ্বিক পূর্ব-পশ্চিম-পূর্ব বাণিজ্যের একটি মূল পথ তৈরি করে উত্তর ভারত মহাসাগর। অশোধিত তেলের উৎপাদন থেকে ভোক্তা দেশ পর্যন্ত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআর) এবং অন্যান্য মহাসাগরীয় অঞ্চলে (গেটওয়ে/চেকপয়েন্টের মাধ্যমে) অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ বজায় রাখার জন্য সব শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; তাই কৌশলগত প্রতিযোগিতা সক্রিয় প্রতিযোগিতায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা একটি অন্তর্নিহিত বিপদ, যা সবাইকে এড়াতে হবে।

ভারত মহাসাগরে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এবং ক্ষমতার ভারসাম্য

আইওআর-এর কারণে বঙ্গোপসাগর দিয়ে পূর্ব এবং পশ্চিম গোলার্ধের মধ্যে বাণিজ্যিক শিপিং রুটের জন্য একটি অর্থনৈতিক মহাসড়ক হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব ফিরে পেয়েছে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কন্টেইনার এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করে, এর বন্দরগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৩৩ শতাংশ পরিচালনা করে।

আইওআর দেশগুলো বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত তেলের ৫৮ শতাংশ এবং গ্যাসের ৪৬ শতাংশ মজুতের অধিকারী। মিয়ানমারের গভীর সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্রের জন্য ভারত ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতার মূলে এই খনিজসম্পদ। উত্তর ভারত মহাসাগর বিশ্বব্যাপী পূর্ব-পশ্চিম-পূর্ব বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ। আইওআর থেকে অন্যান্য সামুদ্রিক অঞ্চলে তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা বড়, মধ্য এবং ছোট শক্তির দেশগুলোর জন্য অত্যাবশ্যক। কৌশলগত প্রতিযোগিতা সক্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, যা এড়ানো উচিত।

কিয়াউকফিউ (মিয়ানমারের আরাকান উপকূলে সিত্তওয়ের দক্ষিণে) চীন দ্বারা নির্মাণাধীন। এটি চীনকে বঙ্গোপসাগরে এবং এর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে।


ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলকে যুক্ত করছে বঙ্গোপসাগরীয় বন্দরগুলো

বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশি দৃষ্টিভঙ্গির নির্মাণ

অবিভক্ত বৃহত্তর ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলার ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে এই অঞ্চল সম্পর্কে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র উপলব্ধি উদ্ভূত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের তীরে কৌশলগত অবস্থানের কারণে পশ্চিম ও পূর্ব গোলার্ধের পাশাপাশি ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোর মধ্যে সংযোগকেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশেষ সুবিধা দেয়।

আমাদের মহাসাগরীয় পৃথিবীর ভূ-কৌশলগত কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশ
১৭ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক তরুণ, এই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেয়, যা কার্যকরভাবে কাজে লাগাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অপর দেশগুলোর তুলনায় ভালো দক্ষতা দেখিয়ে বাংলাদেশ মধ্যম এইচডিআই (মানব উন্নয়ন সূচক) দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউএনডিপির এইচডিআই তালিকায় ১৯১টি দেশের মধ্যে ১২৯ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে ভারত ১৩১, পাকিস্তান ১৬১ এবং আফগানিস্তান ১৮০ নম্বরে রয়েছে। বাংলাদেশের কৌশলগত মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে দেশটির কয়লা, তেল এবং গ্যাসসহ হাইড্রোকার্বন সম্পদের জন্য। এগুলোর উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈশ্বিক ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বাংলাদেশ অশান্ত পদ্মা (গঙ্গা) নদীর ওপর প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন করেছে, এক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। গত এক দশকে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সন্ত্রাস ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, দেশের উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ঔপনিবেশিক আমলে বঙ্গোপসাগরে বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব

২০ শতকের গোড়ার দিকে আরব উপদ্বীপ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সমৃদ্ধ হাইড্রোকার্বন মজুতের আবিষ্কার যেমন ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তেমনি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য হাইড্রোকার্বন মজুতের সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো নজর কেড়েছে একবিংশ শতাব্দীর নব্য-সুপার ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর। ফলে এর কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে।

পূর্বদিকে দৃষ্টি স্থানান্তরিত করার কারণগুলোর মধ্যে আছে: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন থেকে তাৎক্ষণিক প্রেরণা, গভীর সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণে সক্ষমতা অর্জন; পারস্য উপসাগর/মধ্য-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক বিকাশের অস্থিরতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার অবনতি; পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের (আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, সিরিয়া এবং লেভান্ত) আর্থ-সামাজিক পরিবেশের অব্যাহত বিশৃঙ্খলা এবং বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে চীন ও ভারতের উত্থান।

আঞ্চলিক সহযোগিতার রক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ: উপসাগরীয় সম্প্রদায়ের বোধ জাগ্রত করছে?

বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে, দূরদৃষ্টি ও সাহসী উদ্যোগ নিয়ে। ১৯৮৫ সালে সার্ক গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল বাংলাদেশ এবং পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে সাউথ এশিয়া গ্রোথ কুয়াড্রেঙ্গেল (এসএজিকিউ) এবং মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন ফর বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ (বিমসটেক)-এর ফলে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার সূচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে ২০১৫ সালে এসএজিকিউ বিবিআইএন নামে পরিচিতি পায়; যা সংযোগ পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।

ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ উদ্যোগ বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নতি ঘটাচ্ছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং রোহিঙ্গা সংকট এই প্রকল্পগুলোতে মারাত্মক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, অগ্রগতি স্থগিত করেছে। মিয়ানমারে অব্যাহত অস্থিতিশীলতা সার্কের মতো বিমসটেকের ভবিষ্যৎকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সহায়তায় কলকাতা-আগরতলা রেল রুট চালু হয়েছে। পাশাপাশি এর ফলে অভ্যন্তরীণ নদীপথকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। সম্প্রসারণের জন্য বিমসটেকের অধীনে উপকূলীয় নৌপরিবহন এবং সামুদ্রিক চুক্তি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে আকাশ করিডোরগুলোর উন্নতি প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্জন করা অগ্রগতি বিবেচনা করে বে অব বেঙ্গল ইকোনমিক কোঅপারেশন ফ্রেমওয়ার্ককে ব্যবহারের জন্য বর্তমান সহযোগিতার সম্প্রসারণ একটি সম্ভাবনা হতে পারে। অধিকন্তু, বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে এবং বিবিআইএন ও বিমসটেকের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন সংযোগ পুনরুদ্ধারে অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। যাই হোক, নিরবচ্ছিন্ন আঞ্চলিক সংযোগ এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতাসহ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।

উপরে বর্ণিত এসব উন্নয়নগুলো বিবেচনা করে এবং দেড় দশক আগে যা ছিল না বরং অকল্পনীয় ছিল, সেটির বিরুদ্ধে গিয়ে বর্তমান সহযোগিতাকে আরও বৃহৎ আঞ্চলিক দিগন্তে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করার সাহস কি আমরা দেখাতে পারি? যাতে বে অব বেঙ্গল ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিওবিইসি) আঞ্চলিক ফ্রেমওয়ার্কে পরিণত করা যাবে।

নব্য- সুপার উপনিবেশবাদের যুগে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথে

ওয়েস্টফেলীয় ধারায় ইউরোপীয় শক্তিগুলোর বাড়তে থাকা উপনিবেশবাদের চর্চা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমাপ্ত হয়। এ সময় নতুন পরাশক্তির জন্ম হতে থাকে এবং নব্য-সুপার উপনিবেশবাদের যাত্রা শুরু হয়। বৈশ্বিক পরাশক্তিধর দেশগুলোর আধিপত্যে টিকে থাকার জন্য এ সময় কম শক্তিধর দেশগুলোকে কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ (বিভক্ত করে শাসন করা)-এর মতোই নব্য-সুপার উপনিবেশবাদীরা বিভিন্ন দেশকে বিভক্ত করে বৈশ্বিক ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২২টি দেশের মধ্যে সহযোগিতা বর্ধিত করতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে ভারত মহাসাগরীয় জোট (আইওআরএ)। এদিকে ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক ক্ষমতার রদবদলের কারণে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের সহযোগিতা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

ভারত মহাসাগরের অবিচ্ছেদ্য অংশ বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ১৭০ কোটি মানুষের বসবাস এবং অঞ্চলটির জিডিপির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অঞ্চলটির দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক ও আসিয়ান যেকোনও ধরনের বিরোধ থেকে মুক্ত। সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্ক যেমন সাফল্য দেখিয়েছে, তা অনুসরণ করতে পারে আইওআরএ। সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল একটি নতুন ধরনের ‘সম্প্রদায়’ সৃষ্টি করেছে।

বঙ্গোপসাগরীয় সম্প্রদায়ের সম্ভাব্য রাজনৈতিক অর্থনীতি

প্রায় ১৭০ কোটি জনসংখ্যার বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর জিডিপি প্রায় ৭ হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অঞ্চলটির একটি শক্তিশালী বঙ্গোপসাগরীয় সম্প্রদায় হওয়ার বহুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধমুক্ত সামুদ্রিক পরিবেশ ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে বহুল পরিচিত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি আইওআরএ সদস্য। অঞ্চলটিতে আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টায় রয়েছে বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলো। এ উদ্দেশ্যেই অঞ্চলটিতে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (আইপিইএফ) প্রকল্প হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ, ডেড জোন, ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের মতো পরিবেশগত হুমকি মোকাবিলা এবং এই অঞ্চলের সম্মিলিত কল্যাণের জন্য একটি টেকসই ‘নীল অর্থনীতি’ নিশ্চিত করতে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বে অব বেঙ্গল ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিওবিইসিএ) রূপান্তরিত হতে পারে বে অব বেঙ্গল ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যাসোসিয়েশন (বিওবিসিএ)-এ। এর মাধ্যমে সীমাহীন সমৃদ্ধির সুযোগ উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃহত্তর বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় আরও সক্রিয় হতে পারে বাংলাদেশ। এছাড়া সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ বহুপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রসারে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে বাংলাদেশ। এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারলে তা বাংলাদেশের নিজ স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সম্মিলিত আঞ্চলিক স্বার্থে অবদান রাখবে এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। বঙ্গোপসাগরের বহুজাতিক সত্তার এমন একটি আঞ্চলিক শাসন কাঠামো অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর একটি সমন্বিত সম্প্রদায় গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন সম্প্রদায় গঠিত হলে দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে। তাদের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এবং আঞ্চলিক শাসন কাঠামো অনুসরণ করে সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার পথে এগোতে পারে অঞ্চলটি।

বি.দ্র: লেখাটি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজে দেওয়া পাবলিক লেকচারের আলোকে তৈরি করা হয়েছে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত। পরিচালক,  সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

 

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বশেষসর্বাধিক