গাজীপুরের কাশিমপুর (নয়াপাড়া) এলাকার মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড কারখানায় সেফটি ডিভাইসের ত্রুটির কারণেই বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মন্তব্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের বয়লার পরিদর্শক হানিফ হোসেনের। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নিয়মানুয়ায়ী এ ধরনের দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্ত করে বয়লার অধিদফতরে প্রতিবেদন দিতে হয়। তাই দুর্ঘটনার পরদিনই (৪ জুলাই) তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বয়লার অধিদফতরের প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কাছে ওই প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে পরিদর্শক হানিফ উল্লেখ করেন,‘বয়লার রক্ষণাবেক্ষণ ম্যানেজার খোকন কুন্ডু তাকে জানিয়েছেন, লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও গত ৩ জুলাই তারা বয়লারটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেন। এ সময় সেফটি ডিভাইসে ত্রুটি দেখা দেয়। তারপরও কিছু মেরামতের পর পুনরায় সেটি চালু করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় বয়লারে বিস্ফোরণে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং কারখানা আংশিক ধসে মেশিনপত্র উড়ে যায়।’
শ্রম মন্ত্রণালয়ের এই বয়লার পরিদর্শক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতি বছর কারখানার বয়লার পরিদর্শন করে লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম রয়েছে। মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড কারখানার বয়লারটি উৎপাদিত হয় ১৯৯৬ সালে। এর লাইসেন্স এক বছর আগে পরিদর্শন ও নবায়নের পর এ বছর ২৪ জুন সেটি নবায়নের সময় শেষ হয়েছে। ৩ জুলাই দুর্ঘটনার আগে কারখানার পক্ষ থেকে বয়লার অধিদফতরে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়। নিয়মানুযায়ী আবেদনের পর কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিদর্শনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। পরিদর্শন শেষে বয়লারটির সক্ষমতা আছে কিনা সেই সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরের বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন তথা বয়লার চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।’
পরিদর্শক হানিফ আরও জানান, সেফটি ডিভাইসটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে বয়লারে অনুমোদিত প্রেসারের চেয়ে বেশি প্রেসার পড়ে এবং ওই বিস্ফোরণ ঘটে। একটি বয়লারে অনুমোদিত প্রেসার হলো ১০ বার।
জেলা প্রশাসনের গঠিত নয় সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সাতটি কারণকে সামনে রেখে তারা তদন্ত কাজ করছেন। এর মধ্যে পাঁচটি হলো কারিগরি, দুটি হলো প্রশাসনিক।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাংলা ট্রিবিউনকে আরও জানান, তাদের তদন্তের দ্বিতীয় দিনে বুধবার (৫ জুলাই) তারা কারখানার ১৪ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এ সময় তারা অপারেটরদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দেখছেন।
কারিগরি ত্রুটি আছে কিনা তা দেখতে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক কামরুজ্জামানকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। তদন্তের জন্য তিনি কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বয়লারের বিভিন্ন পার্টস চেয়েছেন। এর মধ্যে আছে একটি ফিউজিবল প্লাগ, দুটি সেফটি বাল্ব এবং একটি প্রেসার গেজ।
ডুয়েটের যন্ত্র কৌশল বিভাগের এই অধ্যাপক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কারখানার অনেকেই তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুল তথ্য দিচ্ছে। তবে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কারখানার লোকজন বয়লারটির মেইন স্টপ বাল্বটি (ডেলিভারি বাল্ব) বন্ধ রেখে প্রেসার তৈরি করছিল। এক পর্যায়ে প্রেসার মাত্রাতিরিক্ত হওয়ায় বয়লারটি বিস্ফোরণ হয়।
দুর্ঘটনায় গঠিত ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বয়লারের সেফটি ডিভাইস তথা প্রেসার রিলিজ বাল্বটি খুঁজছেন তারা। এটি এবং বয়লারের বিভিন্ন পার্টস পাওয়া গেলে এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনেকাংশে জানা যাবে বলে মনে করেন তিনি।
/জেএইচ/
এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ:
বয়লার বিস্ফোরণে ৬ মাসে ৪৩ জন নিহত
গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩
গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১
গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন








