আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন— বছরে একটি বিশেষ দিন পালনের আদৌ কোনও যৌক্তিকতা আছে কিনা? অথবা সারা বছরের প্রতিটি মুহূর্ত যেখানে নারীকে বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়তে হয়, সেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টা কীভাবে ‘নারী দিবস’ হয়? বর্তমান পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থায় নারী দিবস যেন একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। বেগুনি শাড়ি, কেনাকাটায় বিশেষ অফার আর প্রসাধন কোম্পানিগুলোর গায়ের রঙ সাদা করা বা চুল সোজা করার বিজ্ঞাপনী জাঁকজমকে ঢাকা পড়ে যায় দিবসের মূল চেতনা।
অথচ ঐতিহাসিকভাবে নারীকে ফর্সা বানানোর ভাবনা থেকে বা পিতৃতন্ত্রের সংজ্ঞামাফিক সুনিপুন স্ত্রী বা মা’র ভূমিকা প্রচারের জন্য নারী দিবসের সূচনা হয়নি। নারী দিবসের সূচনা হয়েছিল নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ১৯০৮ সালে আমেরিকায় কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধ এবং ভোটাধিকারের দাবিতে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে জার্মান কমিউনিস্ট নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাবে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে একে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। তাই এটি কেবল ২৪ ঘন্টার একটি দিবস নয়, বরং প্রতিটি মুহূর্তের সব জাতিগোষ্ঠীর নারীর লড়াই ও ত্যাগের এক অনন্ত উদযাপন।
প্রতিবছর লক্ষাধিক নারী ও কন্যাশিশুর বঞ্চনার বিনিময়ে রচিত হচ্ছে নতুন ইতিহাস। এই লড়াই শুরু হয় মায়ের ভ্রূণ থেকে। জাতিসংঘের পপুলেশন ফান্ডের (২০১৯) রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে ১৪ কোটির বেশি কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যার প্রধান কারণ ভ্রূণ হত্যা। শুধুমাত্র সন্তানটি কন্যা বলে তাকে মা’র গর্ভাবস্থায় হত্যা করা হচ্ছে। জন্ম নিলেও তাকে মুখোমুখি হতে হয় উত্তরাধিকার বঞ্চিত ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামোর— পুত্র না হবার বঞ্চনা। বেশিরভাগ ধর্মানুসারে কন্যাসন্তান বংশধারা বহন করেনা, সামাজিক ধারণায় কন্যা সন্তান পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়না। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সম্পদের উত্তরাধিকার হয় না। বিশ্বজুড়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রায় সব কাঠামোতে নারীর অধিকার খর্ব করা হয়— তার মর্যাদা সুরক্ষিত থাকেনা এবং ইচ্ছার মূল্য দেওয়া হয়না।
যে দেশগুলো বুঝেছে অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে সভ্যতার উন্নয়ন সম্ভব নয়, তারা নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে। তারা চেষ্টা করছে শিক্ষার সমান সুযোগ তৈরি করতে, সমাজের সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, শ্রম বিভাজনে নারী পুরুষের প্রথাগত ধারণাকে ভাঙতে। এসব দেশ নারী পুরুষের শারিরিক ভিন্নতাকে, শক্তির মাপকাঠি মনে করার পুরোনো ধারণাকে বর্জন করছে। আর তাই সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী কিংবা খেলার মাঠ— সর্বত্র নারী আজ সফল। নারী তার নৈপুণ্য দেখাচ্ছে, বিজ্ঞানে, সাহিত্যে, সমাজ বিশ্লেষনে, সাংবাদিকতায়, সাংস্কৃতিক ময়দানে। তবে এই পথ মসৃণ ছিল না— যুগে যুগে নারীকে তার ন্যায্য অধিকার অর্জন করতে হয়েছে। উদাহারনস্বরুপ— নোবেলজয়ী মেরি কুড়ির বঞ্চনার কথা বলা যায়, মেরি কুড়ি বিশ্বের একমাত্র ব্যাক্তি যিনি পদার্থ ( ১৯০৩) ও রসায়ন (১৯১১) দুটি ভিন্ন শাখায় নোবেল পেয়েছেন। অথচ তার নাম প্রস্তাবিত হওয়া সত্বেও ১৯০৩ সালে তার সহযোগীদের নাম প্রচার হলেও তিনি নারী বলে তার নাম নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়নি। ১১৯১১ সালে তিনি ফ্রেঞ্চ একাডেমি অব সায়েন্সেস (French Academy of Sciences)-এর সদস্যপদ পাননি নারী হওয়ার কারণে। এমনকি ফরাসি সংবাদপত্রগুলিতে তার ব্যাক্তিগত জীবন, সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরণের নেতিবাচক লেখালেখি হতো সেসময়।
মূলত পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হয়েছে নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রন, পরিচালনা এসব আচরণে নারীর অভিগম্যতা বা অংশগ্রহণ তত কমেছে। পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীকে ‘সেকেন্ড সেক্স’ হিসেবে দেখার মানসিকতা আজও প্রবল। সিমন দ্য ব্যুভোয়ার যেভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন— নারীকে অদৃশ্য ও বোবা রাখার প্রক্রিয়াটি আজও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে জারি রাখা হয়েছে। তাই পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সব কাঠামো সর্বক্ষেত্রে নারীকে নির্যাতন করার জন্য, নিপীড়ন করার জন্য, দমিয়ে রাখার জন্য তৈরি করে— সামাজিক প্রথা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আইনি ব্যবস্থা। এ বছর আন্তর্জাাতিক নারী দিবসের মুল আলোচ্য তাই ‘নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার, ন্যায্যবিচার এবং প্রায়োগিক বাস্তবতা’।
ইউএন ওম্যান-এর মতে, বিশ্বজুড়ে আইনি অধিকারের মাত্র ৬৪ শতাংশ নারী ব্যবহার করতে পারছেন। নারীর জন্য জীবনের সর্বক্ষেত্রে আইনি কাঠামো দ্বারা সুরক্ষিত হবার এই হারকে তারা আশঙ্কাজনক মনে করছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আরও উদ্বেগজনক। বিবিএস ও ইউএনএফপিএ’র ২০২৪ সালের সার্ভে অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ নারী নিজ সঙ্গী দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৬৪ শতাংশই বিষয়টি গোপন রেখেছেন। সার্ভে হবার আগের বছরে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন মাত্র ৭ শতাংশ (শুধুমাত্র স্বামী বা সঙ্গী দ্বারা নির্যাতনের ঘটনায়)। স্বামী বা সঙ্গী ছাড়া অন্য কারও দ্বারা নির্যাতনের ঘটনার শিকার নারীদের মাত্র ১৩ শতাংশ আইনি ব্যবস্থার শরণাপন্ন হয়েছেন। ২০১৫ সালের আরেক জরিপে দেখা যায়, ১ দশমিক ১ শতাংশ নারী পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য গিয়েছিল। অন্যদিকে, বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নারী ও শিশুদের আইনি লড়াইয়ে নিরুৎসাহিত করছে। ইউএন ওম্যান বলছে, বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান গতিতে আইনি প্রক্রিয়া চললে পূর্ণ বিচার পেতে ২৮৬ বছর সময় লাগবে— যাকে ন্যায়বিচার নয়, বরং ‘আত্মসমর্পণ’ বলাই শ্রেয়। এদেশে সামাজিক বিধি-নিষেধের পাশাপাশি বৈষম্যমুলক আইন, পুরুষ নিয়ন্ত্রিত ও আধিপত্যশীল বিচারিক ব্যবস্থা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসুত্রিতা নারীদের আইনের দ্বারস্থ হতে নিরুৎসাহিত করে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, গত এক বছরে ২ হাজার ৮০৮ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮৬ জনই ধর্ষণের শিকার। এর মধ্যে ৫৪৩ জন কন্যাশিশু। মনে রাখতে হবে এই তথ্য শুধু যা প্রকাশিত হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, এরকম অপ্রকাশিত তথ্য থেকে যে সংখ্যা পাওয়া যাবে তা আমাদের জন্য ভয়াবহ আশঙ্কার।
“ধর্ষণ কেন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, তবে কি এর বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনটি অকার্যকর?”—বরাবরই এই প্রশ্নের ধুম্রজালে আমরা আটকা পড়ি। ধর্ষণ আইনটি নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে; বারবার সংস্কার সত্ত্বেও আইনের কোথাও ধর্ষণের একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। বয়সের যে ধারাটি আইনে রয়েছে, তা পরোক্ষভাবে বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করে। ভুক্তভোগীর চরিত্রগত সাক্ষ্য গ্রহণের বিরুদ্ধে আইন থাকা সত্ত্বেও এর অপপ্রয়োগ ও বৈষম্যমূলক চর্চা এখনো বিদ্যমান। শুধু আইন সংশোধন করলেই হবে না, যারা আইন প্রয়োগ করবেন—তাদের সদিচ্ছা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
এ প্রসঙ্গে ২০১৬ সালে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি আলোচনার দাবি রাখে। ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন শিশুটিকে বাড়ি থেকে দূরে পাওয়া যায়। সে সময় তার হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল; মুখে ও চোখে টেপ লাগানো ছিল এবং শিশি দিয়ে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে তার সারা শরীর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ধর্ষণের সময় ব্লেড দিয়ে তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল।
২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর শিশুর বাবা পার্বতীপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(৪)ক/৩০ ধারায় (অপহরণপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা ও সহযোগিতা) মামলা করেন। দায়ী ব্যক্তিকে ঘটনার চার দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় এবং পুলিশ চার মাসের মাথায় চার্জশিট দেয়। তবে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২২ মে এবং শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষ হতে সময় লাগে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত। অর্থাৎ, কেবল নিম্ন আদালতেই সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করতেই চার বছর পেরিয়ে যায়। মামলার রায় হয় ২০২২ সালে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ওই অপরাধী ২০২৪ সালে জামিন পেয়ে যায়! পরবর্তীতে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার ফলে সেই জামিন বাতিল করে অপরাধীকে পুনরায় আটক করা হয়। বর্বরোচিত এই নির্যাতনের ফলে শিশুটির যৌনাঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সে অনবরত শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগে এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড ট্রমার শিকার। এলাকাটির মানুষ এক সময় তাকে ‘চিড়িয়াখানার পশুর’ মতো কৌতুহলী চোখে দেখত, অথচ দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো— ধর্ষক ও নির্যাতিত শিশুটির বাসা ছিল দেয়ালের এপাশ-ওপাশ।
‘আমরাই পারি জোট’ এই মামলাটিতে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকায় যে ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা কেবল বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নয়, বরং এক অমানবিক অভিজ্ঞতার আখ্যান। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী বিচারক না থাকায় বারবার বিচারক পরিবর্তনের ফলে মামলার গতি ব্যাহত হয়। আদালত অনেক তারিখেই সাক্ষ্য গ্রহণ করেননি, যার ফলে মামলাটি চার বছর ধরে কেবল সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়েই আটকে ছিল। সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ২১টি তারিখের মধ্যে আদালত মাত্র ৪টি তারিখে মোট ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পেরেছিলেন; তার ওপর ৩ জন সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার আবেদন মঞ্জুর করায় কালক্ষেপণ আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। এছাড়া ২ জন সাক্ষী বিরূপ (বৈরী) হয়ে যান। শিশুটিকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালত দুইবার তারিখ দিলেও, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও শিশুটি আদালতে হাজির হয়েও সাক্ষ্য দিতে পারেনি।
একটি নৃশংস শিশু ধর্ষণের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে যদি প্রায় ছয় বছর সময় লাগে, তবে সেই বিচার শিশুটির জীবনে আদৌ কোনও স্বস্তি বয়ে আনতে পারে কি? আমাদের দেশে এখনও সাক্ষী সুরক্ষা আইন নেই; ফলে সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার পুরো দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে শিশুটির পরিবারকে। ধর্ষণের ফলে শিশুটি যে অপূরণীয় শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছে, তার কোনও ক্ষতিপূরণ সে পায়নি। উপরন্তু, তাকে জনসমক্ষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হয়েছে এবং জেরার সময় তাকে নানা ধরনের অপমানজনক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
এ দেশে যেকোনও মামলাকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দেওয়া সহজ, কিন্তু দ্রুত বিচার পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ আইনের বিধান অনুযায়ী, ১৮০ দিনের মধ্যেই নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। মনে রাখতে হবে, ‘Justice delayed is justice denied’— অর্থাৎ বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই বিচার অস্বীকার করা। তাই ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোকে অবিলম্বে ‘দ্রুত বিচার আইনের’ আওতায় নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি, নির্যাতনের ঘটনা থেকে বিচার পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সেবাদানকারীদের জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষিত দল। পুলিশ, আদালত, মেডিক্যাল ও ফরেনসিক— প্রতিটি স্তরেই নারী নির্যাতন মোকাবিলায় দক্ষ ও সংবেদনশীল একটি বিশেষ দল গঠন করতে হবে। কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করার সুযোগ নেই। সর্বোপরি, নারী ও শিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধে সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার প্রমাণ দিতে হবে; তবেই এ দেশে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সুনিশ্চিত হবে।
লেখক: সমন্বয়ক, উই ক্যান জোট




