X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

হিলি-বেনাপোলে নেই ভারতীয় চালকদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা  

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:০৩

করোনা সংক্রমণের মধ্যে দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এরমধ্যে স্থলবন্দরগুলোতে তেমন বাড়তি কোনও সতর্কতা নেওয়া হয়নি। এসব বন্দরে আগের মতো ঢিলেঢালা অবস্থাতে চলছে যাত্রী ও ভারতীয় পণ্যবাহী চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সতর্কতামূলক কার্যক্রম। তবে এখনও হিলি ও বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় চালক ও সহকারীদের করোনা পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে ভারতীয় চালক ও সহকারীদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।  

হিলি প্রতিনিধি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হিলি স্থলবন্দরে এখনও নেওয়া হয়নি বাড়তি সতর্কতা। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার আওতায় আনা হলেও পণ্যবাহী ট্রাক ও চালকদের এ পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ১৮০ থেকে ২০০ পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করে। এর সঙ্গে ৩৫০ থেকে ৪০০ চালক ও সহকারী দেশে প্রবেশ করে। তাদের কোনও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও করোনা টেস্ট করা হচ্ছে না। এদিকে করোনার কারণে ভারত যাত্রী গ্রহণ না করায় হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে ভারত থেকে যাত্রীদের আসা চালু রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ জন যাত্রী দেশে ফিরে আসছেন। যাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও করোনা টেস্ট স্বাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি সেকেন্দার আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ রোধে এখন পর্যন্ত নতুন কোনও নির্দেশনা পাইনি। ভারত যাত্রী গ্রহণ না করায় হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাত্রী বহিগর্মন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে শুধুমাত্র ভারত থেকে যাত্রীরা দেশে ফিরতে পারছেন। সেক্ষেত্রে তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসতে হবে। দেশে প্রবেশের পর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে স্থাপিত মেডিক্যাল টিম দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও করোনা টেস্ট সম্পন্ন করে তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন রোধে নতুন করে বিধিনিষেধ আসেনি। করোনার কারণে যে সব স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম মেনে চলা হচ্ছিলো তেমনটাই পালন করা হচ্ছে। ভারতীয় ট্রাকগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। চালকদের তাপমাত্রা পরিমাপ ও বিশেষ ঝুড়ির মাধ্যমে গাড়িতে থাকা কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। বন্দরের ভেতরে প্রবেশের পর তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাস্ক ছাড়া কেউ যেন বন্দরে প্রবেশ করতে না পারে, সেটি নিশ্চিতে কাজ চলছে।   

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, বন্দর দিয়ে প্রবেশ করা যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও হেলপারের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে আগের মতোই সতর্কতামূলক কার্যক্রম চলছে। তেমন বাড়তি কোনও সতর্কতা নেওয়া হয়নি। এই বন্দরেও ভারতীয় চালকদের করোনা পরীক্ষায় কোনও ব্যবস্থা নেই। 

বেনাপোলে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় চালকের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে বন্দরের আমদানি-রফতানি গেটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্য নিয়ে ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ সময় আনসার সদস্যরা জীবাণুনাশক স্প্রে করে দিচ্ছে। থার্মোমিটার দিয়ে চালক ও হেলপারের তাপমাত্রা পরিমাপ করার কাজ চলছে। পাশাপাশি হ্যান্ডসেনিটাইজার দ্বারা হাত পরিষ্কারের জন্য বলা হচ্ছে। মাস্কবিহীন অবস্থায় কাউকে বন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। 

এছাড়া ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের মাস্ক এবং আরটি-পিসিআর করোনা টেস্ট ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। হেলথ অফিসার কর্তৃক ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ঘোষণা হলেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। 

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নোংরা হাত দিয়ে নাক, কান ও মুখমণ্ডল স্পর্শ না করা, আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে সতর্কীকরণ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবির তরফদার জানান, বিশ্বে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। সে জন্য বেনাপোল বন্দরকে সার্বিক সুরক্ষার লক্ষ্যে ভারতীয় ট্রাক চালক ও হেলপারদের মাস্ক ছাড়া বন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর একবার বন্দর অভ্যন্তরে ঢুকলে মালামাল খালাস না হওয়া পর্যন্ত বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। বন্দরের প্রবেশ দ্বারে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাপমাত্রা বেশি থাকলে বন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, ভারত থেকে আসা প্রত্যেক যাত্রীকে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানিং করা হচ্ছে। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরপর আরটি-পিসিআর সনদ পরীক্ষা করে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

/টিটি/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
কৃষিতে ডাচ প্রযুক্তি চায় বেসরকারি খাত
কৃষিতে ডাচ প্রযুক্তি চায় বেসরকারি খাত
বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে গিয়ে ধরা খেলেন রোহিঙ্গা তরুণী
বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে গিয়ে ধরা খেলেন রোহিঙ্গা তরুণী
বরখাস্ত মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র 
বরখাস্ত মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র 
বিস্ফোরণে ঝলসে গেলো ২ শিশুর চোখ
বিস্ফোরণে ঝলসে গেলো ২ শিশুর চোখ
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বাজারে কাঁচা লিচু, খেলে মৃত্যুও হতে পারে
বাজারে কাঁচা লিচু, খেলে মৃত্যুও হতে পারে
হত্যার ১৩ বছর পর ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
হত্যার ১৩ বছর পর ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
বেনাপোলে পিস্তলসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার
বেনাপোলে পিস্তলসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার
বিলীনের পথে ইউনিয়নের একমাত্র স্কুল অ্যান্ড কলেজটি
বিলীনের পথে ইউনিয়নের একমাত্র স্কুল অ্যান্ড কলেজটি
বাদাম বিক্রেতা সেজে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার
বাদাম বিক্রেতা সেজে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতার